উপবৃত্তির টাকা যেত শিক্ষকের স্বামীর মোবাইলে, জানতো না শিক্ষার্থী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা তার পরিবারের পরিবর্তে শ্রেণিশিক্ষকের স্বামীর মোবাইল নম্বরে ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষকের স্বামীর পক্ষ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি টাকার বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঘটনাটি সামনে আসে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলার রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরশ মিয়া ২০২৪ সালে উপবৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, উপবৃত্তির আবেদন করার সময় তার পরিবারের কোনো সদস্যের মোবাইল নম্বর ব্যবহার না করে তৎকালীন শ্রেণিশিক্ষক আয়েশা আক্তার তার স্বামী ইব্রাহিম খলিলের মোবাইল নম্বর যুক্ত করেন। এরপর থেকে ছয় মাস পরপর উপবৃত্তির টাকা ওই নম্বরের ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে জমা হতে থাকে। আড়াই বছরে সেখানে মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা জমা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী পরশের অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে কথা বলতে তার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা তার পরিবারের পরিবর্তে শ্রেণিশিক্ষকের স্বামীর মোবাইল নম্বরে ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষকের স্বামীর পক্ষ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি টাকার বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঘটনাটি সামনে আসে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলার রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরশ মিয়া ২০২৪ সালে উপবৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, উপবৃত্তির আবেদন করার সময় তার পরিবারের কোনো সদস্যের মোবাইল নম্বর ব্যবহার না করে তৎকালীন শ্রেণিশিক্ষক আয়েশা আক্তার তার স্বামী ইব্রাহিম খলিলের মোবাইল নম্বর যুক্ত করেন। এরপর থেকে ছয় মাস পরপর উপবৃত্তির টাকা ওই নম্বরের ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে জমা হতে থাকে। আড়াই বছরে সেখানে মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা জমা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী পরশের অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে কথা বলতে তার মা খুকি বেগমকে বিদ্যালয়ে ডেকে আনেন বর্তমান শ্রেণিশিক্ষক স্বীকৃতি রায়। এ সময় তাকে জানানো হয়, নিয়মিত বিদ্যালয়ে না এলে উপবৃত্তি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন খুকি বেগম জানান, তার ছেলে কখনোই উপবৃত্তির টাকা পাননি।
এরপর বিদ্যালয়ের নথিতে থাকা মোবাইল নম্বর যাচাই করে দেখা যায়, সেটি পরশের পরিবারের নয়। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে সেটি শিক্ষিকা আয়েশা আক্তারের স্বামী ইব্রাহিম খলিলের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
প্রধান শিক্ষক মৌসুমী আক্তার একাধিকবার ফোন করলেও ইব্রাহিম খলিল ফোন ধরেননি। পরে অন্য এক শিক্ষকের ফোন রিসিভ করে তিনি নিজের পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরশের মা-ও তার সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিকেলে ২ হাজার ৭০০ টাকা ফেরত দিয়ে জানানো হয়, আড়াই বছরে এত টাকাই পাওয়া গেছে।
শিক্ষক স্বীকৃতি রায় জানান, পরশ উপবৃত্তি টাকা পাচ্ছে না শুনে অবাক হই। পরে দেখি অন্য একজনের ফোন নম্বর দেওয়া হয়। যোগাযোগ করে জানা যায়, ইব্রাহিম খলিল নামে একজনের ফোন নম্বর এটি। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানানো হয়।
শিক্ষার্থী পরশের মা খুকি বেগম বলেন, ‘আমি তো জানতামই না আমার ছেলে উপবৃত্তি পায়। পরে জানতে পারি অন্য একজনের মোবাইলে টাকা গেছে। প্রথমে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে ২ হাজার ৭০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। বাকি টাকার বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘আগে যে কারও মোবাইল নম্বর দিয়ে উপবৃত্তির আবেদন করা যেত। সেই সুযোগে অন্য নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। নম্বরটি আমাদের সাবেক এক সহকর্মীর স্বামীর বলে নিশ্চিত হয়েছি। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।’
তবে অভিযুক্ত শিক্ষিকা আয়েশা আক্তার বর্তমানে অন্য একটি বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে কর্মরত। বৃহস্পতিবার রাতে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি প্রথমে নিজের পরিচয় অস্বীকার করেন। পরে সাংবাদিকদের ফোন আর রিসিভ করেননি।
এদিকে, অভিযুক্ত ইব্রাহিম খলিলের বক্তব্য নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। তবে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিকবার ফোন করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল নম্বরই বন্ধ করে দেন।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/কেএইচকে/জেআইএম
What's Your Reaction?