উল্টোপথের গাড়িচাপায় বাংলাদেশির মৃত্যু, অভিযুক্ত মদ্যপ সেনা কর্মকর্তা

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি ইনফ্লুয়েন্সারের মৃত্যুর ঘটনায় এক সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্ট-এ ৩১ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন জাদ ফাইদ আরহানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়। ওই সেনা কর্মকর্তা গত ২৩ এপ্রিল ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে মাজু এক্সপ্রেসওয়ে (এমইএক্স)-এর সালাক সেলাতান জালান তুন রাজাক সংযোগস্থল এলাকায় ২২ বছর বয়সী বাংলাদেশি মোজাহিদ মিল্লাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট ইলি মারিসকা খালিজানের সামনে অভিযোগ পাঠ করে শোনানো হলে আসামি তা বুঝেছেন বলে জানান। তবে হত্যা মামলা উচ্চ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় কোনো স্বীকারোক্তি গ্রহণ করা হয়নি। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আনা এ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ড অথবা ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অন্তত ১২ বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে। একই ঘটনায় পৃথক আরেক শুনানিতে ম্যাজিস্ট্রেট তেংকু শাজওয়ানি ইয়াসমিন তুয়ান রসলানের আদালতে জাদ ফাইদের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দুটি অভিযোগও আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তিনি ফোর্ড ফিয়েস্তা চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে

উল্টোপথের গাড়িচাপায় বাংলাদেশির মৃত্যু, অভিযুক্ত মদ্যপ সেনা কর্মকর্তা

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি ইনফ্লুয়েন্সারের মৃত্যুর ঘটনায় এক সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্ট-এ ৩১ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন জাদ ফাইদ আরহানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়।

ওই সেনা কর্মকর্তা গত ২৩ এপ্রিল ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে মাজু এক্সপ্রেসওয়ে (এমইএক্স)-এর সালাক সেলাতান জালান তুন রাজাক সংযোগস্থল এলাকায় ২২ বছর বয়সী বাংলাদেশি মোজাহিদ মিল্লাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট ইলি মারিসকা খালিজানের সামনে অভিযোগ পাঠ করে শোনানো হলে আসামি তা বুঝেছেন বলে জানান। তবে হত্যা মামলা উচ্চ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় কোনো স্বীকারোক্তি গ্রহণ করা হয়নি।

দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আনা এ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ড অথবা ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অন্তত ১২ বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে।

একই ঘটনায় পৃথক আরেক শুনানিতে ম্যাজিস্ট্রেট তেংকু শাজওয়ানি ইয়াসমিন তুয়ান রসলানের আদালতে জাদ ফাইদের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দুটি অভিযোগও আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তিনি ফোর্ড ফিয়েস্তা চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।

jagonews24

এর ফলে ই-হেইলিং চালক জায়লানি সাপিহ (৪১) গুরুতর আহত হন এবং তার যাত্রী, নিহত মোজাহিদের স্ত্রী নাফিসা তাবাসসুম আদিবা (২০) আহত হন।

সড়ক পরিবহন আইন ১৯৮৭-এর ৪৪(১এ)(বি) ধারায় আনা অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হলে ন্যূনতম ৭ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানার বিধান রয়েছে।

কুয়ালালামপুরের প্রসিকিউশন পরিচালক মোহাম্মদ নুরদিন ইসমাইল মামলাটি একসঙ্গে শুনানির জন্য স্থানান্তরের আবেদন জানান। তিনি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা থাকায় আগের আদালতেই বিচার হওয়া উচিত এবং জামিন না দেওয়ার অনুরোধ জানান।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ নাজরিন জাফর আবদুল্লাহ জানান, হত্যা মামলার কারণে তারা জামিনের আবেদন করবেন না। উভয় আদালতই আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে আগামী ২১ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে মদ্যপ অবস্থায় থাকা ওই সামরিক কর্মকর্তার চালানো গাড়িটি বিপরীত লেনে ঢুকে পড়ে এবং সংঘর্ষ হয়। গাড়িটি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) থেকে দুই যাত্রী নিয়ে আসছিল।

ঘটনাস্থলেই মাথায় গুরুতর আঘাতে মোজাহিদ মিল্লাতের মৃত্যু হয় এবং এক নারী যাত্রী আহত হন।

এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow