একটি ভুলেই নষ্ট হতে পারে ফ্রিজের কম্প্রেসার, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
গ্রীষ্মকাল কিংবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অনেক এলাকায় এখনো নিয়মিত লোডশেডিং দেখা যায়। তবে বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর অনেকেই তড়িঘড়ি করে ফ্রিজ চালু করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে যন্ত্রটির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে ফ্রিজের কম্প্রেসার সুরক্ষিত রাখা, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা এবং যন্ত্রটির আয়ু বাড়ানো সম্ভব। তাই লোডশেডিংয়ের পর ফ্রিজ চালুর সঠিক পদ্ধতি জানা প্রতিটি পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
লোডশেডিংয়ের পর ফ্রিজ চালু করার সঠিক নিয়ম জানেন তো?
ফ্রিজ বর্তমানে প্রায় প্রতিটি পরিবারের অপরিহার্য গৃহস্থালি যন্ত্র। খাবার সংরক্ষণ থেকে শুরু করে ওষুধ বা বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ভালো রাখার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর সঠিক নিয়ম না মেনে ফ্রিজ চালু করলে যন্ত্রটির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে, এমনকি ব্যয়বহুল মেরামতের প্রয়োজনও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজের দরজা অযথা খোলা উচিত নয়। দরজা বন্ধ থাকলে ভেতরের ঠান্ডা পরিবেশ দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে এবং খাবারও নিরাপদ থাকে।
বিদ্যুৎ প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, লোডশেডিংয়ের
গ্রীষ্মকাল কিংবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অনেক এলাকায় এখনো নিয়মিত লোডশেডিং দেখা যায়। তবে বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর অনেকেই তড়িঘড়ি করে ফ্রিজ চালু করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে যন্ত্রটির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে ফ্রিজের কম্প্রেসার সুরক্ষিত রাখা, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা এবং যন্ত্রটির আয়ু বাড়ানো সম্ভব। তাই লোডশেডিংয়ের পর ফ্রিজ চালুর সঠিক পদ্ধতি জানা প্রতিটি পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
লোডশেডিংয়ের পর ফ্রিজ চালু করার সঠিক নিয়ম জানেন তো?
ফ্রিজ বর্তমানে প্রায় প্রতিটি পরিবারের অপরিহার্য গৃহস্থালি যন্ত্র। খাবার সংরক্ষণ থেকে শুরু করে ওষুধ বা বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ভালো রাখার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর সঠিক নিয়ম না মেনে ফ্রিজ চালু করলে যন্ত্রটির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে, এমনকি ব্যয়বহুল মেরামতের প্রয়োজনও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজের দরজা অযথা খোলা উচিত নয়। দরজা বন্ধ থাকলে ভেতরের ঠান্ডা পরিবেশ দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে এবং খাবারও নিরাপদ থাকে।
বিদ্যুৎ প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, লোডশেডিংয়ের পর বিদ্যুৎ ফিরে এলে অনেক সময় ভোল্টেজ ওঠানামা করতে পারে। এ অবস্থায় সংবেদনশীল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি কিছুটা সময় নিয়ে চালু করাই নিরাপদ।
বিদ্যুৎ ফিরে এলে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ফ্রিজ চালু করা ভালো। কারণ, হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকে ভোল্টেজের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত নাও হতে পারে।
যদি এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার সমস্যা থাকে, তাহলে ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার বা সার্জ প্রটেক্টর ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ফ্রিজের কম্প্রেসার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক অংশ অতিরিক্ত সুরক্ষা পায়।
বারবার অন-অফ করা থেকে বিরত থাকুন
বিদ্যুৎ আসার পর আবার চলে গেলে বারবার ফ্রিজ চালু ও বন্ধ করা ঠিক নয়। এতে কম্প্রেসারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার পর ফ্রিজ চালু করা উত্তম।
তাপমাত্রা পরীক্ষা করা জরুরি
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই বিদ্যুৎ ফিরে এলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা খেয়াল রাখা উচিত। প্রয়োজন হলে তাপমাত্রা পুনরায় সেট করে নেওয়া যেতে পারে।
খাবারের অবস্থাও দেখে নিন
অনেকক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে সংরক্ষিত খাবারের মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে মাছ, মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। খাবারে অস্বাভাবিক গন্ধ বা রঙের পরিবর্তন দেখা গেলে তা ব্যবহার না করাই ভালো।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফুয়াদ হাসান বলেন, ফ্রিজের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য শুধু ভালো মানের যন্ত্র কেনাই যথেষ্ট নয়, সঠিক ব্যবহারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর কিছুটা সতর্কতা ভবিষ্যতের বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লোডশেডিংয়ের পর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করা, ভোল্টেজের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অযথা দরজা না খোলার মতো সাধারণ কিছু অভ্যাস ফ্রিজকে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে যেমন যন্ত্রের আয়ু বাড়বে, তেমনি কমবে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও।