একদিকে ধান সংগ্রহের অভিযান, অন্যদিকে পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

কিশোরগঞ্জে একদিকে শুরু হয়েছে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ অভিযান, অন্যদিকে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠ তলিয়ে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণে জেলার প্রায় ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর বোরো ধানক্ষেত এখন পানির নিচে, ফলে সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১৩টি উপজেলা থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে (মণ প্রতি ১,৪৪০ টাকা) মোট ১৮ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) থেকে শুরু হওয়া এই সংগ্রহ অভিযান চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। তবে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে মানসম্মত ও শুকনো ধান হওয়ার শর্ত থাকায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পারায় আর্দ্রতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না, আবার শ্রমিক সংকটের কারণে মাঠ থেকে ফসল সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। জানা যায়, একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৭৫ মণ পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবেন। কৃষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে পুরো অর্থ লেনদেন করা হবে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে, ফলে নগদ লেনদেনের সুযোগ থাকছে না। এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছ

একদিকে ধান সংগ্রহের অভিযান, অন্যদিকে পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

কিশোরগঞ্জে একদিকে শুরু হয়েছে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ অভিযান, অন্যদিকে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠ তলিয়ে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণে জেলার প্রায় ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর বোরো ধানক্ষেত এখন পানির নিচে, ফলে সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১৩টি উপজেলা থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে (মণ প্রতি ১,৪৪০ টাকা) মোট ১৮ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) থেকে শুরু হওয়া এই সংগ্রহ অভিযান চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। তবে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে মানসম্মত ও শুকনো ধান হওয়ার শর্ত থাকায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পারায় আর্দ্রতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না, আবার শ্রমিক সংকটের কারণে মাঠ থেকে ফসল সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৭৫ মণ পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবেন। কৃষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে পুরো অর্থ লেনদেন করা হবে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে, ফলে নগদ লেনদেনের সুযোগ থাকছে না। এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষক কার্ডধারীদের পাশাপাশি কৃষি অফিসের তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকেও ধান সংগ্রহ করা হবে।

অষ্টগ্রামের কৃষক আলাল মিয়া বলেন, বৃষ্টির পানিতে আমাদের স্বপ্নের সোনালি ধান তলিয়ে গেছে। পানির কারণে মেশিন দিয়ে ধান কাটতে পারছি না। শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে, আবার বেশি দাম দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এ বছর বেশিরভাগ কৃষকই ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

আরেক কৃষক জালাল উদ্দীন বলেন, যারা কোনোভাবে ধান কাটতে পেরেছি, তাদেরও সমস্যা শেষ হয়নি। রোদ না থাকায় ধান শুকাতে পারছি না। ফলে সরকারি গুদামের শর্ত অনুযায়ী আর্দ্রতা কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বাজারেও ধানের দাম কম। আমরা এখন দুই দিক থেকেই চাপে আছি।

কিশোরগঞ্জের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলা থেকে ১৮ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ থেকে কেজি প্রতি ৩৬ টাকা দরে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে ভেজা বা নিম্নমানের ধান কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস থাকলেও প্রকৃতির এই দুর্যোগে শেষ পর্যন্ত কতটা ধান ঘরে উঠবে এবং কতটুকু সরকারি গুদামে পৌঁছাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। লক্ষ্যমাত্রা পূরণের হিসাবের চেয়েও এখন বড় হয়ে উঠেছে কৃষকের টিকে থাকার সংগ্রাম।

এসকে রাসেল/কেএইচকে/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow