এক কর্মকর্তার কাঁধে ৬৭ স্কুল
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নানা প্রকল্প ও উন্নয়নের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে জনবল সংকটের চিত্র যেন উল্টো বাস্তবতা তুলে ধরছে। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রায় দুই দশক ধরে মাত্র একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদারকির দায়িত্ব। এতে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, পাঠদানের মান মূল্যায়ন, শিক্ষকদের একাডেমিক সহায়তা এবং প্রশাসনিক নজরদারি কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অথচ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালায় প্রতি ১৫ থেকে ২৫টি বিদ্যালয়ের জন্য একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার নির্দেশনা রয়েছে। সেই হিসাবে ঘোড়াঘাটের ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একাধিক কর্মকর্তা প্রয়োজন হলেও বর্তমানে একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়নের সব বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন কর্মকর্তা। শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন কর্মকর্তার পক্ষে এতগুলো বিদ্যালয়ে নিয়মিত পরিদর্শন ও কার্যকর তদারকি করা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে কোথাও পাঠদানের মান কমে যাচ্ছে কি না
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নানা প্রকল্প ও উন্নয়নের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে জনবল সংকটের চিত্র যেন উল্টো বাস্তবতা তুলে ধরছে। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রায় দুই দশক ধরে মাত্র একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদারকির দায়িত্ব।
এতে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, পাঠদানের মান মূল্যায়ন, শিক্ষকদের একাডেমিক সহায়তা এবং প্রশাসনিক নজরদারি কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অথচ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালায় প্রতি ১৫ থেকে ২৫টি বিদ্যালয়ের জন্য একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার নির্দেশনা রয়েছে।
সেই হিসাবে ঘোড়াঘাটের ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একাধিক কর্মকর্তা প্রয়োজন হলেও বর্তমানে একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়নের সব বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন কর্মকর্তা।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন কর্মকর্তার পক্ষে এতগুলো বিদ্যালয়ে নিয়মিত পরিদর্শন ও কার্যকর তদারকি করা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে কোথাও পাঠদানের মান কমে যাচ্ছে কি না, শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশে সমস্যা রয়েছে কি না কিংবা শিক্ষকরা প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তা পাচ্ছেন কি না এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না। এর প্রভাব পড়ছে প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক মানের ওপর।
ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান বলেন, নিয়মিত তদারকি শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়, এটি শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন এবং পাঠদানের মানোন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় বিদ্যালয়গুলো সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস অখিল বলেন, ৬৭টি বিদ্যালয়ের মনিটরিং, শিক্ষকদের একাডেমিক সহায়তা, বিভিন্ন পরীক্ষা, তথ্য যাচাই-বাছাই এবং সব বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব একাই পালন করতে হচ্ছে। একজন মানুষের পক্ষে সব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এখানে অন্তত আরও একটি পদ সৃষ্টি করা হলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হতো।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিয়োগ হলে বিদ্যালয় তদারকি আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
What's Your Reaction?