এক দিনে কতটা আলু খাওয়া নিরাপদ? জানালেন পুষ্টিবিদ

ভাত আর আলু—এই দুই ছাড়া বাঙালির রান্নাঘর যেন অসম্পূর্ণ। সকালে আলুভাজা, দুপুরে ঝোল বা তরকারি, সন্ধ্যায় সিঙ্গারা কিংবা চপ—দিনের কোনো না কোনো বেলায় আলু থাকেই। সহজলভ্য, সস্তা আর রান্নায় বহুমুখী হওয়ার কারণে আলু বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আধুনিক জীবনে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যার কথা মাথায় রাখলে প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে, রোজ আলু খাওয়া কি আদৌ শরীরের জন্য ভালো? আর হলে দিনে ঠিক কতটা আলু খেলে ঝুঁকি থাকে না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই পুষ্টিবিদদের মতামত তুলে ধরা হলো। পুষ্টিবিদরা বলছেন, আলু পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক পরিমাণে এবং সঠিকভাবে রান্না করে খেলে আলু শরীরের জন্য উপকারীই হতে পারে। দিনে কতটা আলু খাওয়া নিরাপদ? পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সাধারণত দিনে মাঝারি আকারের এক থেকে দুইটি আলু খেতে পারেন। ওজনের হিসাবে তা প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, আলু যেন ভাজা বা অতিরিক্ত তেল-মশলায় রান্না করা না হয়। আলু কেন উপকারী? আলুতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে শর্করা, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়।

এক দিনে কতটা আলু খাওয়া নিরাপদ? জানালেন পুষ্টিবিদ

ভাত আর আলু—এই দুই ছাড়া বাঙালির রান্নাঘর যেন অসম্পূর্ণ। সকালে আলুভাজা, দুপুরে ঝোল বা তরকারি, সন্ধ্যায় সিঙ্গারা কিংবা চপ—দিনের কোনো না কোনো বেলায় আলু থাকেই।

সহজলভ্য, সস্তা আর রান্নায় বহুমুখী হওয়ার কারণে আলু বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আধুনিক জীবনে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যার কথা মাথায় রাখলে প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে, রোজ আলু খাওয়া কি আদৌ শরীরের জন্য ভালো? আর হলে দিনে ঠিক কতটা আলু খেলে ঝুঁকি থাকে না?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই পুষ্টিবিদদের মতামত তুলে ধরা হলো। পুষ্টিবিদরা বলছেন, আলু পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক পরিমাণে এবং সঠিকভাবে রান্না করে খেলে আলু শরীরের জন্য উপকারীই হতে পারে।

দিনে কতটা আলু খাওয়া নিরাপদ?

পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সাধারণত দিনে মাঝারি আকারের এক থেকে দুইটি আলু খেতে পারেন। ওজনের হিসাবে তা প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, আলু যেন ভাজা বা অতিরিক্ত তেল-মশলায় রান্না করা না হয়।

আলু কেন উপকারী?

আলুতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে শর্করা, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। তাই যারা পরিশ্রমী কাজ করেন বা শারীরিক শ্রমের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য আলু ভালো শক্তির উৎস হতে পারে।

পাশাপাশি আলুতে থাকা খাদ্য আঁশ হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে আলু খেলে অনেক ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আলুর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো এতে থাকা পটাশিয়াম। এই খনিজ উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এছাড়াও আলুতে রয়েছে ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি৬, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।

যাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি

সব উপকারিতার মাঝেও আলু খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মানা ভীষণ জরুরি। আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আলু খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলে প্রতিদিন আলু না খাওয়াই ভালো। খেলে অল্প পরিমাণে এবং অন্যান্য শাকসবজির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া উচিত।

একইভাবে যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদেরও আলু নিয়ে সাবধান থাকা দরকার। সেদ্ধ বা অল্প তেলে রান্না করা আলু পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। তবে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস কিংবা বেশি তেলে ভাজা আলু নিয়মিত খেলে ওজন কমার বদলে আরও বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের শেষ কথা

সব মিলিয়ে পুষ্টিবিদদের মত, আলু খারাপ নয়। সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন তা অতিরিক্ত পরিমাণে বা ভুল পদ্ধতিতে রান্না করে খাওয়া হয়। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পরিমিত ও ভারসাম্য রেখে আলু রাখলে তা শরীরের ক্ষতি না করে বরং উপকারই করে।

সূত্র : টিভি নাইন বাংলা

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow