এক বছরেও দেশে ফেরেনি নিহত ইয়াসিনের মরদেহ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত ময়মনসিংহের গৌরীপুরের যুবক ইয়াসিন মিয়া শেখের মরদেহ এক বছরেও দেশে ফেরত আসেনি। তার মরদেহের অপেক্ষায় দিন গুনছেন পরিবার। ছেলের শোকে পাথর হয়ে পড়েছেন মা, আর ঋণের বোঝায় দিশেহারা বড় ভাই। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইয়াসিন মিয়া শেখ গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের মরিচালি গ্রামের মৃত আবদুস সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি রাজধানীর একটি কলেজে ডিগ্রি পাস কোর্সে অধ্যয়নরত ছিলেন এবং ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি জুলাই-আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরিবার জানায়, সেনাবাহিনীতে চাকরি করার স্বপ্ন ছিল ইয়াসিনের। একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জীবনের মোড় ঘোরাতে রাশিয়ায় একটি কোম্পানিতে চাকরির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন তিনি। সেখানে কয়েক মাস কাজ করার পর ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রহণের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেন ইয়াসিন। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ যুদ্ধ চলাকালে মিসাইল হামলায় নিহত হন তিনি। পরবর্তীতে ১ এপ্রিল রাশিয়ায় থাক

এক বছরেও দেশে ফেরেনি নিহত ইয়াসিনের মরদেহ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত ময়মনসিংহের গৌরীপুরের যুবক ইয়াসিন মিয়া শেখের মরদেহ এক বছরেও দেশে ফেরত আসেনি। তার মরদেহের অপেক্ষায় দিন গুনছেন পরিবার। ছেলের শোকে পাথর হয়ে পড়েছেন মা, আর ঋণের বোঝায় দিশেহারা বড় ভাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইয়াসিন মিয়া শেখ গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের মরিচালি গ্রামের মৃত আবদুস সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি রাজধানীর একটি কলেজে ডিগ্রি পাস কোর্সে অধ্যয়নরত ছিলেন এবং ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি জুলাই-আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

পরিবার জানায়, সেনাবাহিনীতে চাকরি করার স্বপ্ন ছিল ইয়াসিনের। একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জীবনের মোড় ঘোরাতে রাশিয়ায় একটি কোম্পানিতে চাকরির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন তিনি। সেখানে কয়েক মাস কাজ করার পর ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রহণের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেন ইয়াসিন। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ যুদ্ধ চলাকালে মিসাইল হামলায় নিহত হন তিনি। পরবর্তীতে ১ এপ্রিল রাশিয়ায় থাকা পরিচিতজনদের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারে পরিবার।

ইয়াসিনের মৃত্যুর পর ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেয়। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও একটি ঘর নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়।

তবে এক বছর পার হলেও ইয়াসিনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারেনি পরিবার। এতে করে শোকে ভেঙে পড়েছে তার স্বজনরা।

ইয়াসিনের মা ফিরোজা বেগম ছেলের ছবি বুকে নিয়ে সারাক্ষণ কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার একটাই আকুতি-ছেলের মরদেহ যেন দেশে এনে দাফনের সুযোগ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন করেছে। পরে রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে মারা গেছে। এক বছর হয়ে গেল, এখনো ছেলের লাশটা পাইনি। আমি আমার ছেলেরে দেশের মাটিতে দাফন করতে চাই।’

ইয়াসিনের বড় ভাই রুহুল আমিন শেখ জানান, ‘রাশিয়ার একটি হাসপাতালে তার ভাইয়ের মরদেহ সংরক্ষিত রয়েছে। মরদেহ দেশে আনার জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করা হলেও এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘একদিকে ভাই হারানোর শোক, অন্যদিকে বিদেশে পাঠানোর ঋণের চাপ-সব মিলিয়ে আমরা দিশেহারা। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত মরদেহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক।’

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল বলেন, ‘ইয়াসিন ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় রাশিয়া গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে যুদ্ধে নিহত হওয়ার পর এক বছর ধরে তার মরদেহ পড়ে আছে। দ্রুত মরদেহ দেশে আনা এবং পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি।’

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে ইয়াসিনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে দাফনের ব্যবস্থা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হোক।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow