এক রাতেই বিশ্বকাপ জমিয়ে তুললেন তিন তারকা

এক সময় ফুটবল বিশ্ব ভাগ হয়ে গিয়েছিল দুই মেরুতে- মেসি আর রোনালদো। সেই যুগ প্রায় শেষের পথে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের ষষ্ঠ দিনে যেন ফুটবল ঈশ্বর নিজেই নতুন এক দৃশ্যপট সাজিয়ে দিলেন। এক রাতে মাঠে নামলেন তিন প্রজন্মের তিন তারকা, লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আরলিং হালান্ড। আর তিনজনই নিজেদের মতো করে জানিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপের মঞ্চ এখনও তাদেরই দখলে। বিশ্বকাপের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা ছিল শুধু মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। কিন্তু রাত শেষ হতে হতে গল্পটা হয়ে গেল তিন সুপারস্টারের শক্তি প্রদর্শনের এক অনন্য অধ্যায়। ফুটবলবিশ্ব যখনই ভাবে লিওনেল মেসির হয়তো আর কিছু প্রমাণ করার নেই, তখনই যেন তিনি নতুন কোনো রেকর্ড স্পর্শের নেশায় মাতেন। ৩৮ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেন সময়কে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন। নিজের ২০০তম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ জয়ে নিজের হ্যাটট্রিক করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার কীর্তিও গড়েছেন। বিশ্বকাপে এটিই তার প্রথম হ্যাটট্রিক। ইন্টার মিয়ামিতে চোটের ক

এক রাতেই বিশ্বকাপ জমিয়ে তুললেন তিন তারকা

এক সময় ফুটবল বিশ্ব ভাগ হয়ে গিয়েছিল দুই মেরুতে- মেসি আর রোনালদো। সেই যুগ প্রায় শেষের পথে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের ষষ্ঠ দিনে যেন ফুটবল ঈশ্বর নিজেই নতুন এক দৃশ্যপট সাজিয়ে দিলেন। এক রাতে মাঠে নামলেন তিন প্রজন্মের তিন তারকা, লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আরলিং হালান্ড। আর তিনজনই নিজেদের মতো করে জানিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপের মঞ্চ এখনও তাদেরই দখলে।

বিশ্বকাপের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা ছিল শুধু মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। কিন্তু রাত শেষ হতে হতে গল্পটা হয়ে গেল তিন সুপারস্টারের শক্তি প্রদর্শনের এক অনন্য অধ্যায়।

ফুটবলবিশ্ব যখনই ভাবে লিওনেল মেসির হয়তো আর কিছু প্রমাণ করার নেই, তখনই যেন তিনি নতুন কোনো রেকর্ড স্পর্শের নেশায় মাতেন। ৩৮ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেন সময়কে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন। নিজের ২০০তম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ জয়ে নিজের হ্যাটট্রিক করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার কীর্তিও গড়েছেন। বিশ্বকাপে এটিই তার প্রথম হ্যাটট্রিক।

ইন্টার মিয়ামিতে চোটের কারণে তাকে নিয়ে যে শঙ্কা ছিল, তা এক রাতেই উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তার প্রতিটি স্পর্শে ছিল পুরনো দিনের সেই জাদু, প্রতিটি গোল যেন ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি পৃষ্ঠা লিখে দিলো। মেসির অমরত্বের ইতিহাসে যোগ হলো আরও একটি নতুন পাতা।

মেসি যেখানে ইতিহাস ছুঁয়েছেন, সেখানে এমবাপে লিখেছেন নিজের নতুন ইতিহাস। সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-১ জয়ে দুটি গোল করে তিনি ৫৮ গোল নিয়ে ফরাসি জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে গেছেন।

শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১৪। এতে তিনি জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের পাশে জায়গাও করে নিয়েছেন। বিশ্বকাপের নতুন রাজা হওয়ার পথে এমবাপে যে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন, তার প্রমাণ মিললো আবারও। গতির প্রশ্নে এমবাপে যেন অপ্রতিরোধ্য।

প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে অনেকটা এলোমেলো দেখালেও দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপের বিস্ফোরণই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থানও শক্ত করে ফ্রান্স।

মেসি-এমবাপের আলোচনার মাঝেও নিজের উপস্থিতি জোরালোভাবে জানান দিয়েছেন আরলিং হালান্ড। ইরাককে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে ২৮ বছর পর ফেরা নরওয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে। ম্যাচে হালান্ড গোল করে বিশ্বকাপ অভিষেককে স্মরণীয় করে রাখেন।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১৬ গোল করা এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আগেই গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার ছিলেন। প্রথম ম্যাচেই গোল করে সেই দাবিকে আরও জোরালো করলেন তিনি।

তিন তারকা যেন এক নিরব বার্তাই দিলেন নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে। মেসি দেখালেন কিংবদন্তিরা সহজে বিদায় নেন না। এমবাপে প্রমাণ করলেন তিনি বর্তমানের সবচেয়ে বড় মঞ্চের সবচেয়ে বড় নায়ক হতে প্রস্তুত। আর হালান্ড জানিয়ে দিলেন, গোলের ক্ষুধা নিয়ে তিনিও আছেন বিশ্বকাপের সিংহাসনের লড়াইয়ে।

২০২৬ বিশ্বকাপের ষষ্ঠ দিন তাই শুধু কয়েকটি ম্যাচের গল্প নয়। এটি ছিল এক রাতের মধ্যে ফুটবলের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে একই ফ্রেমে দেখার বিরল সুযোগ।

টিটিটি/আইএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow