এক সতীর্থকে সান্ত্বনা, আরেক সতীর্থকে স্মরণ, জয়ের পর নজর কাড়লেন অন্য রোনালদো

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা আর পাঁচটা ম্যাচের মতো ছিল না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কাছে। এক বন্ধুকে হারিয়ে আর এক বন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিলেন সিআর সেভেন। কাজটা নিঃসন্দেহে কঠিন ছিল। তবু দেশের স্বার্থে প্রিয় বন্ধুর পরাজয়ে উল্লাসিত হলেন! ২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে লুকা মদ্রিচের সঙ্গে খেলেছেন রোনালদো। একসঙ্গে ২২২টি ম্যাচে খেলেছেন দু’জনে। মাঝমাঠ থেকে মদ্রিচের দেওয়া পাস থেকে সিআর সেভেনের বেশ কিছু গোলও রয়েছে রিয়ালের হয়ে। তাদের বোঝাপড়া এক সময় রিয়ালের সম্পদ ছিল। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে অবশ্য সেই বোঝাপড়া দেখার সুযোগ ছিল না। এই ম্যাচ ছিল মুখোমুখি বোঝাপড়ার। এক সময়ের দুই সতীর্থের কাঁধেই ছিল দলকে জেতানোর গুরুদায়িত্ব ছিল। পরস্পরকে রুখে দেওয়ার লড়াই। টেক্কা দেওয়ার লড়াই। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেউই জ্বলে উঠতে পারেননি। রোনালদো এবং মদ্রিচকে খানিকটা নিষ্প্রভই দেখিয়েছে। রোনালদোকে পুরো ৯০ মিনিট মাঠেও রাখতে পারেননি পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ।  রোনালদো পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন। মদ্রিচের দলও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে। নকআউট ম্যাচে ড্রয়ের সুযোগ নেই। কোনও একটা দলকে

এক সতীর্থকে সান্ত্বনা, আরেক সতীর্থকে স্মরণ, জয়ের পর নজর কাড়লেন অন্য রোনালদো

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা আর পাঁচটা ম্যাচের মতো ছিল না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কাছে। এক বন্ধুকে হারিয়ে আর এক বন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিলেন সিআর সেভেন। কাজটা নিঃসন্দেহে কঠিন ছিল। তবু দেশের স্বার্থে প্রিয় বন্ধুর পরাজয়ে উল্লাসিত হলেন!
২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে লুকা মদ্রিচের সঙ্গে খেলেছেন রোনালদো। একসঙ্গে ২২২টি ম্যাচে খেলেছেন দু’জনে। মাঝমাঠ থেকে মদ্রিচের দেওয়া পাস থেকে সিআর সেভেনের বেশ কিছু গোলও রয়েছে রিয়ালের হয়ে। তাদের বোঝাপড়া এক সময় রিয়ালের সম্পদ ছিল। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে অবশ্য সেই বোঝাপড়া দেখার সুযোগ ছিল না। এই ম্যাচ ছিল মুখোমুখি বোঝাপড়ার। এক সময়ের দুই সতীর্থের কাঁধেই ছিল দলকে জেতানোর গুরুদায়িত্ব ছিল। পরস্পরকে রুখে দেওয়ার লড়াই। টেক্কা দেওয়ার লড়াই।

এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেউই জ্বলে উঠতে পারেননি। রোনালদো এবং মদ্রিচকে খানিকটা নিষ্প্রভই দেখিয়েছে। রোনালদোকে পুরো ৯০ মিনিট মাঠেও রাখতে পারেননি পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। 

রোনালদো পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন। মদ্রিচের দলও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে। নকআউট ম্যাচে ড্রয়ের সুযোগ নেই। কোনও একটা দলকে বিদায় নিতেই হত বিশ্বকাপ থেকে। শেষ মুহূর্তের গোল ‘ভিএআর’ বাতিল করায় ক্রোয়েশিয়া হেরে গেছে। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়ে হতাশায় ডুবেছেন মদ্রিচ। গোল বাতিলের বিস্ময় আর বিদায়ের হতাশা মিলিয়ে ক্লান্ত শরীরটা যেন সামলাতেই পারছিলেন না। ঠিক তখনই এগিয়ে গেলেন রোনালদো। মাথায়, গায়ে হাত বুলিয়ে স্বান্ত্বনা দিলেন বন্ধুকে। বুকে জড়িয়ে ধরলেন। এক সময় একসঙ্গে উদ্‌যাপনে বা হতাশায় অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া বিশ্বের দুই অন্যতম সেরা ফুটবলারের সেই দৃশ্য নজর কেড়েছে গোটা দুনিয়ার ফুটবলপ্রেমীদেরও।

ম্যাচের শেষে রোনালদো বলেন, ‘অনেকগুলো বছর মদ্রিচের সঙ্গে খেলেছি। এখনও ও শীর্ষ স্তরে খেলছে। মদ্রিচকে দেখে আমার খুব ভাল লাগছে। ম্যাচের পর বলেছি, অভিনন্দন লুক। তোমার ফুটবলজীবনের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা থাকল।’ রোনালদো যখন সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, মদ্রিচের চোখ ছলছল করছিল। আবার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের মুহূর্তে রোনালদোর চোখের কোণও চিকচিক করেছে।

ওই যে আর এক প্রিয় বন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিলেন সিআর সেভেন। তিনি দিয়েগো জোতা। ২০২৫ সালের ৩ জুলাই গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান পর্তুগালের সাবেক এই তারকা উইঙ্গার। বয়সে রোনালদো প্রায় ১২ বছরের বড়। কিন্তু একসঙ্গে পর্তুগালের আক্রমণের দায়িত্ব সামলেছেন প্রায় ৪০ টি ম্যাচে। বন্ধুকে ভোলেননি সিআর সেভেন। জয়ের মুহূর্তে আকাশের দিকে তাকিয়ে হাত তুলে জোতাকে খুঁজেছেন। সাবেক সতীর্থকে জয়ও উৎসর্গ করেছেন। সিআর সেভেনের আবেগঘন সেই মুহূর্তও ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। রোনালদোর দুই ছবিই ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। প্রশংসিত হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow