এখন মনে হচ্ছে, সত্যিই আমি একা হয়ে গেছি : সিফাত

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টই যে কিছুদিনের মধ্যে নিজের জীবনের সাথে মিলে যাবে সেটি বোধহয় নিজেও জানতেন না সিফাত। গত ২৯ মে ‘জীবনে একা চলতে শেখা দরকার…’ লিখে ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেন জুনায়েদ ইসলাম ওরফে সিফাত (১৬)।  এক মাসের ব্যবধানে সে কথাই যেন নির্মম বাস্তবতা হয়ে সামনে এলো সিফাতের জীবনে। বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সিফাতের মা ও তিন বোনকে। পরিবারটিতে কেবল বেঁচে রয়েছে কিশোর সিফাত। সিফাতের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে। খুনের ঘটনার পর পালানোর সময় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে স্থানীয় লোকজন আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অন্তরের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়। তার বাবার নাম কার্তিক মজুমদার। শনিবার মুঠোফোনে বলে, ‘কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই কথাগুলো লিখেছিলাম। তখনো ভাবিনি, একদিন আমার জীবনের সঙ্গে এটি কাকতালীয়ভাবে মিলে যাবে। এখন মনে হচ্ছে, সত্যিই আমি একা হয়ে গেছি।’ মা ও তিন বোনের লাশ উদ্ধারের ঘটনা ভুলতে পারছেন না জানিয়ে সিফাত বলে, ‘আমি যে দোকানে চাকরি করি, সেখান থেকে ছুটে এসে ঘরে ঢুকতেই দেখি আমার মা

এখন মনে হচ্ছে, সত্যিই আমি একা হয়ে গেছি : সিফাত

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টই যে কিছুদিনের মধ্যে নিজের জীবনের সাথে মিলে যাবে সেটি বোধহয় নিজেও জানতেন না সিফাত। গত ২৯ মে ‘জীবনে একা চলতে শেখা দরকার…’ লিখে ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেন জুনায়েদ ইসলাম ওরফে সিফাত (১৬)। 

এক মাসের ব্যবধানে সে কথাই যেন নির্মম বাস্তবতা হয়ে সামনে এলো সিফাতের জীবনে।

বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সিফাতের মা ও তিন বোনকে। পরিবারটিতে কেবল বেঁচে রয়েছে কিশোর সিফাত। সিফাতের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে।

খুনের ঘটনার পর পালানোর সময় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে স্থানীয় লোকজন আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অন্তরের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়। তার বাবার নাম কার্তিক মজুমদার।

শনিবার মুঠোফোনে বলে, ‘কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই কথাগুলো লিখেছিলাম। তখনো ভাবিনি, একদিন আমার জীবনের সঙ্গে এটি কাকতালীয়ভাবে মিলে যাবে। এখন মনে হচ্ছে, সত্যিই আমি একা হয়ে গেছি।’

মা ও তিন বোনের লাশ উদ্ধারের ঘটনা ভুলতে পারছেন না জানিয়ে সিফাত বলে, ‘আমি যে দোকানে চাকরি করি, সেখান থেকে ছুটে এসে ঘরে ঢুকতেই দেখি আমার মা রান্নাঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পাশের কক্ষে তিন বোনের রক্তাক্ত দেহ। পুরো ঘর রক্তে ভেসে গিয়েছিল। সেই দৃশ্য আমি কোনোভাবেই ভুলতে পারছি না।’

অন্তর মজুমদারের বিষয়ে জানতে চাইলে সিফাত বলে, ‘অন্তর একসময় আমাদের ভবনের ওপরের তলায় ভাড়া থাকত। সে কারণে দু-একবার কথা হয়েছে। এর বাইরে তার সঙ্গে আমাদের কোনো ঘনিষ্ঠতা বা বিরোধ ছিল না। মা ও তিন বোনকে হত্যার ঘটনায় অন্তরের নাম শুনে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। কেন সে এমন ঘটনা ঘটাবে, তা এখনো বুঝতে পারছি না।’

গত বৃহস্পতিবার রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকার নদীর পাড়ের একটি ভাড়া বাসায় মা ও তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনাটিতে ঘটে। এতে নিহত হন শাহিনুর বেগম (৪০) এবং তাঁর তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ফাতেমা আক্তার সিপা (১০)।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow