এখন সোনা কিনে রাখলে কি ভুল হবে?
সাধারণত বাজারে যখন জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, তখন বিনিয়োগকারীরা সোনা কেনেন। মূল্যস্ফীতির ধাক্কা থেকে বাঁচতে সোনা অন্যতম নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক বাজারচিত্র পুরোপুরি উল্টো। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চার মাস ধরে কমছে সোনার দাম। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের রেকর্ড দামের চেয়ে এটি এখন প্রায় ২৫ শতাংশ নিচে। যে সোনা মূল্যস্ফীতি থেকে বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করার কথা, তা এখন উল্টো আচরণ করছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, এমনটা কেন হচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার বাজার নিয়ে সাধারণ মানুষের একটি ভুল ধারণা রয়েছে। সোনা কোনো বন্ডের মতো সুদ দেয় না। আবার শেয়ারের মতো লভ্যাংশও দেয় না। তাই অন্য খাতে লাভ বেশি হলে বিনিয়োগকারীরা সোনার ওপর আস্থা হারান। আরও পড়ুন বিশ্ববাজারে ফের পতন, আরও কমবে সোনার দাম? যখন সরকারি বন্ডের মুনাফা প্রায় শূন্য থাকে, তখন সোনা জমিয়ে রাখা লাভজনক। কিন্তু বন্ড যখন ভালো মুনাফা দেয়, তখন সোনা কেনার আগ্রহ কমে যায়। শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম খাটে। অর্থনীতি ভালো চললে কোম্পানির মুনাফা বাড়ে। ফলে সোনার বাজার থেকে
সাধারণত বাজারে যখন জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, তখন বিনিয়োগকারীরা সোনা কেনেন। মূল্যস্ফীতির ধাক্কা থেকে বাঁচতে সোনা অন্যতম নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক বাজারচিত্র পুরোপুরি উল্টো।
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চার মাস ধরে কমছে সোনার দাম। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের রেকর্ড দামের চেয়ে এটি এখন প্রায় ২৫ শতাংশ নিচে। যে সোনা মূল্যস্ফীতি থেকে বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করার কথা, তা এখন উল্টো আচরণ করছে।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, এমনটা কেন হচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার বাজার নিয়ে সাধারণ মানুষের একটি ভুল ধারণা রয়েছে। সোনা কোনো বন্ডের মতো সুদ দেয় না। আবার শেয়ারের মতো লভ্যাংশও দেয় না। তাই অন্য খাতে লাভ বেশি হলে বিনিয়োগকারীরা সোনার ওপর আস্থা হারান।

বিশ্ববাজারে ফের পতন, আরও কমবে সোনার দাম?
যখন সরকারি বন্ডের মুনাফা প্রায় শূন্য থাকে, তখন সোনা জমিয়ে রাখা লাভজনক। কিন্তু বন্ড যখন ভালো মুনাফা দেয়, তখন সোনা কেনার আগ্রহ কমে যায়। শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম খাটে। অর্থনীতি ভালো চললে কোম্পানির মুনাফা বাড়ে। ফলে সোনার বাজার থেকে পুঁজি চলে যায় শেয়ারবাজারে।
বর্তমানে বাজারে ঠিক এই পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের কোম্পানিগুলোর আয় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এই প্রবৃদ্ধি ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। শুল্কের কারণেও মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াচ্ছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত জুনেই সুদের হার বাড়িয়েছে।

সোনা কেনার এখনই কি সেরা সময়?
এখন সবার নজর মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের দিকে। নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ দায়িত্ব নিয়েই কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
বাজার সংশ্লিষ্টরা আগে ভেবেছিলেন সুদের হার কমবে। কিন্তু এখন সুদের হার আরও বাড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ব্যাংক অব আমেরিকা ধারণা করছে, এ বছর সুদের হার ৪ দশমিক ২৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
সুদের হার বাড়ার এই প্রবণতায় বড় বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সোনার দামের পূর্বাভাস কমিয়ে দিচ্ছে। গোল্ডম্যান স্যাশ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের জন্য সোনার দামের পূর্বাভাস ৫ হাজার ৪০০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ৯০০ ডলার করেছে। ব্যাংক অব আমেরিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, সুদের হার বাড়লে সোনার দাম আরও কমতে পারে।

ভরিতে সোনার গহনার দাম কমলো ৫৪৮২ টাকা
ইতিহাস বলে, মূল্যস্ফীতি বেশি হলেই সোনার দাম বাড়ে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন সুদের হার কমায়, তখনই সোনার বাজার চাঙ্গা হয়। অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে মানুষ সোনার দিকে ঝুঁকে পড়ে।
অনেকে ১৯৭০-এর দশকের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন। সেই সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে সোনায় বিনিয়োগ করেছিল।
কিন্তু আজকের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন সুদের হার বাড়ছে, বন্ডের মুনাফা বাড়ছে এবং ডলার শক্তিশালী হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি খাতের ব্যবসা বেশ চাঙ্গা। তাই শুধু মূল্যস্ফীতি দেখেই সোনা কেনা এখন বড় ভুল হতে পারে।
সূত্র: ইউরো নিউজ
কেএএ/
What's Your Reaction?