‘এবারো মেসির হাতে ট্রফি দেখতে চাই’
ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র এক সপ্তাহ। অংশগ্রহণকারী দলগুলো বিশ্বকাপের শহরগুলোতে যাওয়া শুরু করেছে। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক বিশ্বকাপ উপভোগের নানা প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললেও এই দেশে ক্রীড়ামোদীদের আগ্রহের কমতি নেই। বিশ্বকাপের পুরোটা সময় নিজেদের পছন্দের দলের সমর্থনে নানা আয়োজন করে থাকে। বিশ্বকাপ মানে কেবল ফুটবল সমর্থকদেরই আনন্দ-উচ্ছ্বাস নয়, সব খেলার এবং সাধারণ মানুষরাও এই টুর্নামেন্ট নিয়ে মেতে থাকেন মাসব্যাপী। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল এবং মেসি-নেইমারে ভাগ হয়ে যান বাংলাদেশের সমর্থকরা। বিশ্বকাপ নিয়ে কী ভাবছেন দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার? বিশ্বকাপ উপভোগ, এবারের প্রস্তুতি, প্রিয় দল এবং প্রিয় খেলোয়াড়দের নিয়ে তিনি কথা বলেছেন জাগো নিউজের সাথে। শিরিন আক্তার বিকেএসপির সাবেক শিক্ষার্থী। এখন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অ্যাথলেট। ১৭তমবারের মতো দেশের দ্রুততম মানবীর খেতাব অর্জন করা শিরিন বিশ্বকাপ দেখেন ২০১০ সাল থেকে। এটা হবে তার পঞ্চম বিশ্বকাপ। বন্ধুদের সাথে খেলা দেখতেন বিকেএসপিতে। প্রিয় বন্ধুদের বেশিরভাগই সমর্থন করতেন আর্জেন্টিনাকে। তাই তিনিও হয়ে গেছেন মেসি-ম্যারাডোনার দেশের ভক্ত। সেই স
ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র এক সপ্তাহ। অংশগ্রহণকারী দলগুলো বিশ্বকাপের শহরগুলোতে যাওয়া শুরু করেছে। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক বিশ্বকাপ উপভোগের নানা প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললেও এই দেশে ক্রীড়ামোদীদের আগ্রহের কমতি নেই। বিশ্বকাপের পুরোটা সময় নিজেদের পছন্দের দলের সমর্থনে নানা আয়োজন করে থাকে।
বিশ্বকাপ মানে কেবল ফুটবল সমর্থকদেরই আনন্দ-উচ্ছ্বাস নয়, সব খেলার এবং সাধারণ মানুষরাও এই টুর্নামেন্ট নিয়ে মেতে থাকেন মাসব্যাপী। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল এবং মেসি-নেইমারে ভাগ হয়ে যান বাংলাদেশের সমর্থকরা। বিশ্বকাপ নিয়ে কী ভাবছেন দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার? বিশ্বকাপ উপভোগ, এবারের প্রস্তুতি, প্রিয় দল এবং প্রিয় খেলোয়াড়দের নিয়ে তিনি কথা বলেছেন জাগো নিউজের সাথে।
শিরিন আক্তার বিকেএসপির সাবেক শিক্ষার্থী। এখন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অ্যাথলেট। ১৭তমবারের মতো দেশের দ্রুততম মানবীর খেতাব অর্জন করা শিরিন বিশ্বকাপ দেখেন ২০১০ সাল থেকে। এটা হবে তার পঞ্চম বিশ্বকাপ। বন্ধুদের সাথে খেলা দেখতেন বিকেএসপিতে। প্রিয় বন্ধুদের বেশিরভাগই সমর্থন করতেন আর্জেন্টিনাকে। তাই তিনিও হয়ে গেছেন মেসি-ম্যারাডোনার দেশের ভক্ত।
সেই স্মৃতির সাগর সাতরিয়ে শিরিন আক্তার বলছিলেন, ‘আমি বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছিলাম ২০০৭ সালে। তার তিন বছর পর ছিল বিশ্বকাপ। দক্ষিণ আফ্রিকায় হওয়া ওই বিশ্বকাপ থেকেই খেলা দেখা শুরু করি। কোন দলকে সাপোর্ট করবো তা বুঝতাম না। তবে খেলা দেখতে বসে যে দলের সমর্থন বেশি দেখতাম এবং আমাদের সহপাঠীদের মধ্যে যে দলের সমর্থন বেশি দেখেছি, আমিও সেই দলকে সমর্থন দিয়েছি। তখন থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়ে গেছি।’
ধ্যানজ্ঞান অ্যাথলেটিকস হলেও বিশ্বকাপের সময়টায় ফুটবল বেশ উপভোগই করেন শিরিন। লম্বা একটা সময় বিকেএসপিতে ছিলেন। মানে খেলার পরিবেশের মধ্যেই বেড়ে ওঠা এবং লেখাপড়া। তাই তো বন্ধুরা মিলে বেশ মজা করেই বিশ্বকাপ উপভোগ করতেন।
‘আমরা যখন বিকেএসপিতে ছিলাম তখন নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো। টাকা তুলে আমরা বিশাল পতাকা ও ব্যানার বানাতাম। আমাদের পাঁচ তলা ছাত্রী হোস্টেলের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত লম্বা ব্যানার টানাতাম আর্জেন্টিনার। ছেলেদের নাকি মেয়েদের হোস্টেলের ব্যানার-পতাকা বড় হতো সেই প্রতিযোগিতা ছিল। বিকেএসপি পর্ব শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর আমরা ইনডোরে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ দেখেছি।’
এবারের পরিকল্পনা কী? ‘এবার তো উচ্ছ্বাস একটু কম দেখছি। সেভাবে পতাকা-ব্যানার চোখে পড়ছে না। হয়তো ঈদের লম্বা ছুটি ছিলো বলে এমন হয়েছে। অনেকে ছুটি কাটিয়ে ফিরতে শুরু করেছে। এখন বিশ্বকাপের আমেজ চলে আসবে ধারণা করছি’-বলছিলেন দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার।
বিশ্বকাপ এমন একটি আসর যার মাধ্যমে প্রমাণ হয় মানুষ খেলাধুলাকে কতটা পছন্দ করে। সে কথা উল্লেখ করে শিরিন বলেন, ‘বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষ খেলাকে বেশি পছন্দ করেন। এই যেমন বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় সেটা প্রমাণ হয়। খেলাধুলা পছন্দ ছাড়া কোনো মানুষ এভাবে উম্মাদনা তৈরি করতে পারেন না।’
আপনি আর্জেন্টিনার সমর্থন করেন। বাংলাদেশে তো বেশি সমর্থক আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের। তো ব্রাজিলে সমর্থকদের কি শত্রু শত্রু মনে হয় আপনার? ‘আসলে তেমন না। তবে যারা ব্রাজিলের সমর্থন করে তাদেরকে আপনের পরিবর্তে একটু পরপর মনে হয় (হাসি)। এই আর কী’-বলছিলেন শিরিন আক্তার।
আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেন। স্বাভাবিকভাবেই মেসি আপনার সবচেয়ে পছন্দের ফুটবলার, তাই না? শিরিনের জবাব, ‘সেটা তো অবশ্যই। তবে আমার রোনালদোর খেলাও ভালো লাগে। রোনালদোর দল পর্তুগালকে সমর্থন করি না। কারণ, রোনালদো বড় খেলোয়াড় হলেও তার দল সেভাবে ফেবারিট থাকে না বিশ্বকাপে।’
এবারের বিশ্বকাপে কোন দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারে বলে আপনার ধারণা? ‘আমি তো চাইবো আর্জেন্টিনাই চ্যাম্পিয়ন হোক। আর্জেন্টিনাকে সাপোর্ট করা শুরুর পর গত আসরেই আমাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি চাইবো এবারও মেসির হাতে ট্রফি দেখতে’-বলেন শিরিন আক্তার।
শিরিন নতুন জীবন শুরু করেছেন গত বছর সেপ্টেম্বরে। বিয়ে করেছেন নাইমুর রহমান লিঙ্কন নামের জাতীয় দলের বাস্কেটবল খেলোয়াড়কে। লিঙ্কনও বিকেএসপির সাবেক শিক্ষার্থী। ২০০৭ সাল থেকে এক সাথেই তারা বিকেএসপিতে পড়াশুনা করেছেন। লিঙ্কন বিমানবাহিনীর খেলোয়াড় এবং শিরিন নৌবাহিনীর। বিশ্বকাপে দলের সমর্থনে দুইজনের মিল আছে।
শিরিন আক্তার বলেন, ‘আসলে আমরা তো এক সাথেই বিকেএসপিতে পড়াশুনা করেছি। আমরা এক সাথেই আর্জেন্টিনার সাপোর্ট করেছি। আগে বন্ধু হিসেবে দুইজন আর্জেন্টিনার সাপোর্ট করতাম। এবার স্বামী-স্ত্রী হিসেবে করবো।’
আরআই/এমএমআর
What's Your Reaction?