এবার নিজের সাথেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম, দেখি চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায় কিনা

গতবার আনুষ্ঠানিকভাবে দল পরিচালনার দায়িত্বটা ছিল না তার। ২০২৫ সালের প্রিমিয়ার লিগে অফিসিয়ালি মোহামেডানের ক্যাপ্টেন ছিলেন তামিম ইকবাল। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায় তারকায় ঠাসা মোহামেডানের দল পরিচালনার ভার পড়ে তাওহিদ হৃদয়ের ওপর। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে শাস্তির মুখে পড়ে লিগ নির্ধারণী ম্যাচ খেলা হয়নি। যে ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর কাছে হেরে মোহামেডানকে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়, সেই লিগ নির্ধারণী ম্যাচে মাঠেই নামা হয়নি হৃদয়ের। কি আশ্চর্য! এবারও আবাহনীর বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলতে পারেননি হৃদয়। কারণ সবার জানা। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি দলে আছেন তিনি। তিনি একা নন। তার মতো ২৭ ক্রিকেটার প্রিমিয়ার লিগের শেষ ২ ম্যাচ খেলতে পারেননি। শুক্রবার সেই সকাল ৯টায় নিজ দল বিকেএসপিতে আবাহনীর বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে মাঠে নেমেছে। যেখানে শুধু জয়টাই শেষ কথা ছিল না। নিজেদের জয়ের পাশাপাশি নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাইম ব্যাংকের পরাজয়টাও ছিল একান্তই জরুরি। অর্থাৎ ১৬ বছর পর লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারে পুরোপুরি ভাগ্যের আনুকূল্য প্রয়োজন ছিল মোহামেডানের। টিম

এবার নিজের সাথেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম, দেখি চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায় কিনা

গতবার আনুষ্ঠানিকভাবে দল পরিচালনার দায়িত্বটা ছিল না তার। ২০২৫ সালের প্রিমিয়ার লিগে অফিসিয়ালি মোহামেডানের ক্যাপ্টেন ছিলেন তামিম ইকবাল। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায় তারকায় ঠাসা মোহামেডানের দল পরিচালনার ভার পড়ে তাওহিদ হৃদয়ের ওপর।

কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে শাস্তির মুখে পড়ে লিগ নির্ধারণী ম্যাচ খেলা হয়নি। যে ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর কাছে হেরে মোহামেডানকে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়, সেই লিগ নির্ধারণী ম্যাচে মাঠেই নামা হয়নি হৃদয়ের।

কি আশ্চর্য! এবারও আবাহনীর বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলতে পারেননি হৃদয়। কারণ সবার জানা। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি দলে আছেন তিনি। তিনি একা নন। তার মতো ২৭ ক্রিকেটার প্রিমিয়ার লিগের শেষ ২ ম্যাচ খেলতে পারেননি।

শুক্রবার সেই সকাল ৯টায় নিজ দল বিকেএসপিতে আবাহনীর বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে মাঠে নেমেছে। যেখানে শুধু জয়টাই শেষ কথা ছিল না। নিজেদের জয়ের পাশাপাশি নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাইম ব্যাংকের পরাজয়টাও ছিল একান্তই জরুরি।

অর্থাৎ ১৬ বছর পর লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারে পুরোপুরি ভাগ্যের আনুকূল্য প্রয়োজন ছিল মোহামেডানের। টিম হোটেলে বসে হৃদয় খেলার খবর সংগ্রহ করেছেন। টিভি সেটের সামনে বসেছিলেন। আর মনে মনে সৃষ্টিকর্তার দয়া ও কৃপা চেয়েছেন। আশার কথা, সে আনুকূল্য পেয়েছে সাদা-কালোরা।

হৃদয়ও গভীর চিন্তায় মগ্ন ছিলেন। বারবার ভাবছিলেন, শেষ রক্ষা হবে তো? নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাবতেই পারেন। লিগ নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিতে না পারলেও ২০২৬ সালের প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের অধিনায়ক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় হৃদয়ের নামই লেখা থাকবে।

শেষ দুটি ম্যাচ ছাড়া তিনি ৯ ম্যাচ খেলেছেন। ২টি ম্যাচে শতক ও শেষ ৪ ইনিংসে যথাক্রমে ৭১, ৮৬, ১০১ ও ১০১-চারটি বড় ইনিংসসহ লিগে ৯ খেলায় ৮ বার ব্যাট করে ৫২৮ রান তুলে টপ স্কোরারদের তালিকায় দ্বিতীয় জায়গা করে নিয়েছেন হৃদয়। গড় (৮৮.০০) আর স্ট্রাইক রেট (১২২.৭৯)-সব ব্যাটারের ওপরে জায়গা করে নিয়েছেন হৃদয়।

এক কথায় মোহামেডানের এ সাফল্যের মিশনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ব্যাটার হিসেবে যতটা ভালো খেলা যায় এবং দলের সাফল্যে যেমন ভূমিকা রাখা সম্ভব, হৃদয় এবার তাই করেছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই এবারের লিগ তার কাছে লক্ষ্যপূরণের লিগ। এবারের প্রিমিয়ার লিগ তার কাছে দায়িত্ব ও কর্তব্য মেটানোর আসর।

জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অনেক কথার মাঝে হৃদয় পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, তিনি যারপরনাই খুশি। অনেক ভালো লাগায় আচ্ছন্ন।

প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে হৃদয় বলেন, ‘গত বছর তামিম ভাই অসুস্থ হওয়ার পর আমার ওপরই দল পরিচালনার দায়িত্ব বর্তায়। আমি প্রাণপণ চেষ্টাও করেছিলাম। কিন্তু শেষ দিকে, মানে ক্রাঞ্চ সিচুয়েশনে, আমার পক্ষে মাঠে নামাই সম্ভব হয়নি। এবার আমি তাই লিগ শুরুর আগেই শেষ মুহূর্তে যখন চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারণ হয়, তখন একটা সমস্যার কারণে (শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে নিষেধাজ্ঞায় পড়ে খেলতে পারেননি) আমি মাঠে নামতে পারিনি। সেই একটা চাওয়াতো থেকেই যায়। বারবার রানার্সআপ হয়েছি। এবার তাই নিজের সাথেই একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম, দেখি চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায় কিনা!’

‘মাশাআল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ। মোহামেডানের মতো একটা বিরাট, জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী দলের ১৬ বছর লিগ শিরোপা না পাওয়ার সেই আফসোস মুক্ত হওয়া গেল। অবশেষে মোহামেডানের ঘরে আবার লিগ শিরোপা উঠলো। এর চেয়ে বড় অর্জন আর কী-ই বা হতে পারে? খুব কঠিন ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি দলকে শিরোপা পাইয়ে দিতে।’

দলে মুশফিকুর রহিমের মতো সাবেক অধিনায়ক ও অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেটার ছিলেন। সঙ্গে নাইম শেখ, এনামুল হক বিজয়, পারভেজ ইমন, আফিফ হোসেন ধ্রুব, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, এবাদত হোসেন, তাইজুল ইসলামের মতো এক ঝাঁক জাতীয় দলের ক্রিকেটারে সাজানো মোহামেডান। সেই দলে নেতৃত্ব দেওয়াটা সহজ কাজ ছিল না। রীতিমতো একটা কষ্টসাধ্য কাজ ছিল।

কেমন ছিল এবারের লিগে অধিনায়ক হৃদয়ের জার্নি? তার আবেগাপ্লুত জবাব, ‘এটা আমার জীবনের একটা অন্যতম সেরা অর্জন ও বিরাট অভিজ্ঞতা। সবথেকে বড় কথা, আমি যাদের সঙ্গে খেলেছি, আমার টিমমেটরা আমাকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। আমার ডিসিশনের বাইরে কেউ কিছু বলেনি। যায়ওনি। ইভেন সবথেকে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এক সময় আমি বিজয় ভাইকেও একাদশের বাইরে রাখতে বাধ্য হই। সেটা ছিল একটা বিগ ডিসিশন। আমি আমার নিজের সিদ্ধান্তে সেটা করেছি।’

‘তার মানের প্লেয়ারকে বসিয়ে রাখা সহজ কাজ না। কিন্তু আমি সেটা করেছি। আমি তাকে খেলাইনি। ফুল টিম কল ছিল তাকে খেলানোর। কিন্তু আমি নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজয় ভাইকে খেলাইনি। অবশ্য তাদের সবার প্রতি রেসপেক্ট রেখে আমি আমার গাট ফিলিং থেকেই ওই টাফ ডিসিশন নিয়েছি। ওভারঅল টিম সাজানো, ক্রিকেটার সংগ্রহ এবং তারপর মাঠে পারফেক্ট একাদশ নিয়ে নামা-সব মহান আল্লাহ পাকের রহমতে খুব ভালো ছিল। তাই শেষ পর্যন্ত সাফল্য ধরা দিয়েছে’-তৃপ্তি নিয়ে বললেন হৃদয়।

এআরবি/এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow