এবার যে হিসাব কষে দল সাজিয়েছে মোহামেডান
এমন নয়, যে বিগত বছরগুলোয় মোহামেডান কখনই কাগজে-কলমে ভালো দল গড়েনি বা গড়তে পারেনি। গড়েছে। সেই ২০০৯ সালে শেষবার প্রিমিয়ার লিগ বিজয়ী হওয়ার পর গত ১৬ বছর লিগ ট্রফি জিততে না পারলেও বেশ কয়েকবার কাগজে-কলমে এক নম্বর দল গড়েও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ হয়নি মোহামেডানের। এর মধ্যে করোনার বছর এক ম্যাচ খেলে বন্ধ হয়ে যাওয়া লিগ থেকে শুরু করে আগেরবার পর্যন্ত কাগজে-কলমে অন্যতম সেরা দল ছিল মোহামেডানের। কিন্তু মাঠে সাফল্য মেলেনি। গত লিগে তবু চির প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় মোহামেডানকে। এই সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেশির ভাগ সময় দেখা গেছে, মোহামেডান এক ঝাঁক তারকা দলে নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তারা যে জাতীয় দলের কমিটমেন্টের কারণে পুরো লিগ খেলতে পারবে না বা বড় সময় ধরে তাদের লিগে সার্ভিস মিলবে না। এই সত্য উপলব্ধিতে সমস্যা ছিল মোহামেডান কর্তাদের। দেখা গেছে, মোহামেডানের ৫/৬ জন শীর্ষ তারকা পুরো লিগে বড় সময় জাতীয় দলের হয়ে খেলায় ব্যস্ত ছিলেন। সাদা-কালো জার্সি গায়ে আর মাঠে নামা সম্ভব হয়নি। তাদের সার্ভিস না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখাও মেলেনি। এবার দল গড়ার আগে মোহ
এমন নয়, যে বিগত বছরগুলোয় মোহামেডান কখনই কাগজে-কলমে ভালো দল গড়েনি বা গড়তে পারেনি। গড়েছে। সেই ২০০৯ সালে শেষবার প্রিমিয়ার লিগ বিজয়ী হওয়ার পর গত ১৬ বছর লিগ ট্রফি জিততে না পারলেও বেশ কয়েকবার কাগজে-কলমে এক নম্বর দল গড়েও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ হয়নি মোহামেডানের।
এর মধ্যে করোনার বছর এক ম্যাচ খেলে বন্ধ হয়ে যাওয়া লিগ থেকে শুরু করে আগেরবার পর্যন্ত কাগজে-কলমে অন্যতম সেরা দল ছিল মোহামেডানের। কিন্তু মাঠে সাফল্য মেলেনি। গত লিগে তবু চির প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় মোহামেডানকে।
এই সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেশির ভাগ সময় দেখা গেছে, মোহামেডান এক ঝাঁক তারকা দলে নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তারা যে জাতীয় দলের কমিটমেন্টের কারণে পুরো লিগ খেলতে পারবে না বা বড় সময় ধরে তাদের লিগে সার্ভিস মিলবে না। এই সত্য উপলব্ধিতে সমস্যা ছিল মোহামেডান কর্তাদের। দেখা গেছে, মোহামেডানের ৫/৬ জন শীর্ষ তারকা পুরো লিগে বড় সময় জাতীয় দলের হয়ে খেলায় ব্যস্ত ছিলেন।
সাদা-কালো জার্সি গায়ে আর মাঠে নামা সম্ভব হয়নি। তাদের সার্ভিস না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখাও মেলেনি।
এবার দল গড়ার আগে মোহামেডান ম্যানেজমেন্ট সেই পুরোনো ধ্যান-ধারণা পাল্টে বাস্তবতাকে মাথায় রেখে দল সাজিয়েছে এমন সব ক্রিকেটারদের দিয়ে, যাদের হয়তো পুরো লিগেই সার্ভিস মিলবে।
আগামী পরশু ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এবারের প্রিমিয়ার লিগের দলবদল। তার ৪৮ ঘণ্টা আগে মোহামেডান দল গোছানোর কাজ সেরে ফেলেছে।
একমাত্র মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে কথা-বার্তা বাকি ছিল। সেটিও শেষ হয়ে গেছে। আশা ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে টেস্ট সিরিজ শেষে মিরাজ যদি ৩/৪টি ম্যাচও দলের হয়ে খেলতে পারেন। কিন্তু আজ জাগো নিউজ মোহামেডান ক্লাব সূত্রে জানতে পেরেছে যে, এক ম্যাচের বেশি পাওয়া সম্ভব নয় জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ককে। তাই আপাতত সেই আলোচনা বন্ধ হয়ে গেছে। মোহামেডান দলে পাচ্ছে না মিরাজকে।
এর বাইরে মোহামেডান এবার ৩ টপ অর্ডার—নাইম শেখ, এনামুল হক বিজয় আর পারভেজ ইমনকে দলে ভেড়ানোর সব প্রক্রিয়া শেষ করেছে। শুধু তাদের সই করাটাই বাকি। আগের বারের তাওহিদ হৃদয়, রনি তালুকদার ও আনিসুল ইসলাম ইমন এবারও থাকছেন মোহামেডানে। ইয়াসির আলী রাব্বি, আফিফ হোসেন ধ্রুবকেও দলে নেওয়ার সব কাজকর্ম সম্পন্ন।
সেই সঙ্গে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকেও দলে নেওয়ার কাজ শেষ। একইভাবে পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দীনের থেকে যাওয়া নিশ্চিত। লেগস্পিন গুগলি বোলার রিশাদ, অলরাউন্ডার তাইবুর পারভেজ। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম, পেসার তাসকিন আহমেদ, রিপন মন্ডল, এবাদত হোসেন, পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, পেসার মুশফিক হাসান, বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম এবং অফস্পিনার নাইম আহমেদসহ ২০ ক্রিকেটারকে দলে ভেড়ানো নিশ্চিত করেছে মোহামেডান। তাদের সবার অগ্রিম পেমেন্টও সম্পন্ন।
এদের মধ্যে টেস্ট দলের হয়ে খেলার কারণে ব্যাটার মুশফিকুর রহিম, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেনকে পুরো সিজনে পাওয়া যাবে না। তাই তাদের গড়পড়তা ৪ থেকে ৫ ম্যাচ পাওয়া যাবে ধরেই দলে নিয়েছে মোহামেডান। এছাড়া তৌহিদ হৃদয়, পারভেজ ইমন, তানভির ইসলাম, আফিফ হোসেন ধ্রুবকে ৭ থেকে ৯ ম্যাচ ধরেই দলে টেনেছে মোহামেডান।
আগের বারের মতো এবারও মোহামেডানের হেড কোচ হয়েছেন মিজানুর রহমান বাবুল। প্রধান সহকারী কোচ হিসেবে নতুন নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক পেসার ডলার মাহমুদ। ফিল্ডিং কোচ করা হয়েছে গোলাম মুর্তজাকে। ট্রেনারের দায়িত্বে থাকবেন মোহাম্মদ ডালিম এবং ফিজিও হিসেবে থাকবেন শিভা।
এআরবি/আইএন
What's Your Reaction?