এমন রাতেও মেসির চোখে কেন জল?

আরও একটি অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চকর ম্যাচ দেখার সৌভাগ্য হলো গোটা দুনিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের। আর এই ম্যাচেও নায়ক যথারীতি সেই লিওনেল মেসি। মিশরের বিপক্ষে যখন বাজল ম্যাচ শেষের বাঁশি, প্রবলভাবে জেগে ওঠা শঙ্কার মেঘটুকু সরে গেল এক লহমায়। ক্যামেরা খুঁজে নিল লিওনেল মেসিকে। সতীর্থের আলিঙ্গনে আবদ্ধ মেসির চোখে অশ্রুর ঝিলিক! মহাজাদুকরকে কজন এর আগে এভাবে কাঁদতে দেখেছেন? এর আগে কোপা আমেরিকার ব্যর্থতায়, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ফাইনালে গুঁড়িয়ে যাওয়ার বিষণ্নতায় কেঁদেছেন তিনি, কিন্তু এবার তার চোখ দিয়ে যে অশ্রু ঝরল জয়ের আনন্দে! আটলান্টা স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। দুই গোল হজমের পর প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য গল্প লিখে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে লিওনেল স্কালোনির দল। অথচ, এই শেষের সাথে শুরুর কোনো মিলই ছিল না। ‘আমাদের সালাহ ও ২৬ জন মেসি আছে’- সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসানের কথা সত্যি করতেই যেন নেমেছিল মিশর। ইয়াসির ইব্রাহিম ও মোস্তাফা জিকোর গোলে স্মরণীয় জয়ের প্রবল আশা জাগিয়েছিল দলটি। আর আর্জেন্টিনা? মেসির পেনাল্টি মিসের পর থেকে যেন দিকভ্রান্ত, দিশাহারা।

এমন রাতেও মেসির চোখে কেন জল?
আরও একটি অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চকর ম্যাচ দেখার সৌভাগ্য হলো গোটা দুনিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের। আর এই ম্যাচেও নায়ক যথারীতি সেই লিওনেল মেসি। মিশরের বিপক্ষে যখন বাজল ম্যাচ শেষের বাঁশি, প্রবলভাবে জেগে ওঠা শঙ্কার মেঘটুকু সরে গেল এক লহমায়। ক্যামেরা খুঁজে নিল লিওনেল মেসিকে। সতীর্থের আলিঙ্গনে আবদ্ধ মেসির চোখে অশ্রুর ঝিলিক! মহাজাদুকরকে কজন এর আগে এভাবে কাঁদতে দেখেছেন? এর আগে কোপা আমেরিকার ব্যর্থতায়, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ফাইনালে গুঁড়িয়ে যাওয়ার বিষণ্নতায় কেঁদেছেন তিনি, কিন্তু এবার তার চোখ দিয়ে যে অশ্রু ঝরল জয়ের আনন্দে! আটলান্টা স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। দুই গোল হজমের পর প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য গল্প লিখে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে লিওনেল স্কালোনির দল। অথচ, এই শেষের সাথে শুরুর কোনো মিলই ছিল না। ‘আমাদের সালাহ ও ২৬ জন মেসি আছে’- সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসানের কথা সত্যি করতেই যেন নেমেছিল মিশর। ইয়াসির ইব্রাহিম ও মোস্তাফা জিকোর গোলে স্মরণীয় জয়ের প্রবল আশা জাগিয়েছিল দলটি। আর আর্জেন্টিনা? মেসির পেনাল্টি মিসের পর থেকে যেন দিকভ্রান্ত, দিশাহারা। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের সামনে ভুল পাসে পজেশন হারানো, লক্ষ্যভ্রষ্ট শট, নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার ঘাটতি- কোনোকিছুই ঠিকঠাক হচ্ছিল না। ক্যামেরার চোখে ধরা পড়ছিল মেসির ক্লান্ত, ঘর্মাক্ত, বিষাদগ্রস্ত ছবি। সময় যত গড়ায়, শঙ্কা রূপ দিতে থাকে স্বপ্ন ভাঙার ভয়ে। কিন্তু তিনি যে হাল ছাড়ার পাত্র নন। অনেকেই যখন মনে মনে আর্জেন্টিনার শেষের এপিটাফ লিখে ফেলেছেন, আটলান্টার গ্যালারিতে হিমশীতল, সুনসান নীরবতা জেঁকে বসতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে দিয়ে গোল করালেন মেসি। ঘড়ির কাঁটায় সময় তখন ৭৯তম মিনিট। শঙ্কার মেঘ ফুঁড়ে আর্জেন্টিনার আকাশে এক চিলতে আলোর উঁকি। কিন্তু ছিটকে পড়ার ভয় কাটেনি তখনো। চার মিনিট পরই বাম পায়ের দারুণ শটে তা দূর করে দিলেন মেসি। আনন্দে ডানা মেলে ছুটলেন বুলেট গতিতে, গ্যালারির দিকে। বুকের ওপর এতক্ষণ ধরে চেপে থাকা পাহাড়সম পাথর সরে যাওয়ায় যেন হালকা অনুভব করলেন তিনি; বাঁধনহারা উচ্ছ্বাসে শরীরটা শূন্যে ভাসিয়ে তাই ছুঁতে চাইলেন আকাশ। বিশ্বকাপ স্বপ্ন টিকে থাকার আনন্দে উজ্জীবিত আর্জেন্টিনা যোগ করা সময়ে মিশরের রক্ষণে চাপ দিতে থাকল মরিয়া হয়ে। কাঙ্ক্ষিত গোলও এসে গেল; এবার লক্ষ্যভেদ করলেন এনজো ফের্নান্দেস। মেসির চোখে-মুখে তখন হাসির ঝিলিক। বাকি সময়টুকু কেবল তখন পার হওয়ার অপেক্ষা। শেষের বাঁশি বাজল। হারের শঙ্কা এড়িয়ে, জয়ের পাগলাটে উদযাপনে মাতল আর্জেন্টিনা। ক্যামেরার চোখে ধরা পড়লেন অশ্রুসিক্ত মেসি। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে ছোট্ট শিশুর মতো কাঁদছেন। হারানো খেলনা ফিরে পাওয়ার আনন্দে যেমন কাঁদে শিশুরা, ঠিক তেমন করে। অনেকে বলেন, মেসি অন্য গ্রহের। না, মেসি এই গ্রহের। রক্ত-মাংসের মানুষ। না হলে ওভাবে কান্না কেউ করে? 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow