এলাচিতে রং মেশাতে হচ্ছে কেন

আমিনুল ইসলাম আমার পোস্টে এলাচির ছবি দেখে অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়ই। ভাবছেন—সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি কিংবা বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা মানুষটা এলাচির ছবি আপলোড করছে কেন! প্রতিবার দেশে গেলে আমি গরম মসলা, হলুদ-মরিচ এইসব নিয়ে আসি। এখানে সেভাবে পাওয়া যায় না। যেহেতু বছরে তিন-চার বার দেশে যাওয়া হয়; তাই এইসব মসলাগুলো সাথে করে নিয়ে আসি। এবারও এনেছি। গতকাল সন্ধ্যার পর আমার সহকর্মী, আমরা দুইজন এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সাথে ‘গবেষণা পদ্ধতি’ কোর্সটা পড়াই। সে কিছুক্ষণ পর পর কাশছিল। আমি ওকে বললাম, ‘তুমি এলাচি খেয়ে দেখতে পারো।’ও বলল, ‘তোমার কাছে আছে?’ ‘হ্যাঁ।’ আমার ব্যাগে সব সময় আমি কিছু এলাচ আর লবঙ্গ রাখি। তো, ওকে একটা দিলাম। সে খোসা সহই মুখে দিয়েছে। আমি সাধারণত খোসা ফেলে দিয়ে ভেতরে যে বিচিগুলো থাকে, সেটাই মুখে দিই। কিন্তু ওকে দেখলাম পুরো এলাচটাই মুখে দিয়েছে। আরও পড়ুনউপহার পৌঁছে দিতে গিয়ে থমকে যেতে হয়  এরপর ঘটেছে মজার কাণ্ড! খানিক বাদে ওর মুখের ভেতর আর ঠোঁটও কিছুটা সবুজ রং হয়ে গেছে! সাদা চামড়া, নীল চোখের এই মানুষটার লাল ঠোঁট কিছুটা সবুজ সবুজ মনে হচ্ছিলো। আমাদের বসার রুমে আয়না আছে। আমিই ব্যাপারটা খেয়াল কর

এলাচিতে রং মেশাতে হচ্ছে কেন

আমিনুল ইসলাম

আমার পোস্টে এলাচির ছবি দেখে অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়ই। ভাবছেন—সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি কিংবা বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা মানুষটা এলাচির ছবি আপলোড করছে কেন!

প্রতিবার দেশে গেলে আমি গরম মসলা, হলুদ-মরিচ এইসব নিয়ে আসি। এখানে সেভাবে পাওয়া যায় না। যেহেতু বছরে তিন-চার বার দেশে যাওয়া হয়; তাই এইসব মসলাগুলো সাথে করে নিয়ে আসি। এবারও এনেছি।

গতকাল সন্ধ্যার পর আমার সহকর্মী, আমরা দুইজন এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সাথে ‘গবেষণা পদ্ধতি’ কোর্সটা পড়াই। সে কিছুক্ষণ পর পর কাশছিল। আমি ওকে বললাম, ‘তুমি এলাচি খেয়ে দেখতে পারো।’
ও বলল, ‘তোমার কাছে আছে?’
‘হ্যাঁ।’

আমার ব্যাগে সব সময় আমি কিছু এলাচ আর লবঙ্গ রাখি। তো, ওকে একটা দিলাম। সে খোসা সহই মুখে দিয়েছে। আমি সাধারণত খোসা ফেলে দিয়ে ভেতরে যে বিচিগুলো থাকে, সেটাই মুখে দিই। কিন্তু ওকে দেখলাম পুরো এলাচটাই মুখে দিয়েছে।

এরপর ঘটেছে মজার কাণ্ড! খানিক বাদে ওর মুখের ভেতর আর ঠোঁটও কিছুটা সবুজ রং হয়ে গেছে! সাদা চামড়া, নীল চোখের এই মানুষটার লাল ঠোঁট কিছুটা সবুজ সবুজ মনে হচ্ছিলো। আমাদের বসার রুমে আয়না আছে। আমিই ব্যাপারটা খেয়াল করেছি। এরপর সে আয়নায় দেখে বলছে, ‘কী ব্যাপার! আমার ঠোঁট সবুজ রং হয়ে গেল কেন?’
আমি হেসে বললাম, ‘এলাচ খাচ্ছো তো এই জন্য।’

কিন্তু আমি তো জানি, সবুজ রং হওয়ার কারণ হয়তো এই এলাচে ভেজাল আছে। বাংলাদেশ থেকে আনা বলে কথা! এরপর বাসায় এসে পানি দিয়ে ঘঁষা দিতেই দেখি হালকা রং বের হচ্ছে।

আমি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারি নাই—এলাচিতেও রং মেশাবে কেউ কোনো দিন। তাহলে চিন্তা করেন—বাংলাদেশে বসে আপনারা কী খাচ্ছেন। এখানে কাকে দোষ দেব? যে দোকান থেকে কিনে এনেছি, তারা নিজেরাও হয়তো জানে না। কিন্তু সামান্য এলাচিতেও যদি এভাবে রং মেশাতে হয়। তাহলে অন্যান্য খাবারের কী অবস্থা?

আর এলাচিতে রং মেশাতে হচ্ছে কেন? আমি তো জীবনে কোনো দিন এলাচের দিকে তাকিয়েও দেখি না। শুধু শুধু কেন রং মেশাতে হয়? এভাবে যদি আপনারা ভেজাল মেশাতে থাকেন। তাও আবার খাদ্য, যেগুলো আমাদের পেটে যায়। তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কী খেয়ে বড় হচ্ছে! দেশ-সমাজ তো ধ্বংস হয়ে যাবে।

লেখক: জ্যেষ্ঠ প্রভাষক, এস্তোনিয়ান এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ইউনিভার্সিটি।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow