এস এম সুলতানের জন্মবার্ষিকীতে ‘দোলন ছবি আঁকা উৎসব-২০২৬'

একজন শিল্পী কেবল ক্যানভাসে ছবি আঁকেন না, কখনো কখনো তিনি একটি সময়কে আঁকেন, একটি জনপদের জীবনকে আঁকেন, মানুষের ঘাম, সংগ্রাম আর স্বপ্নকে রঙে-রেখায় বাঁচিয়ে রাখেন। এস এম সুলতান ছিলেন তেমনই এক শিল্পী। তার তুলিতে বাংলার কৃষক হয়ে উঠেছে শক্তির প্রতীক, গ্রাম হয়ে উঠেছে সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র। সেই কিংবদন্তি শিল্পীর ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দোলন ছবি আঁকা উৎসব ২০২৬’।  ১৪ আগষ্ট বিকেলে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শিল্পপ্রেমী, চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীদের উপস্থিতিতে স্মরণ করা হয় বাংলার মাটি ও মানুষের শিল্পী এস এম সুলতানকে। আয়োজনে ছিল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শিল্পীর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা, স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ১ম থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনটি বিভাগে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রতিটি বিভাগ থেকে পাঁচজন করে মোট ১৫ জন বিজয়ী হয়। প্রথম বিভাগে বিজয়ীরা হলেন সৃষ্টিকা কালওয়ান, মেহরীমা নওমী, ওজিহা হাসান আবিরা, সোওয়াইব ওসিত্ত, সিতওয়ার সামান্তা, খ বিভাগে জুই দাস, অনুভব ধর অবয়, তাসফিয়া মহিব, ওফিয়

এস এম সুলতানের জন্মবার্ষিকীতে ‘দোলন ছবি আঁকা উৎসব-২০২৬'

একজন শিল্পী কেবল ক্যানভাসে ছবি আঁকেন না, কখনো কখনো তিনি একটি সময়কে আঁকেন, একটি জনপদের জীবনকে আঁকেন, মানুষের ঘাম, সংগ্রাম আর স্বপ্নকে রঙে-রেখায় বাঁচিয়ে রাখেন। এস এম সুলতান ছিলেন তেমনই এক শিল্পী। তার তুলিতে বাংলার কৃষক হয়ে উঠেছে শক্তির প্রতীক, গ্রাম হয়ে উঠেছে সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র। সেই কিংবদন্তি শিল্পীর ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দোলন ছবি আঁকা উৎসব ২০২৬’। 

১৪ আগষ্ট বিকেলে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শিল্পপ্রেমী, চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীদের উপস্থিতিতে স্মরণ করা হয় বাংলার মাটি ও মানুষের শিল্পী এস এম সুলতানকে। আয়োজনে ছিল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শিল্পীর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা, স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ১ম থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনটি বিভাগে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রতিটি বিভাগ থেকে পাঁচজন করে মোট ১৫ জন বিজয়ী হয়। প্রথম বিভাগে বিজয়ীরা হলেন সৃষ্টিকা কালওয়ান, মেহরীমা নওমী, ওজিহা হাসান আবিরা, সোওয়াইব ওসিত্ত, সিতওয়ার সামান্তা, খ বিভাগে জুই দাস, অনুভব ধর অবয়, তাসফিয়া মহিব, ওফিয়া হাসান অজীবা ওকামরুন্নাহার এবং গ বিভাগে প্রতয় পাল রাজ, সয়ন বাইরি, তাসফিয়া আক্তার, নাবিহা তাহসিন, মেহররাব জামান আরিয়ান। ক্যানভাসে রঙ-তুলির আঁচড়ে অংশগ্রহণকারীরা ফুটিয়ে তোলেন বাংলার প্রকৃতি, মানুষ ও গ্রামীণ জীবনের নানা অনুষঙ্গ। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক বীরেন সোম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের শিক্ষক ও শিল্পী এ এফ এম মনিরুজ্জামান শিপু এবং শিল্পী ও সংগঠক সুজন মাহবুব। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ‘দোলন’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক কামাল মুস্তাফা ও চিত্রশিল্পী সনিয়া বিনতে হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্মাতা আজাদ আবুল কালাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক বীরেন সোম বলেন, “আমাদের দেশে সুলতানকে সবাই চিননতো না। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জার্মানিতে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার পরে তিনি সুলতানের আঁকা একটা উপহার পায়। পরে ঢাকা এসে তাকে সম্মানার দেওয়া হয় এবং তাকে সরকারি ভাবে শিল্পকলায় আকাঁর সুযোগ করে দেওয়া হয়। কিন্তু উনি বন্দি জীবন কাটাতে পারে পারতেন না। তিনি ছিলেন মুক্ত মনা মানুষ। তাই তিনি সেখান থেকে চলে যান।

তিনি আরও বলেন, আমি শিশুদের ছবি আকা দেখে আশ্চর্য হয়ে ঘেলাম, আমরা এত ছোটবেলায় এমন ছবি কোনভাবেই আঁকতে পারতাম না। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্পী ও শিক্ষক এ এফ এম মনিরুজ্জামান শিপু বলেন, আমি আজকের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পরে যখন তোমাদের দৌড়াতে দেখছিলাম তখন মনে হয়েছিলো আমি এখানে সুলতান কেই দোখছি।

শিল্পী ও সংগঠক সুজন মাহবুব বলেন, “​শিল্পী শেখ মোহাম্মদ সুলতান ছিলেন মাটি ও মানুষের শিল্পী। তার তুলির আঁচড়ে বাংলার মেহনতি মানুষের যে পেশিবহুল রূপ আমরা দেখি, তা মূলত আমাদের লোকজীবনের শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। তবে এই মহীরুহের হৃদয়ের এক অতল স্থান জুড়ে ছিল শিশুরা।’’

সুলতানের শিল্পদর্শনের মূল কথাই ছিল শিশুর স্বাধীন ও ভয়হীন মানসিক বিকাশ। তিনি বিশ্বাস করতেন, কোনো ভালো কাজ ভীতি বা শঙ্কার ভেতর থেকে জন্ম নিতে পারে না। তাই শিশুদের মনের সব জড়তা, ভয় ও শঙ্কা দূর করে তাদের আনন্দের মাঝে বেড়ে উঠতে দিতে হবে। সুলতান বলতেন—“সত্যিকারের ভালো কাজ জীবনের আনন্দ থেকেই নিঃসৃত হয় এবং সেই ভালো কাজই মানুষকে পরম আনন্দ দেয়।” এই আনন্দময় শিক্ষার পাঠই আমাদের শিশুদের দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্মাতা আজাদ আবুল কালাম বলেন, “ছবি গুলা আমাকে সত্যি মুগ্ধ করেছে, এই বাচ্চাদের মাঝে থেকেই একদিন বড় হয়ে লালমিয়া থেকে বড় শিল্পী হবে একটি দেশের জন্য অনেক কিছু দরকার হয় কিন্তু আমার মনে হয় সবচেয়ে বেশি দরকার হয় শিল্পী।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow