ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ, ১০৪ বছরেও নির্মিত হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ

আজ ২৭ জানুয়ারি, ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস। ১৯২২ সালের এই দিনে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনীর গুলিতে সলঙ্গার হাটে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলনের কর্মীসহ সাধারণ হাটুরে জনতা শহীদ হন। ব্রিটিশ শাসনামলে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলনে জনতা উদ্বেলিত হয়ে বিলেতি পণ্য বর্জন করে স্বদেশী পণ্য ব্যবহারের সংগ্রাম শুরু করেছিল। এমনি একটি আন্দোলনের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে সলঙ্গায়। সে সময় তৎকালীন পাবনা জেলার এবং বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গায় একটি ব্যবসায়িক জনপদ হিসেবে সপ্তাহে ২ দিন হাট বসত।১৯২২ সালের ২৭ শে জানুয়ারি শুক্রবার ছিল বড় হাটবার। মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের কর্মীরা হাটে নামে বিলেতি পণ্য কেনাবেচা বন্ধ করতে। আর এই স্বদেশী আন্দোলনের কর্মীদের রুখতে ছুটে আসে পাবনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আর. এন. দাস, জেলা পুলিশ সুপার ও সিরাজগঞ্জ মহকুমা প্রশাসক এস. কে. সিনহা সহ ৪০ জন সশস্ত্র লাল পাগড়িওয়ালা পুলিশ। সলঙ্গার গো-হাটায় ছিল বিপ্লবী স্বদেশী কর্মীদের অফিস। পুলিশ কংগ্রেস অফিস ঘেরাও পূর্বক গ্রেফতার করে মাওলা

ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ, ১০৪ বছরেও নির্মিত হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ

আজ ২৭ জানুয়ারি, ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস। ১৯২২ সালের এই দিনে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনীর গুলিতে সলঙ্গার হাটে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলনের কর্মীসহ সাধারণ হাটুরে জনতা শহীদ হন। ব্রিটিশ শাসনামলে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলনে জনতা উদ্বেলিত হয়ে বিলেতি পণ্য বর্জন করে স্বদেশী পণ্য ব্যবহারের সংগ্রাম শুরু করেছিল। এমনি একটি আন্দোলনের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে সলঙ্গায়। সে সময় তৎকালীন পাবনা জেলার এবং বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গায় একটি ব্যবসায়িক জনপদ হিসেবে সপ্তাহে ২ দিন হাট বসত।

১৯২২ সালের ২৭ শে জানুয়ারি শুক্রবার ছিল বড় হাটবার। মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের কর্মীরা হাটে নামে বিলেতি পণ্য কেনাবেচা বন্ধ করতে। আর এই স্বদেশী আন্দোলনের কর্মীদের রুখতে ছুটে আসে পাবনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আর. এন. দাস, জেলা পুলিশ সুপার ও সিরাজগঞ্জ মহকুমা প্রশাসক এস. কে. সিনহা সহ ৪০ জন সশস্ত্র লাল পাগড়িওয়ালা পুলিশ। সলঙ্গার গো-হাটায় ছিল বিপ্লবী স্বদেশী কর্মীদের অফিস। পুলিশ কংগ্রেস অফিস ঘেরাও পূর্বক গ্রেফতার করে মাওলানা আব্দুর রশিদকে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্ত করতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিদ্রোহে ফেটে পড়ে সলঙ্গার সংগ্রামী জনতা। জনতার ঢল ও আক্রোশ দেখে ম্যাজিস্ট্রেট জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়। শুরু হয়ে যায় বুলেট বৃষ্টি। ৪০টি রাইফেলের মধ্যে মাত্র ১টি রাইফেল থেকে কোনো গুলি বের হয়নি। এই রাইফেলটি ছিল একজন ব্রাহ্মণ পুলিশের। হত্যাকাণ্ডে হতাহতের সরকারি সংখ্যা সাড়ে ৪ হাজার দেখানো হলেও বেসরকারি মতে ১০ হাজারেরও অধিক বলে জানা যায়।

দিবসটি পালন উপলক্ষে প্রতি বছর মাওলানা আব্দুর তর্কবাগীশ পাঠাগার ও সলঙ্গা সমাজ কল্যাণ সমিতি ৩ দিন ব্যাপী কর্মসূচী হাতে নেয়, কিন্তু এ বছর ১ দিনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সরকারি বেগম নূরুন নাহার তর্কবাগীশ অনার্স কলেজ, তর্কবাগীশ মহিলা মাদ্রাসা, তর্কবাগীশ উচ্চ বিদ্যালয়, বিদ্রোহী সলঙ্গা ও সলঙ্গা ফোরাম পৃথক পৃথক ভাবে আলোচনা সভা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, র‌্যালি ও পুরস্কার বিতরণ সহ নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।

এদিকে ১০৪ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদদের স্মরণে সলঙ্গায় নির্মাণ হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় গত ২৮ জানুয়ারি ২০০৬ সালে স্থানীয় সাবেক এমপি আব্দুল মান্নান তালুকদার একটি ফলক উন্মোচন করলেও নির্মাণ করতে পারেননি স্মৃতিস্তম্ভ। গত প্রায় ৫ বছর আগে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা: আব্দুল আজিজ শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, লাইব্রেরী ও রিসার্চ সেন্টার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তা এখনো নির্মিত হয়নি। দিবসটি সরকারি ভাবে পালনের জন্য দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরকারি ভাবে দিবসটি পালন না হলেও স্থানীয় ভাবে দিবসটি পালন করা হয়।

সলঙ্গা মাওলানা আব্দুর তর্কবাগীশ পাঠাগার ও সলঙ্গা সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি গজেন্দ্রনাথ মন্ডল জানান, সলঙ্গা বিদ্রোহের স্থানটিতে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য সরকারি ভাবে পাশ হয়েছে শুনেছি। স্থানও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অবৈধ দখলদারদের জন্য নির্মাণ করতে পারে নি স্মৃতিস্তম্ভ - লাইব্রেরি বা রিসার্চ সেন্টার। এবছর এক দিনের নানান কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow