ওলামা দলের নেতাসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহে সিজান (২৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মসজিদের ইমাম ও ওলামা দলের নেতাসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৪-১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) নিহত সিজানের মা শিল্পী বেগম (৪৪) বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন- পশ্চিম মাসদাইরের আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খেলাফত মজলিসের সদর থানা শাখার সাবেক সহসভাপতি মুফতি কাউছার আহাম্মেদ কাসেমী (৪০), জেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনি (৫০), জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ফতুল্লা থানার আহ্বায়ক জিলানী ফকির (৫৫), একই এলাকার বাসিন্দা আজহার রাজমিস্ত্রি (৫৫), সাইদুল (৪২) ও আলম (৩৮)। এছাড়াও অজ্ঞাত আরও ১৪-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, সিজান একসময় অসৎ সঙ্গের কারণে বিপথগামী হলেও পরে তাবলিগ জামাতে অংশ নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন এবং বড় ভাইয়ের কাঁচামালের ব্যবসায় সহযোগিতা করতেন। গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে অনিক নামে এক ব্যক্তিকে মোবাইল ছিনতাইয়ের সন্দেহে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অনিক স

ওলামা দলের নেতাসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহে সিজান (২৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মসজিদের ইমাম ও ওলামা দলের নেতাসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৪-১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) নিহত সিজানের মা শিল্পী বেগম (৪৪) বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন- পশ্চিম মাসদাইরের আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খেলাফত মজলিসের সদর থানা শাখার সাবেক সহসভাপতি মুফতি কাউছার আহাম্মেদ কাসেমী (৪০), জেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনি (৫০), জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ফতুল্লা থানার আহ্বায়ক জিলানী ফকির (৫৫), একই এলাকার বাসিন্দা আজহার রাজমিস্ত্রি (৫৫), সাইদুল (৪২) ও আলম (৩৮)। এছাড়াও অজ্ঞাত আরও ১৪-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, সিজান একসময় অসৎ সঙ্গের কারণে বিপথগামী হলেও পরে তাবলিগ জামাতে অংশ নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন এবং বড় ভাইয়ের কাঁচামালের ব্যবসায় সহযোগিতা করতেন।

গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে অনিক নামে এক ব্যক্তিকে মোবাইল ছিনতাইয়ের সন্দেহে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অনিক সিজানের নাম বললে আলমসহ আল ফালাহ সমাজকল্যাণ সংঘের কয়েকজন সদস্য সিজানকে তার বাসার সামনে থেকে খলিলের মোড়ে নিয়ে যান। সেখানে ইমন নামে এক ব্যক্তি সিজানের বিরুদ্ধে তার মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর সিজান ও অনিককে আল ফালাহ সমাজকল্যাণ সংঘের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে স্টিলের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। এতে সিজানের ডান পায়ের হাঁটুর নিচের হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। মারধরের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযুক্তরা সিজানকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়। তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাত ৮টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর আলম বলেন, নিহতের মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

অন্যদিকে মামলার অন্যতম আসামি ও আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম কাউছার আহমেদ কাশেমী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সিজান ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যার মোবাইল ছিনতাই হয়েছে, সেই ব্যক্তি এবং ঘটনার বিষয়ে ভিডিও বক্তব্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি জেনেছি। আইনি প্রক্রিয়ায় মামলার মোকাবিলা করব।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow