কখন ডিম খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ডিমকে বলা হয় প্রকৃতির অন্যতম ‘সুপারফুড’। সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খাবারটি শিশু থেকে বয়স্ক— সব বয়সী মানুষের খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। তবে ডিম খাওয়ার সময় নিয়ে অনেকের মনেই দ্বিধা রয়েছে। কেউ সকালে পাউরুটির সঙ্গে ডিম খেতে অভ্যস্ত, আবার কেউ দুপুরের গরম ভাতের সঙ্গে কষা ডিমের ডালনাই বেশি পছন্দ করেন। তাহলে পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ডিম খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় কোনটি? কখন খেলে শরীর সবচেয়ে ভালোভাবে প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করতে পারে, সে বিষয়েই মত দিয়েছেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা। ডিম খাওয়ার সেরা সময় : সকাল না দুপুর? চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম খাওয়ার জন্য সকালের নাশতা বা ব্রেকফাস্টই সবচেয়ে আদর্শ সময়। কেন সকালকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, তার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরেছেন তারা। ১. দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। সকালে ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। এতে দুপুরের খাবারের আগে বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে এবং অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার ঝোঁকও নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা ওজন কমাতে চান, তাদের
ডিমকে বলা হয় প্রকৃতির অন্যতম ‘সুপারফুড’। সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খাবারটি শিশু থেকে বয়স্ক— সব বয়সী মানুষের খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। তবে ডিম খাওয়ার সময় নিয়ে অনেকের মনেই দ্বিধা রয়েছে। কেউ সকালে পাউরুটির সঙ্গে ডিম খেতে অভ্যস্ত, আবার কেউ দুপুরের গরম ভাতের সঙ্গে কষা ডিমের ডালনাই বেশি পছন্দ করেন।
তাহলে পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ডিম খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় কোনটি? কখন খেলে শরীর সবচেয়ে ভালোভাবে প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করতে পারে, সে বিষয়েই মত দিয়েছেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা।
ডিম খাওয়ার সেরা সময় : সকাল না দুপুর?
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম খাওয়ার জন্য সকালের নাশতা বা ব্রেকফাস্টই সবচেয়ে আদর্শ সময়। কেন সকালকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, তার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরেছেন তারা।
১. দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে
ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। সকালে ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। এতে দুপুরের খাবারের আগে বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে এবং অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার ঝোঁকও নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য সকালের নাশতায় ডিম রাখা অত্যন্ত উপকারী।
২. মেটাবলিজম ও শক্তি বাড়ায়
সারারাত উপোস থাকার পর সকালে শরীরের পুষ্টির চাহিদা বেশি থাকে। ডিমের প্রোটিন শরীরের মেটাবলিজম রেট বা বিপাক হার বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে থাকা ভিটামিন বি-১২ সারাদিনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়।
৩. পেশি গঠন ও মেরামতে সহায়ক
ঘুমের সময় শরীরের পেশিতে যে ক্ষয় হয়, সকালের ডিমের প্রোটিন তা দ্রুত মেরামতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করেন, তাদের জন্য সকালের ডিমকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
দুপুরে ভাতের সঙ্গে ডিম খেলে কী হয়?
বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতিতে দুপুরে ভাতের সঙ্গে ডিমের ঝোল বা অমলেট একটি পরিচিত খাবার। এতে উপকার নেই তা নয়, তবে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা জরুরি বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।
হজমের বিষয় : দুপুরে ভাতের মতো কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ডিম খেলে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হতে পারে।
পুষ্টি শোষণ : সকালে খালি পেটে বা হালকা খাবারের সঙ্গে ডিম খেলে শরীর যেভাবে পুষ্টি শোষণ করে, দুপুরের ভারী খাবারের সঙ্গে খেলে সেই শোষণের হার কিছুটা কমে যেতে পারে।
ভারী অনুভূতি : অনেকের ক্ষেত্রে দুপুরে ভাতের সঙ্গে ডিম খেলে পেটে ভারী ভাব বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কখন ডিম খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে ডিম খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো। ডিমের প্রোটিন হজম হতে সময় নেয়, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে কিংবা এসিডিটির সমস্যা তৈরি করতে পারে।
দরকারি কথা
আপনি যদি কর্মক্ষমতা বাড়াতে চান এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাহলে সকালের নাশতায় ডিম রাখাই সবচেয়ে ভালো। তবে আপনি যদি সুস্থ থাকেন এবং দুপুরের খাবারে প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিম খান, তাতেও কোনো ক্ষতি নেই। মূল কথা হলো— দিনে অন্তত একটি ডিম খাওয়া সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
What's Your Reaction?