কঠোর আমিনুল, কাল থেকেই জাতীয় স্টেডিয়ামে মোবাইল কোর্ট

জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেই সরাসরি চলে গেলেন নতুন লাগানো সবুজ ঘাসে। নভেম্বরে এ মাঠে হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তার আগে লাগানো হয়েছে নতুন ঘাস। খেলোয়াড়ি জীবনে অনেক স্মৃতি এই সবুজের বুকে। পরম যত্নে হাত বুলিয়ে একটা মুহূর্ত সে স্মৃতি হাতড়ে বেড়ালেন আমিনুল হক। এরপর সদলবদলে বের হয়ে গেলেন জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে অবস্থিত বিভিন্ন ক্রীড়া স্থাপনা পরিদর্শনে। খেলোয়াড়ি জীবন ছেড়ে এখন তিনি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। যে আঙিনা তাকে দিয়েছে তারকাখ্যাতি, সেই কমপ্লেক্স ঘুরে দেখে ফেললেন দীর্ঘশ্বাস। হতাশ কণ্ঠে বললেন, ‘সত্যি আমি ভীষণ হতাশ হয়েছি। আমাদের ঐতিহ্যবাহী এই ঢাকা স্টেডিয়াম, আমাদের হকি স্টেডিয়াম এবং অন্যান্য যে ক্রীড়া অবকাঠামোগুলো রয়েছে— সেগুলোতে আমরা খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই। স্টেডিয়ামপাড়াকে আসলে আমরা এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারিনি।’ এরপরই দিলেন জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ ফেরানোর প্রতিশ্রুতি। যদিও এরকম প্রতিশ্রুতি আগের অনেক মন্ত্রী-উপদেষ্টারা দিয়েছেন। তবে সেসব ছিল ফাঁকা বুলি। আমিনুল সত্যিকারেই সে প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেন কি না, তা সময় বলে দেবে। জাতীয় স্টেডিয়া

কঠোর আমিনুল, কাল থেকেই জাতীয় স্টেডিয়ামে মোবাইল কোর্ট

জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেই সরাসরি চলে গেলেন নতুন লাগানো সবুজ ঘাসে। নভেম্বরে এ মাঠে হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তার আগে লাগানো হয়েছে নতুন ঘাস। খেলোয়াড়ি জীবনে অনেক স্মৃতি এই সবুজের বুকে। পরম যত্নে হাত বুলিয়ে একটা মুহূর্ত সে স্মৃতি হাতড়ে বেড়ালেন আমিনুল হক। এরপর সদলবদলে বের হয়ে গেলেন জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে অবস্থিত বিভিন্ন ক্রীড়া স্থাপনা পরিদর্শনে। খেলোয়াড়ি জীবন ছেড়ে এখন তিনি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। যে আঙিনা তাকে দিয়েছে তারকাখ্যাতি, সেই কমপ্লেক্স ঘুরে দেখে ফেললেন দীর্ঘশ্বাস।

হতাশ কণ্ঠে বললেন, ‘সত্যি আমি ভীষণ হতাশ হয়েছি। আমাদের ঐতিহ্যবাহী এই ঢাকা স্টেডিয়াম, আমাদের হকি স্টেডিয়াম এবং অন্যান্য যে ক্রীড়া অবকাঠামোগুলো রয়েছে— সেগুলোতে আমরা খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই। স্টেডিয়ামপাড়াকে আসলে আমরা এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারিনি।’ এরপরই দিলেন জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ ফেরানোর প্রতিশ্রুতি। যদিও এরকম প্রতিশ্রুতি আগের অনেক মন্ত্রী-উপদেষ্টারা দিয়েছেন। তবে সেসব ছিল ফাঁকা বুলি। আমিনুল সত্যিকারেই সে প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেন কি না, তা সময় বলে দেবে।

জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে পাশের মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামের বাইরের আঙিনা ঘুরে নানা অসংগতি খুঁজে পেয়েছেন। যত্রতত্র পার্কিং এ অঞ্চলের অন্যতম বড় সমস্যা। এ ছাড়া ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, বিপণিবিতানগুলোর ফুটপাত দখল করে নেওয়া এবং সন্ধ্যা নামলেই মাদককারবারি, ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য হয়ে ওঠার খবর ভালোই জানা আমিনুলের। বিভিন্ন বিপণিবিতানের মালিক-চাকুরেদের ডেকে ভাড়াও জানতে চেয়েও বিস্মিত হলেন। কারণ কেউই মন্ত্রীর কাছে সত্যিকারের ভাড়া কিংবা কোন প্রক্রিয়ায় ভাড়া নিয়েছে— জানাতে চাননি।

এ সবকিছুই আমলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রীড়া অবকাঠামোগুলোকে ক্রীড়াবান্ধব রূপ দেওয়ার কথা বলেন আমিনুল, ‘আমাদের সঙ্গে আমাদের সচিব এবং আমাদের পুলিশ কমিশনারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা রয়েছেন। আমাদের আইজি প্রিজনও রয়েছেন। আমরা প্রথমত এই ক্রীড়া অবকাঠামোগুলোর চারপাশকে ক্রীড়াবান্ধব করে তুলতে ব্যবস্থা নেব। এর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনা মোতাবেক আমরা এখানে এসেছি এবং আমরা প্রতিটি অবকাঠামো ও এলাকার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেছি। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, সন্ধ্যার পর মাদকের রাজত্ব কায়েম হয়। এ ছাড়া ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম হয়। এগুলো নির্মূলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা এখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করব এবং পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করে যাতে সন্ধ্যার পরে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা না ঘটে।’

দোকান মালিকদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমিনুল। মানুষজনের হাঁটার পথে সরঞ্জামাদি রাখলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। ‘পুলিশ এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ যৌথভাবে এখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেবে, যাতে পর্যায়ক্রমে স্টেডিয়ামকে ক্রীড়াবান্ধব রূপে গড়ে তোলা যায়। পাশাপাশি কিছু অবকাঠামো খুব জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। হকি স্টেডিয়াম, জাতীয় স্টেডিয়ামের বিভিন্ন গেটগুলো ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে আছে, আশপাশের রাস্তাগুলোর অবস্থাও বেশ খারাপ। আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলে ময়লা-আবর্জনা সরানোর ব্যবস্থা করব।’

দেশের সর্ববৃহৎ ইলেকট্রনিক পণ্যের মার্কেট হিসেবে পরিচিত এই জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্স। স্টেডিয়ামগুলোতে হাজারের বেশি দোকান রয়েছে, যা থেকে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। মান্ধাতা আমলের মূল্যে এসব দোকান লিজ দিয়েছে ক্রীড়া পরিষদ, যেগুলো নতুনভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ সেভাবে কোনো সরকারই নেয়নি। আমিনুল এক সপ্তাহের মধ্যে একটা হালনাগাদ তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছে ক্রীড়া পরিষদকে।

যা দেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোকানগুলোর ভাড়া বা লিজ পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি, ‘আমি ইতিমধ্যে ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালককে নির্দেশনা দিয়েছি যাতে আগামীকাল থেকেই দোকানগুলোর সঙ্গে কোন কোন ভিত্তিতে চুক্তি রয়েছে, কাকে কীভাবে লিজ দেওয়া হয়েছে, তাদের ভাড়া কত- এ সবকিছু তালিকাভুক্ত করতে। ক্রীড়া পরিষদের এই বাবদ যে রাজস্ব পাওয়ার কথা, সেটা পাচ্ছে না। তার সরকার, জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে। রাজস্ব যাতে সঠিকভাবে পায়, সে জন্য আমরা পুনর্মূল্যায়ন করব। এমনও শুনেছি, স্কয়ার ফিট বাবদ মাত্র ১৭ টাকা বা ২২ টাকা বা ২০ টাকার রেট করা আছে। দোকানদারদের আমি জিজ্ঞাসা করেও সঠিক ভাড়া জানতে পারিনি। আমরা তাই দ্রুত তথ্য নিয়ে বসে সবকিছু পুনর্বিবেচনার ব্যবস্থা করব।’

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ স্টেডিয়ামের ভেতরে যান চলাচল, পার্কিং ও গেটের ইজারা বাবদ বছরে একটা বড় অঙ্কের টাকা পায়। অথচ শুধু সাধারণ যান চলাচল এবং পার্কিং তুলে দিলেই এই কমপ্লেক্সের পরিবেশ অনেকটাই ক্রীড়াবান্ধব হয়ে উঠবে। এই সহজ সত্যটা আমিনুল ও তার অধীনস্থরা ধারণ করলেই হলো।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow