কথা কম বলার অভ্যাস মানেই আবেগহীনতা নয়
বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। এখন অনেকেই বুঝতে শিখেছেন যে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা মানসিক সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সবাই একইভাবে আবেগ প্রকাশ করেন না। কেউ সহজেই নিজের আনন্দ, কষ্ট বা রাগের কথা বলে ফেলেন, আবার কেউ সব অনুভূতি নিজের ভেতরেই রাখেন। তাই কেউ যদি সহজে নিজের আবেগ প্রকাশ না করেন, তার মানে এই নয় যে তিনি অনুভূতিহীন বা অন্যের প্রতি উদাসীন। অনেক সময় একজন মানুষ ভেতরে গভীরভাবে সবকিছু অনুভব করলেও তা ভাষায় প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। গভীরভাবে অনুভব করা আর প্রকাশ করা এক নয় মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অনুভূতি থাকা আর সেই অনুভূতি প্রকাশ করা- এই দুটি বিষয় এক নয়। অনেক মানুষ খুব সংবেদনশীল হয়। তারা নিজের আবেগ প্রকাশের বদলে নীরবে তা নিজের মতো করে সামলাতে পছন্দ করেন।বিশেষ করে বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জীবনের সবকিছু শেয়ার করার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে অনেক সময় মনে হয়, সবাইকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেই হবে। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই নিজের আবেগ নিয়ে একা ভাবতে বা সময় নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এটিও একটি স্বাভাবিক আচরণ। কেন কেউ আবেগ প্রকাশ করতে পারেন না? প্রত্য
বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। এখন অনেকেই বুঝতে শিখেছেন যে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা মানসিক সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সবাই একইভাবে আবেগ প্রকাশ করেন না। কেউ সহজেই নিজের আনন্দ, কষ্ট বা রাগের কথা বলে ফেলেন, আবার কেউ সব অনুভূতি নিজের ভেতরেই রাখেন।
তাই কেউ যদি সহজে নিজের আবেগ প্রকাশ না করেন, তার মানে এই নয় যে তিনি অনুভূতিহীন বা অন্যের প্রতি উদাসীন। অনেক সময় একজন মানুষ ভেতরে গভীরভাবে সবকিছু অনুভব করলেও তা ভাষায় প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।
গভীরভাবে অনুভব করা আর প্রকাশ করা এক নয়
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অনুভূতি থাকা আর সেই অনুভূতি প্রকাশ করা- এই দুটি বিষয় এক নয়। অনেক মানুষ খুব সংবেদনশীল হয়। তারা নিজের আবেগ প্রকাশের বদলে নীরবে তা নিজের মতো করে সামলাতে পছন্দ করেন।
বিশেষ করে বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জীবনের সবকিছু শেয়ার করার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে অনেক সময় মনে হয়, সবাইকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেই হবে। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই নিজের আবেগ নিয়ে একা ভাবতে বা সময় নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এটিও একটি স্বাভাবিক আচরণ।
কেন কেউ আবেগ প্রকাশ করতে পারেন না?
প্রত্যেক মানুষের বেড়ে ওঠার পরিবেশ, পারিবারিক শিক্ষা, ব্যক্তিত্ব এবং অতীতের অভিজ্ঞতা আলাদা। এসব বিষয়ই নির্ধারণ করে একজন মানুষ কীভাবে নিজের আবেগ প্রকাশ করবেন।
কেউ ছোটবেলা থেকেই হয়তো শিখেছেন, কান্না বা দুর্বলতা দেখানো ঠিক নয়। আবার কেউ জীবনের কোনো কঠিন অভিজ্ঞতার কারণে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে ভয় পান। অনেকেই প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কায় নিজের মনের কথা গোপন রাখেন।
অর্থাৎ আবেগ প্রকাশ না করার পেছনে সব সময় নেতিবাচক কারণ থাকে না।
আবেগ দমন আর সংযম দুটি আলাদা বিষয় । মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আবেগ প্রকাশ না করার পেছনে সাধারণত দুটি ভিন্ন বিষয় কাজ করতে পারে।
আবেগ দমন
একজন মানুষ নিজের কষ্ট, ভয় বা দুঃখকে স্বীকারই করতে চান না। তিনি নিজের অনুভূতিকে এড়িয়ে যান বা চাপা দিয়ে রাখেন। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সংযম
এতে ব্যক্তি নিজের অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন থাকেন, কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে তা সাময়িকভাবে প্রকাশ করেন না।
ধরুন, পরিবারের কোনো বড় সমস্যা চলছে। কিন্তু অফিসে গিয়ে তিনি কাজের স্বার্থে নিজেকে স্বাভাবিক রাখছেন। এটি আবেগ লুকিয়ে রাখা নয়, বরং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি মানসিক দক্ষতা।
নীরব মানেই আবেগহীন নয়
অনেক সময় আমরা এমন মানুষকে ভুল বুঝে বসি, যিনি খুব বেশি কথা বলেন না বা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন না। কিন্তু তার নীরবতার আড়ালে গভীর অনুভূতি লুকিয়ে থাকতে পারে।
এমন মানুষরা অনেক সময় অন্যের কথা মন দিয়ে শোনেন, সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন এবং নিজের অনুভূতিগুলো নিয়ে দীর্ঘ সময় ভাবেন। তারা হয়তো কথার বদলে কাজের মাধ্যমে ভালোবাসা বা যত্ন প্রকাশ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
যখন সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন
সব সময় আবেগ প্রকাশ না করা সমস্যা নয়। তবে যদি কেউ দীর্ঘদিন নিজের সব অনুভূতি চেপে রাখেন, কারো সঙ্গে কথা বলতে না পারেন, সব সময় একা থাকতে চান বা মানসিক চাপের কারণে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো সহায়তা নিলে মানসিক চাপ কমানো এবং নিজের অনুভূতি স্বাস্থ্যকরভাবে প্রকাশ করার উপায় শেখা সম্ভব।

পরকীয়া ধরা পড়ে যেসব আচরণে
সূত্র: মিডিয়াম, ভেরি ওয়ের মাইন্ড ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?
