‘কম ঘুষে ঘোরাঘুরি, বেশি ঘুষে তাড়াতাড়ি’

ঝিনাইদহের মহেশপুর নাটিমা ইউনিয়নে কর্মরত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালার বাইরে গিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এখানে ঘুষ দিয়ে সেবা নিতে হয়। এমনকি ঘুষ কম দিলেও ঘোরাঘুরি করতে হয়। দ্রুত সেবা নেওয়ার একমাত্র মাধ্যম বেশি ঘুষ দেওয়া। সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ শোনা যায়।    ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরাসরি কারও সঙ্গে কথা বলেন না। তার অফিসের পিয়ন সুবাশ বিশ্বাস সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। চুক্তি বা টাকা দিলে দ্রুত কাজ হয়। অন্যথায় সেবা পেতে দিনের পর দিন, এমনকি মাসও অপেক্ষা করতে হয়। ফলে সেবাপ্রার্থীরা টাকা দিতে বাধ্য হয়।  এ ছাড়া জমির মিউটিশন করা ও খাজনা কাটানোর ক্ষেত্রে বেশি দুর্নীতি করা হয় বলেও ভুক্তভোগীরা জানান। জমি ক্রয় করার পর প্রত্যেক জমির মালিককেই বাধ্যতামূলক জমির রেকর্ড (মিউটিশন) করতে হয়। সরকারি ধার্য অনুযায়ী মিউটিশন ফি ১১৭৫ টাকা। কিন্তু ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তার অফিসের পিয়ন সুবাশ বিশ্বাসের মাধ্যমে জমির মালিকদের বিভিন্নভাবে এটা ওটা বুঝিয়ে হয়রানি করে ৫

‘কম ঘুষে ঘোরাঘুরি, বেশি ঘুষে তাড়াতাড়ি’
ঝিনাইদহের মহেশপুর নাটিমা ইউনিয়নে কর্মরত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালার বাইরে গিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এখানে ঘুষ দিয়ে সেবা নিতে হয়। এমনকি ঘুষ কম দিলেও ঘোরাঘুরি করতে হয়। দ্রুত সেবা নেওয়ার একমাত্র মাধ্যম বেশি ঘুষ দেওয়া। সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ শোনা যায়।    ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরাসরি কারও সঙ্গে কথা বলেন না। তার অফিসের পিয়ন সুবাশ বিশ্বাস সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। চুক্তি বা টাকা দিলে দ্রুত কাজ হয়। অন্যথায় সেবা পেতে দিনের পর দিন, এমনকি মাসও অপেক্ষা করতে হয়। ফলে সেবাপ্রার্থীরা টাকা দিতে বাধ্য হয়।  এ ছাড়া জমির মিউটিশন করা ও খাজনা কাটানোর ক্ষেত্রে বেশি দুর্নীতি করা হয় বলেও ভুক্তভোগীরা জানান। জমি ক্রয় করার পর প্রত্যেক জমির মালিককেই বাধ্যতামূলক জমির রেকর্ড (মিউটিশন) করতে হয়। সরকারি ধার্য অনুযায়ী মিউটিশন ফি ১১৭৫ টাকা। কিন্তু ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তার অফিসের পিয়ন সুবাশ বিশ্বাসের মাধ্যমে জমির মালিকদের বিভিন্নভাবে এটা ওটা বুঝিয়ে হয়রানি করে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার চুক্তি করেন জমির মিউটিশনের জন্য। ১০৭ টাকা খাজনার জন্য গুনতে হয় ২৫০০ টাকা। জমির মালিকরা নিরুপায় হয়ে কর্মকর্তার ফাঁদে পা দিয়ে হাজার হাজার টাকা গচ্ছা দেন। হামিদুর নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘এখানে কম ঘুষে বেশি ঘোরাঘুরি, বেশি ঘুষে কাজ হয় তাড়াতাড়ি। আমি বাড়ির জমির খাজনা দিতে এসেছিলাম। আমার থেকে খাজনার রশিদে উল্লিখিত টাকার থেকে বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে।’ আমির হোসেন নামে একজন বলেন, ‘আমার বোনের জমি দলিল করে দিয়েছি, সেই জমি মিউটেশন করতে সবকিছু অনলাইনে আমি করেছি। তারপরও অফিসের পিয়ন সুবাশ বিশ্বাস আমার বোনের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়েছে।’ ‘জানতে চাইলে সুবাশ বিশ্বাস বলেন— নামজারি হওয়ার পর অফিসের বইতে তুলতে নেওয়া হয়েছে যা সবাই দিয়ে থাকে,’ বলেন আমির হোসেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার এক ভাই গত দুই-৩ মাস আগে জমির খাজনা দিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এলে ১০৭ টাকার একটি খাজনার রশিদ কেটে দিয়ে ২৫০০ টাকা নিয়েছে। আমি জমির নামপত্তন-নামখারিজ করতে এসেছি। আমার কাছে ৪৫০০ টাকা চাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, নাটিমা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দুর্নীতি এমন চরমে পৌঁছেছে। সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া কোনো নামজারি হয় না। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে নাটিমা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বাড়তি কোনো টাকা নেই না।’ পরে টাকা নেওয়ার প্রমাণের অডিও শোনানো হলে সুবাশকে দিয়ে প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন তিনি।    এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু আমাকে অবগত করলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow