করবস্থান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সীমানা চিহ্নিত করলো রেলওয়ে
চট্টগ্রামের হালিশহর সিজিপিওয়াই এলাকার রেলওয়ের কবরস্থান, মসজিদ, মাজার ও আপদকালীন জলাশয় দখল করে ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) নির্মাণ এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে কবরস্থান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সীমানা চিহ্নিত করে দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের গঠিত কমিটি। সোমবার দুপরে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের গঠিত কমিটি স্বশরীরে পরিদর্শন করে এই সীমানা নির্ধারণ করে দেয়। বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান তত্তবধানে নির্দেশে বিভাগীয় ভূ সম্পত্তি কর্মকর্তা খুরশিদ আলম ও বিভাগীয় প্রকৌশল-৩ এর এম. রিয়াসাদ ইসলাম এই সীমানা নির্ধারণ করেন। বিভাগীয় ভূ সম্পত্তি কর্মকর্তা খুরশিদ আলম বলেন,“আমরা কবরস্থান এবং মসজিদ পরিদর্শন করে এসেছি। তার সীমানো চিহ্নিত করে দিয়েছি। কবরস্থান মসজিদ থাকবে এতে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এগুলো রেখে বাকিগুলো সিসিবিএলকে দেয়া হবে।” এর আগে গত বছরে ২১ অক্টোবর কন্টেইনার ডিপোর জন্য কবরস্থানের জমি লীজ দেওয়ার প্রতিবাদে এবং লীজ চুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত রেলকর্মীরা সিআরবি এলাকায় রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) অফিস ঘেরাও করেন। পরে আন্দোলনের মুখে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার আহ্ব
চট্টগ্রামের হালিশহর সিজিপিওয়াই এলাকার রেলওয়ের কবরস্থান, মসজিদ, মাজার ও আপদকালীন জলাশয় দখল করে ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) নির্মাণ এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে কবরস্থান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সীমানা চিহ্নিত করে দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের গঠিত কমিটি।
সোমবার দুপরে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের গঠিত কমিটি স্বশরীরে পরিদর্শন করে এই সীমানা নির্ধারণ করে দেয়। বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান তত্তবধানে নির্দেশে বিভাগীয় ভূ সম্পত্তি কর্মকর্তা খুরশিদ আলম ও বিভাগীয় প্রকৌশল-৩ এর এম. রিয়াসাদ ইসলাম এই সীমানা নির্ধারণ করেন।
বিভাগীয় ভূ সম্পত্তি কর্মকর্তা খুরশিদ আলম বলেন,“আমরা কবরস্থান এবং মসজিদ পরিদর্শন করে এসেছি। তার সীমানো চিহ্নিত করে দিয়েছি। কবরস্থান মসজিদ থাকবে এতে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এগুলো রেখে বাকিগুলো সিসিবিএলকে দেয়া হবে।”
এর আগে গত বছরে ২১ অক্টোবর কন্টেইনার ডিপোর জন্য কবরস্থানের জমি লীজ দেওয়ার প্রতিবাদে এবং লীজ চুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত রেলকর্মীরা সিআরবি এলাকায় রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) অফিস ঘেরাও করেন। পরে আন্দোলনের মুখে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান রেলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন। রেলওয়ে রানিং স্টাফ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো মজিবুর রহমান ও জেটি শাখার জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল জিএম অফিসের দ্বিতীয় তলায় প্রায় আধাঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। পরে রেলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন কবরস্থান মসজিদ ও মাজার থাকবে বলে ঘোষনা দেন এবং তার সীমানা চিহ্নিত করতে কমিটি গঠন করে দেন।
রেলের চুক্তি অনুযায়ী, হালিশহর এলাকায় ২১ দশমিক ২৯ একর জমি কন্টেইনার টার্মিনালের জন্য সিসিবিএলকে বাণিজ্যিকভাবে লীজ দেওয়া হয়। পরে সিসিবিএল চুক্তি করে বেসরকারি সাইফ পাওয়ারটেকের সঙ্গে।
রেলওয়ে কর্মী এবং শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন এলাকায় রেলের বিপুল পরিমাণ খালি জমি থাকলেও কবরস্থান ও মসজিদের সংলগ্ন জমিতেই আইসিডি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই জমির মধ্যে রয়েছে ৩২ বছরের পুরনো রেলওয়ে সিজিপিওয়াই কবরস্থান, যেখানে ৪৫০টির বেশি কবর, একটি মসজিদ, শতবর্ষী মাজার ও তিনটি বড় জলাশয় রয়েছে। কবরস্থান মসজিদ এবং মাজার রক্ষার জন্য আন্দোলন করে আসছেন রেলওয়ের কর্মীরা। তারা এর আগে রেল উপদেষ্টা এবং রেল সচিবের কাছে স্বারকলিপি দিয়েছেন।
প্রকল্পাধীন ২১ দশমিক ২৯ একর জমির মধ্যে নাল, মসজিদ, ভিটা, খিলা, পুকুর, কৃষি, কবরস্থান ও রাস্তা শ্রেণির ভূমি রয়েছে। তবে এসব জমির বাস্তব শ্রেণি কিছুটা বা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে বলে চুক্তিপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, বিএস দাগ নং ১৫০৫৪–এ রেকর্ডীয় শ্রেণি ‘মসজিদ’ (০.৩৪২৫ একর), দাগ নং ১৫০৫৯–এ রেকর্ডীয় শ্রেণি ‘কৃষি’, বর্তমান শ্রেণি ‘কবরস্থান’ (০.৬২৫০ একর) এবং দাগ নং ১৫০৬০–এ রেকর্ডীয় শ্রেণি ‘কবরস্থান’, বর্তমান শ্রেণি ‘নাল’ (৫.৪৮৫০ একর) হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের দলিল বলছে ভিন্ন কথা। জেলা প্রশাসনের বিএস খতিয়ান অনুযায়ী, শুধু দাগ নং ১৫০৫৯ কবরস্থান হিসেবে রেকর্ডভুক্ত (৫.৪৮৫০ একর) এবং দাগ নং ১৫০৬০–এর রেকর্ড ‘নাল’ জমি (০.৬২৫০ একর)।
রেলকর্মচারীদের অভিযোগ, কবরস্থানে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে আইনি বাধা ও জনরোষ এড়াতে রেলের ভূ–সম্পত্তি বিভাগ জমির দাগ নম্বর ও শ্রেণি কৌশলে পরিবর্তন করে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। এজন্য চুক্তিপত্রে দুই দাগের জমির তথ্য অদলবদল করা হয়।
২০২৪ সাল থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চললেও রেল কর্মকর্তারা তাতে কর্ণপাত করেননি। গত মার্চে কবরস্থানের গোরখোদকের ঘর উচ্ছেদ করলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
What's Your Reaction?