কর অব্যাহতির সনদ পেতে এনবিআরে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস দিতে হয়

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ট্যাক্স অব্যাহতি সনদ পেতে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) কোম্পানিগুলোকে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত অনৈতিকভাবে ব্যয় করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন বেসিসের সাবেক পরিচালক রাশাদ কবির। তিনি দাবি করেন, এটি সংশ্লিষ্ট খাতে একটি ‌‘ওপেন সিক্রেট’। বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ানবাজারের বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ অভিযোগ করেন। ‘টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতে বাজেটের প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করে টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিআইপিএপি)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইপিএপির আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর। বক্তব্য দেন টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ ও শেয়ার ট্রিপের সিইও সাদিয়া হক। আরও উপস্থিত ছিলেন বেসিসের সাবেক পরিচালক ও বন্ডস্টাইন টেকনোলজি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মীর শাহরুখ ইসলাম। আরও পড়ুন টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব / সিম ট্যাক্সে ১২০০ কোটি টাকার ছাড়ের সুবিধা গ্রাহক নয়, পাবেন অপারেটররা রাশাদ কবির বলেন, ‘সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সফটওয়্যার শিল্প কর অব্যাহতি সুবিধাপ্রাপ্ত খাত। কিন্তু বাস্তবে সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান

কর অব্যাহতির সনদ পেতে এনবিআরে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস দিতে হয়

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ট্যাক্স অব্যাহতি সনদ পেতে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) কোম্পানিগুলোকে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত অনৈতিকভাবে ব্যয় করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন বেসিসের সাবেক পরিচালক রাশাদ কবির। তিনি দাবি করেন, এটি সংশ্লিষ্ট খাতে একটি ‌‘ওপেন সিক্রেট’।

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ানবাজারের বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ অভিযোগ করেন। ‘টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতে বাজেটের প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করে টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিআইপিএপি)।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইপিএপির আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর। বক্তব্য দেন টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ ও শেয়ার ট্রিপের সিইও সাদিয়া হক। আরও উপস্থিত ছিলেন বেসিসের সাবেক পরিচালক ও বন্ডস্টাইন টেকনোলজি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মীর শাহরুখ ইসলাম।

রাশাদ কবির বলেন, ‘সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সফটওয়্যার শিল্প কর অব্যাহতি সুবিধাপ্রাপ্ত খাত। কিন্তু বাস্তবে সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বড় ব্যাংক ও বহুজাতিক কোম্পানি বিল পরিশোধের আগে এনবিআরের ট্যাক্স এক্সেম্পশন (কর অব্যাহতির) সনদ চায়।’

তার অভিযোগ, এই সনদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত অনৈতিকভাবে খরচ করতে হয়। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি দ্রুত সার্টিফিকেট চান, তাহলে টাকা দিতে হয়। না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হবে। বারবার নতুন নতুন কাগজপত্র চাওয়া হবে, কিন্তু সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে না। এটা ওপেন সিক্রেট। একটু খোঁজ নিলেই বিষয়টি জানা যাবে।’

রাশাদ কবির বলেন, ‘দেশে যদি তিন থেকে চার হাজার আইটি কোম্পানি থাকে ও প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে গড়ে এক লাখ টাকা করে ব্যয় করতে হয়, তাহলে শুধুমাত্র একটি আইনগতভাবে প্রাপ্য সনদ পেতেই বিপুল পরিমাণ অর্থ অনৈতিকভাবে ব্যয় হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি করতে হবে এবং ট্যাক্স অব্যাহতি সনদ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে হবে। কর অব্যাহতি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান আইটি কোম্পানির বিল থেকে আয়কর ও ভ্যাট কেটে রাখছে।’

নিজেদের একটি সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রাশাদ কবির জানান, একটি সরকারি প্রকল্পে তাদের প্রতিষ্ঠানের বিল থেকে ১৫ শতাংশ আয়কর ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট কেটে রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করলে অডিট-সংক্রান্ত জটিলতার অজুহাত দেখানো হয়। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সেবাকে ‘কনসালটেন্সি সার্ভিস’ হিসেবে দেখিয়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কর-ভ্যাট কেটে রাখা হয়। ফলে একদিকে সরকার আইটি খাতকে কর অব্যাহতি দিচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেই সুবিধা বাস্তবে কার্যকর করছে না।

তিনি বলেন, ‘সরকার একদিকে বলছে এই শিল্প কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত, অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোই কর ও ভ্যাট কেটে রাখছে। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাশাদ কবির। তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তান এআই গবেষণা ও উন্নয়নে আলাদা বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বাজেটে এআই নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তার মতে, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশেও এআই গবেষণা, উদ্ভাবন এবং গবেষণাকেন্দ্র গড়ে তুলতে পৃথক তহবিল গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

ইএইচটি/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow