কর ফাঁকির সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব : আইসিএবি প্রেসিডেন্ট

ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন বলেছেন, দেশের অর্থনীতির আকার বাড়ছে। আসন্ন বাজেটের আকার হবে সম্ভবত ৯ লাখ কোটি টাকা। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ কোটি টাকার ওপর ধরা হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমরা মনে করি, সরকার প্রত্যক্ষ কর থেকে রাজস্ব বাড়াতে হবে, তাহলে রাজস্ব আহরণ হবে টেকসই। তবে অর্থনীতিতে ভ্যাট ফাঁকি, কর ফাঁকির চর্চা থাকলে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো সম্ভব হবে না। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আইসিএবি ও দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং ও রাজস্ব আহরণ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এছাড়া অনুষ্ঠানে দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, আইসিএবি কাউন্সিলের সদস্য সাব্বির আহমেদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এন কে এ মবিন বলেন, ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং এখন আর বাংলাদেশের জন্য কোনো বিকল্প নয়—

কর ফাঁকির সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব : আইসিএবি প্রেসিডেন্ট

ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন বলেছেন, দেশের অর্থনীতির আকার বাড়ছে। আসন্ন বাজেটের আকার হবে সম্ভবত ৯ লাখ কোটি টাকা। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ কোটি টাকার ওপর ধরা হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমরা মনে করি, সরকার প্রত্যক্ষ কর থেকে রাজস্ব বাড়াতে হবে, তাহলে রাজস্ব আহরণ হবে টেকসই। তবে অর্থনীতিতে ভ্যাট ফাঁকি, কর ফাঁকির চর্চা থাকলে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো সম্ভব হবে না।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আইসিএবি ও দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং ও রাজস্ব আহরণ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এছাড়া অনুষ্ঠানে দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, আইসিএবি কাউন্সিলের সদস্য সাব্বির আহমেদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এন কে এ মবিন বলেন, ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং এখন আর বাংলাদেশের জন্য কোনো বিকল্প নয়— একটি স্বচ্ছ, দক্ষ এবং ভবিষ্যৎ-উপযোগী অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশ যখন একটি ডিজিটাল সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন করপোরেট ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক অ্যাকাউন্টিং পদ্ধতির গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে ম্যানুয়াল অ্যাকাউন্টিং ব্যবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং নির্ভুলতা, রিয়েল-টাইম রিপোর্টিং এবং আর্থিক তথ্যর সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমাতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব ডিজিটাইজেশন এ কাজ করছে এবং বাংলাদেশে কর নির্ধারণ, সংগ্রহ এবং নিরীক্ষণের পদ্ধতিতে একটি কাঠামোগত পরিবর্তন আনছে। আমি বলব, এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়নই হবে না— এটি সুশাসন, নিয়ম প্রতিপালন সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী রূপান্তর। তবে, ডিজিটাইজেশনের কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। যেমন ডিজিটাল সাক্ষরতার ঘাটতি, পরিবর্তনের প্রতি অনীহা, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং একটি শক্তিশালী অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতি সংস্কার এবং অংশীজনদের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

এ প্রেক্ষাপটে, আইসিএবি, এবং দি ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের যৌথ উদ্যোগে ‘ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং ও রাজস্ব আহরণ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট গোলটেবিল আলোচনা বাংলাদেশের আর্থিক সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি সময়োপযোগী ও কৌশলগত উদ্যোগ- বলে আমরা মনে করি। 

আইসিএবি প্রেসিডেন্ট বলেন, আইসিএবি’র সার্বিক কর্মকাণ্ড ও উদ্যোগ কেবল আর্থিক ব্যবস্থাপনার সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং সততা নিশ্চিত করা এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও টেকসই হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারকে সহায়তা করা। আইসিএবি প্রতি বছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) বাজেট প্রণয়নের পূর্বে আয়কর, মূল্য সংযোজন, কর, শুল্ক নীতি, সম্পূরক শুল্ক, অতিরিক্ত শুল্ক-এর বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ প্রদান করছে। এই পরামর্শগুলো যথাযথভাবে জাতীয় বাজেটে প্রতিফলিত হতে হবে। এতে করে একদিকে যেমন রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, তেমনি দেশের অর্থনীতি হবে সমৃদ্ধ। আইসিএবি জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধি সহায়তা ছাড়াও করদাতাদের কল্যাণে কাজ করে থাকে। করভার লাঘবের জন্যও কাজ করে থাকে। বিগত বছরগুলোতে লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই -দেশে কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আয় বাড়ছে না। বর্তমান অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। 

তিনি বলেন, আইসিএবি’র ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) বাংলাদেশের আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং আস্থা জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করি। নথিপত্রের রিয়েল-টাইম যাচাই করার মাধ্যমে, এটি আর্থিক বিবরণী জালিয়াতির ঝুঁকি কার্যকরভাবে শনাক্ত করে এবং আর্থিক রেকর্ড, সনদপত্র ও দাখিলকৃত নথিপত্রের কমপ্লায়েন্সের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করে। আমাদের ডিভিএস সিস্টেম পেশাগত সততা বৃদ্ধি এবং অংশীজনদের মধ্যে আস্থা আরো জোরদার করেছে।

এন কে এ মবিন বলেন, ডিভিএস নিরাপদ ডিজিটাল অডিট ট্রেইল তৈরি করে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখছে, যা কারসাজি ও দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে আনছে। এই ডিভিএস কে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ডিজিটাইজেশন উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে বলে আমরা মনে করি। ব্যবসা-বাণিজ্যে ডিজিটাইজেশন উদ্যোগের সাথে ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং নিবিড়ভাবে জড়িত। এটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় প্ল্যাটফর্মের সাথে সংযুক্ত করবে, ভ্যাট অটোমেশনে সহায়তা এবং ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হিসাব রাখার উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনবে। 

আইসিএবি প্রেসিডেন্ট বলেন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণে উপায়, বিভিন্ন আইন ও নিয়মকানুন পরিপালন নিশ্চিত করে। তাই একাউন্টিং অটোমেশনে মূল সহায়ক হিসেবে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। ব্যবসা-বণিজ্যে এআইয়ের যুগে ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং এখন আর শুধু ব্যাক-অফিস আপগ্রেড নয়— এটি সরকার এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব আয়, হিসাব রাখা এবং সুশাষণ প্রক্রিয়াকে অধিকতর শক্তিশালী করে তুলবে। 

তিনি আরও বলেন, যখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মানসম্মত ডিজিটাল রেকর্ড বজায় রাখে, তখন কর কর্তৃপক্ষ সহজেই আয়, ব্যয় এবং ভ্যাট জমা যাচাই করতে পারবে— যার ফলে করের হার না বাড়িয়েই অধিক রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে। সেই সাথে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (এসএমই)খাতে ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ গ্রহণে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তাদেরকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে প্রবেশ করানো যেতে পারে। ফলে করযোগ্য ভিত্তি আরও প্রসারিত হবে। 

পরিশেষে, ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রাজস্ব নীতি নির্ধারণে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া অপরিহার্য। ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা, হিসাব ও কর ব্যবস্থাপনা, ও এসবের পরিপালন বিষয়ে সিএদের বাস্তবভিত্তিক অন্তর্দৃষ্টি- রাজস্ব নীতির প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করবে।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow