কলকাতায় জমজমাট বইমেলায় নেই বাংলাদেশ, হতাশ বইপ্রেমীরা

বিভিন্ন দেশের হাজারো রকমের বই, বইপ্রেমী মানুষ, প্রতিদিন প্রায় লাখো মানুষের ভিড়, প্রায় ১ হাজারের বেশি বুকস্টল, দেশ-বিদেশের লেখক-সাহিত্যিকদের আনাগোনা, খাবার দোকান, পায়ে ধুলো, কলকাতা ৪৯তম আন্তর্জাতিক বইমেলায় এসে নতুন প্রেমে পড়া- সবকিছুই আছে। নেই শুধু বাংলাদেশের উপস্থিতি। বছর দুয়েক আগেও আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা প্রাঙ্গণের ঠিক মধ্যমনিতে অবস্থান করতো কয়েক হাজার বর্গফুটের বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন। হুমায়ূন আহমেদ, তসলিমা নাসরিন, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেন, সৈয়দ শামসুল হক, জাফর ইকবাল, সাদাত হোসাইনের লেখা নতুন বইয়ের গন্ধে নামকরা প্রকাশনা সংস্থাগুলোর স্টলগুলিতে ভিড় জমাতো বাঙালি বইপ্রেমীরা। কিন্তু সেই চেনা দৃশ্যে থাবা বসিয়েছে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি। গত বছরের মতো ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় অনুপস্থিত পদ্মাপাড়ের দেশ। ফলে মনমরা গঙ্গা পাড়ের বাঙালি বইপ্রেমী মানুষ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুটির দিন থাকায় দুপুর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সল্টলেক বইমেলা প্রাঙ্গণে অন্যদিনের তুলনায় একটু বেশিই ভিড় ছিল। সন্ধ্যায় তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তবে সবাই যে বই কিনতে এসেছেন এমনটা নয়। কেউ এসেছে

কলকাতায় জমজমাট বইমেলায় নেই বাংলাদেশ, হতাশ বইপ্রেমীরা

বিভিন্ন দেশের হাজারো রকমের বই, বইপ্রেমী মানুষ, প্রতিদিন প্রায় লাখো মানুষের ভিড়, প্রায় ১ হাজারের বেশি বুকস্টল, দেশ-বিদেশের লেখক-সাহিত্যিকদের আনাগোনা, খাবার দোকান, পায়ে ধুলো, কলকাতা ৪৯তম আন্তর্জাতিক বইমেলায় এসে নতুন প্রেমে পড়া- সবকিছুই আছে। নেই শুধু বাংলাদেশের উপস্থিতি।

jagonews24.com

বছর দুয়েক আগেও আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা প্রাঙ্গণের ঠিক মধ্যমনিতে অবস্থান করতো কয়েক হাজার বর্গফুটের বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন। হুমায়ূন আহমেদ, তসলিমা নাসরিন, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেন, সৈয়দ শামসুল হক, জাফর ইকবাল, সাদাত হোসাইনের লেখা নতুন বইয়ের গন্ধে নামকরা প্রকাশনা সংস্থাগুলোর স্টলগুলিতে ভিড় জমাতো বাঙালি বইপ্রেমীরা। কিন্তু সেই চেনা দৃশ্যে থাবা বসিয়েছে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি। গত বছরের মতো ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় অনুপস্থিত পদ্মাপাড়ের দেশ। ফলে মনমরা গঙ্গা পাড়ের বাঙালি বইপ্রেমী মানুষ।jagonews24.com

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুটির দিন থাকায় দুপুর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সল্টলেক বইমেলা প্রাঙ্গণে অন্যদিনের তুলনায় একটু বেশিই ভিড় ছিল। সন্ধ্যায় তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তবে সবাই যে বই কিনতে এসেছেন এমনটা নয়। কেউ এসেছেন ছুটি উপভোগ করতে, কারও আবার লক্ষ্য ছিল ‘রথ দেখা কলা বেচা’ -দুটোই। কিন্তু যারা সত্যিকার অর্থেই বইপ্রেমী বা পাঠক- যারা কেবল বইমেলা থেকে বাংলাদেশের লেখক-সাহিত্যিকদের বই কিনবেন বলে সারা বছর টাকা জমান, যারা নিজের পছন্দের কাঠ পেন্সিল কিনতে এসেছেন, বা যারা সাদাত হোসাইনের একটা অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য আধাঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে ভালবাসতেন হতাশ হয়েছেন তারাও।

jagonews24.com

কলকাতার লেকটাউনের বাসিন্দা সুস্মিতা কর বলেন, আমরা এর আগে দেখেছি যে প্রতিবছরই কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের জন্য একটা বরাদ্দ থাকে এবং সেখানে উপস্থিত বাংলাদেশের নামি প্রকাশনা সংস্থাগুলোও বিভিন্ন লেখকের বইয়ের সঙ্গে পরিচিত হয়। কলকাতার বই পাড়া বলে পরিচিত কলেজ স্ট্রিটে সেই বই পাওয়া যায় না। ফলে কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের বইয়ের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার সুযোগ থাকে, পছন্দের বই কেনাকাটা করতে পারি। কিন্তু গতবারের মতো এবারও সেই সুযোগটা মিস করলাম।

jagonews24.com

বেলঘরিয়ার টুইঙ্কল সরকার বলেন, প্রতিবছরই বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন থাকে। যদিও গত বছর ছিল না, হতাশ হয়েছিলাম। এ বছর ভেবেছিলাম হয়তো থাকতে পারে। কিন্তু এখানে এসে যখন দেখলাম বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন নেই, কার্যত হতাশ হয়েছি।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর হাত ধরে গত ২২ জানুয়ারি শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। এবারের বইমেলায় থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অষ্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, স্পেন, পেরু, কলম্বিয়া, জাপান, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের প্রায় ২০ টিরও বেশি দেশ অংশগ্রহণ করলেও প্রতিবেশী বাংলাদেশের অনুপস্থিতি হতাশ করেছে বাঙালি বই পাঠকদের।

jagonews24.com

আগামী মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মেলার সমাপনী ঘোষণা হবে। এরপর আরো একটা বছরের অপেক্ষা। তবে এই বইমেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর গঙ্গাপাড় এবং পদ্মা পাড় মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। পরপর দুবছর বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন না থাকায় বাংলার বইপ্রেমী মানুষ হাতাশ। আগামী বছর কলকাতা বইমেলার ৫০ তম বর্ষে বাংলাদেশ তার উপস্থিতি জানান দিতে পারবে কি না তা সময়ই বলে দেবে।

ডিডি/টিটিএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow