কলেজে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ছাত্রীর

চট্টগ্রামে লোহাগাড়ায় কলেজে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারান চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জান্নাত (১৯)। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কলেজের হোস্টেলে আসন বরাদ্দের জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার নোটিশ দিয়েছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেই সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাটে নানাবাড়ি থেকে সকালে রওনা দেন সুমাইয়া। অন্যদিকে তার বাবা আরিফুর রহমান চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। পথে মেয়ের অবস্থান জানতে ফোন করেন বাবা আরিফুর রহমান। কিন্তু ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে ভেসে আসে এক অচেনা তরুণের কণ্ঠ। তিনি জানান, ফোনের মালিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেয়ের মরদেহ গ্রহণ করতে এসে তিনি বলেন, ‘মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে মনে হলো মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়েছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগেও তো তার সঙ্গে কথা বলেছি। সে আমাকে বলত ‘আব্বু, আপনি টেনশন করবেন না। আমি আপনার বড় মেয়ে, ভালো রেজাল্ট করে দেখাবো

কলেজে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল ছাত্রীর

চট্টগ্রামে লোহাগাড়ায় কলেজে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারান চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া জান্নাত (১৯)।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কলেজের হোস্টেলে আসন বরাদ্দের জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার নোটিশ দিয়েছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেই সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাটে নানাবাড়ি থেকে সকালে রওনা দেন সুমাইয়া। অন্যদিকে তার বাবা আরিফুর রহমান চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন।

পথে মেয়ের অবস্থান জানতে ফোন করেন বাবা আরিফুর রহমান। কিন্তু ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে ভেসে আসে এক অচেনা তরুণের কণ্ঠ। তিনি জানান, ফোনের মালিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেয়ের মরদেহ গ্রহণ করতে এসে তিনি বলেন, ‘মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে মনে হলো মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়েছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগেও তো তার সঙ্গে কথা বলেছি। সে আমাকে বলত ‘আব্বু, আপনি টেনশন করবেন না। আমি আপনার বড় মেয়ে, ভালো রেজাল্ট করে দেখাবো। আমার মেয়ের স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করবে, পরিবারের পাশে দাঁড়াবে কিন্তু আজ সে নেই।’

পরিবার জানায়, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেন সুমাইয়া। পরে একই কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

সুমাইয়ার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের আরবশাহ ঘোনাপাড়া এলাকায়। নতুন বাড়ি নির্মাণের কারণে মা ও ভাইবোনদের নিয়ে তিনি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাটে নানাবাড়িতে বসবাস করতেন। বাবা আরিফুর রহমান পেশায় একজন মসজিদের ইমাম এবং কর্মসূত্রে রাঙ্গুনিয়ায় থাকেন।

মা ইয়াছমিন আক্তার বলেন, ‘সকাল সাতটার দিকে ভাত খেয়ে তাড়াহুড়া করে বের হয়েছিল সুমাইয়া। আমি বলেছিলাম, একটু পরে যেও। কিন্তু সে বলল সময় নেই। এখন শুধু মনে হয়, যদি আর পাঁচ মিনিট দেরি করত, তাহলে হয়তো আজ আমার মেয়েটা বেঁচে থাকত।’

এদিকে সুমাইয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সুমাইয়া মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের শিক্ষার্থী ছিলেন। মঙ্গলবার তার অভিভাবকসহ কলেজে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লোহাগাড়ার চুনতি বাজার এলাকায় কক্সবাজারমুখী ইম্পেরিয়াল পরিবহন ও চট্টগ্রামমুখী পূরবী পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সুমাইয়া জান্নাত, যিনি পূরবী পরিবহনের যাত্রী ছিলেন।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাস দুটি জব্দ করে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই দুই বাসের চালক পালিয়ে যান। পরিবারের আবেদনের পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow