কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম

কাজা নামাজ কাকে বলে? যে কোনো অসুবিধার কারণে কোনো ওয়াক্তের নামাজ আদায় করতে না পারলে ওই নামাজ পরবর্তীতে আদায় করাকে কাজা নামাজ বলা হয়। ফরজ কিংবা ওয়াজিব নামাজ ছুটে গেলে তার কাজা আদায় করা আবশ্যক। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ঘুমিয়ে থাকার কারণে নামাজ আদায় করতে না পারলে তা অন্যায় নয়। অন্যায় হলো জেগে থেকেও নামাজ আদায় না করা। তোমাদের কেউ নামাজ আদায় করতে ভুলে গেলে অথবা নামাজের সময় ঘুমিয়ে থাকলে, যে সময়েই নামাজের কথা স্মরণ হবে, নামাজ আদায় করে নেবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমার স্মরণে নামাজ আদায় কর। (সুরা ত্বহা: ১৪)। (সহিহ মুসলিম: ৬৮১) কাজা নামাজের সময় কাজা আদায়ের নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। নামাজের নিষিদ্ধ ৩ সময় ছাড়া যে কোনো সময় কাজা নামাজ আদায় করা যায়। নামাজের নিষিদ্ধ ৩ সময় হলো: ১. সূর্যোদয়ের সময়। ২. দ্বিপ্রহর ঠিক দুপুরের সময়। ৩. সূর্যাস্তের সময়। (তবে ওই দিনের আসরের নামাজ না পড়া হলে সূর্যাস্তের সময় পড়লেও আদায় হয়ে যাবে)  উকবা ইবনে আমির জুহানী (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাাল্লাম) তিন সময়ে নামাজ আদায় এবং মৃত ব্যক্তিকে কব

কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম

কাজা নামাজ কাকে বলে?

যে কোনো অসুবিধার কারণে কোনো ওয়াক্তের নামাজ আদায় করতে না পারলে ওই নামাজ পরবর্তীতে আদায় করাকে কাজা নামাজ বলা হয়। ফরজ কিংবা ওয়াজিব নামাজ ছুটে গেলে তার কাজা আদায় করা আবশ্যক।

আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ঘুমিয়ে থাকার কারণে নামাজ আদায় করতে না পারলে তা অন্যায় নয়। অন্যায় হলো জেগে থেকেও নামাজ আদায় না করা। তোমাদের কেউ নামাজ আদায় করতে ভুলে গেলে অথবা নামাজের সময় ঘুমিয়ে থাকলে, যে সময়েই নামাজের কথা স্মরণ হবে, নামাজ আদায় করে নেবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমার স্মরণে নামাজ আদায় কর। (সুরা ত্বহা: ১৪)। (সহিহ মুসলিম: ৬৮১)

কাজা নামাজের সময়

কাজা আদায়ের নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। নামাজের নিষিদ্ধ ৩ সময় ছাড়া যে কোনো সময় কাজা নামাজ আদায় করা যায়।

নামাজের নিষিদ্ধ ৩ সময় হলো:

  • ১. সূর্যোদয়ের সময়।
  • ২. দ্বিপ্রহর ঠিক দুপুরের সময়।
  • ৩. সূর্যাস্তের সময়। (তবে ওই দিনের আসরের নামাজ না পড়া হলে সূর্যাস্তের সময় পড়লেও আদায় হয়ে যাবে) 

উকবা ইবনে আমির জুহানী (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাাল্লাম) তিন সময়ে নামাজ আদায় এবং মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ করতে আমাদের নিষেধ করতেন, সূর্য যখন আলোকজ্জ্বল হয়ে উদয় হতে থাকে তখন থেকে পরিষ্কারভাবে উপরে না ওঠা পর্যন্ত, সূর্য ঠিক মধ্যাকাশে থাকে তখন থেকে ঢলে না পড়া পর্যন্ত এবং সূর্য অস্ত যাওয়া শুরু হলে, সম্পূর্ণরূপে অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত। (সহিহ মুসলিম: ৮৩১)

কাজা নামাজের নিয়ত

যে কোনো নামাজের আগে কোন নামাজ কত রাকাত পড়ছেন তা মনে মনে স্থির করে নেওয়ার নামই হলো নিয়ত। নিয়ত মুখে বলা জরুরি নয়। নিয়তের জন্য নির্ধারিত কোনো বাক্যও নেই।

কাজা নামাজের ক্ষেত্রেও বিধান একই। কোন দিনের কোন ওয়াক্তের কাজা নামাজ আদায় করছেন, তা মনে মনে স্থির করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাজ শুরু করে দিলেই হবে। নিয়তের জন্য নির্ধারিত কোনো আরবি বা বাংলা বাক্য বলার প্রয়োজন নেই।

কারো যদি কাজা নামাজ অনেক বেশি হয় এবং কাজা হওয়ার দিন-তারিখ মনে না থাকে, তাহলে এভাবে নিয়ত করবে যে আমার জিম্মায় কাজা হিসেবে থাকা সর্বশেষ জোহরের নামাজের কাজা আদায় করছি। এভাবে প্রত্যেক ওয়াক্তের কাজা নামাজ আদায় করার সময় নিয়ত করতে হবে। যতদিন তার মন এ সাক্ষ্য না দেবে যে তার জিম্মায় আর কোনো কাজা নামাজ বাকি নেই, ততদিন পর্যন্ত কাজা নামাজ আদায় করতে থাকবে।

কাজা নামাজ আদায়ের পদ্ধতি

নিষিদ্ধ সময়গুলো ছাড়া দিনের যে কোনো সময় কাজা নামাজের জন্য পবিত্রতা ও নামাজের অন্যান্য শর্ত পূরণ করে দাঁড়াবেন। যে ওয়াক্তের কাজা নামাজ আদায় করতে চান, ওই ওয়াক্তের কাজা আদায়ের নিয়ত করবেন এবং আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করবেন। তারপর ওয়াক্তের নামাজ যেভাবে আদায় করেন, সেভাবেই কাজা নামাজ আদায় করবেন।

যেমন আপনার যদি ফজরের নামাজ কাজা হয়ে থাকে, তাহলে সূর্য পুরোপুরি উদিত হওয়ার পর পবিত্রতার সঙ্গে নামাজের জন্য দাঁড়াবেন, নিয়ত করবেন, ‘আমি আজকের ফজরের ফরজ নামাজের কাজা আদায় করছি’ তারপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাজ শুরু করবেন এবং নির্ধারিত নিয়মে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবেন।

সুন্নত নামাজের কাজা

শুধু ফরজ ও ওয়াজিব নামাজের কাজা আদায় করা জরুরি, সুন্নত বা নফল নামাজের কাজা আদায় করা জরুরি নয়। কোনো ওয়াক্তের নামাজ ছুটে গেলে সেই ওয়াক্তের শুধু ফরজ নামাজের কাজা আদায় করতে হয়। সুন্নত নামাজের কাজা আদায় করতে হয় না।

শুধু ফজরের সুন্নতের ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরাম বলেন, কারো যদি ফজরের নামাজ ছুটে যায় এবং তিনি ওই দিন মধ্যাহ্নের আগেই কাজা আদায় করেন, তাহলে তিনি ফজরের দুই রাকাত সুন্নতসহই ফজরের কাজা নামাজ আদায় করতে পারেন। নবীজির (সা.) ফজরের নামাজ ছুটে গেলে তিনি সূর্যাস্তের পর ফজরের সুন্নতসহ কাজা আদায় করেছেন বলে বর্ণিত রয়েছে। (সহিহ মুসলিম: ১৪৪৮)

জোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর ফজরের কাজা নামাজ আদায় করলে অন্য ওয়াক্তের সুন্নতের মতো ফজরের সুন্নতের কাজা আদায়েরও প্রয়োজন নেই।

পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজের আগেই কাজা নামাজ আদায় করতে হবে?

সাহেবে তারতিব হলে কাজা নামাজ পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজের আগেই আদায় করা আবশ্যক। সাহেবে তারতিব বলা হয় এমন ব্যক্তিকে যার জিম্মায় কোনো অনাদায়ী কাজা নামাজ নেই বা থাকলেও তা ছয় ওয়াক্তের কম, এমন ব্যক্তির যদি কোনো অসুবিধান কারণে এক-পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কাজা হয়ে যায়, তাহলে পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ আদায়ের আগে ওই কাজা নামাজগুলো আদায় করে নেওয়া জরুরি। কাজা আদায় করতে গিয়ে জামাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হলেও তাকে আগে কাজাই আদায় করতে হবে।

তবে যদি সময় কম থাকার কারণে কাজা আদায় করতে গিয়ে পরবর্তী ওয়াক্তের ফরজ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে ওয়াক্তের নামাজ আগে পড়ে নিতে হবে।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো ওয়াক্তের নামাজ (ওয়াক্তের ভেতর) পড়তে ভুলে গেছে অতঃপর ইমামের পেছনে (পরবর্তী ওয়াক্তের) নামাজ পড়ার সময় তার ওই নামাজের কথা স্মরণ হয়, সে যেন ইমামের সাথে নামাজটি পড়ে নেয়। এরপর যে নামাজটি পড়তে ভুলে গিয়েছিল তা আদায় করে। তারপর ইমামের সাথে যে নামাজটি পড়েছে তা আবার পড়ে নেয়। (শরহু মাআনিল আসার: ২৬৮৪)

অর্থাৎ ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কারণে ওই নামাজটি সে পড়ে নেবে কিন্তু তা ফরজ নয়, বরং নফল হিসেবে আদায় হবে। পরবর্তীতে ফরজ নামাজ আবার পড়ে নিতে হবে।

তবে যদি কাজা নামাজ ছয় ওয়াক্ত বা তার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে কাজা আদায় না করে পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ আদায় করলে নামাজ হয়ে যাবে। পরে সুবিধাজনক সময়ে নামাজগুলোর কাজা আদায় করে নিতে হবে।

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow