কাজ ছাড়ো নয়তো মেরে ফেলব, হ্যারি পটার অভিনেতাকে হুমকি

হগওয়ার্টসের করিডোরে কি এবার অন্ধকারের নতুন কোনো অধ্যায় শুরু হতে চলেছে? জাদুর কাঠির লড়াই কি তবে পর্দার বাইরে বাস্তবের রুক্ষ রাজপথে নেমে এল? হ্যারি পটার ভক্তদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন সিরিজের ঘোষণা যতটা আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছিল, তার চেয়েও বড় এক ঝড়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহগুলোতে। আর সেই ঝড়ের কেন্দ্রে রয়েছেন ঘানায়ান-ব্রিটিশ অভিনেতা পাপা এসিডু। কিংবদন্তি অভিনেতা অ্যালান রিকম্যানের অমর করে যাওয়া 'সেভেরাস স্ন্যাপ' চরিত্রে যখন পাপা এসিডুর নাম ঘোষণা করা হলো, তখন থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। কিন্তু সেই বিতর্ক এখন আর কেবল অভিনয়ের গুণমান বা বইয়ের বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; তা রূপ নিয়েছে চরম বর্ণবাদী বিদ্বেষ এবং সরাসরি প্রাণনাশের হুমকিতে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস সূত্রে জানা যায়,  সম্প্রতি 'টাইমস অফ লন্ডন'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসিডু তার যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে প্রতিনিয়ত টার্গেট করা হচ্ছে।  এসিডু বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে,হয় তুমি এই কাজ ছেড়ে দাও, নয়তো আমি তোমাকে মেরে ফেলব। ইনস্টাগ্রাম খুললেই দেখি কেউ না কেউ বলছে তারা আমার বাড়িতে এসে আমাকে শেষ করে দেব

কাজ ছাড়ো নয়তো মেরে ফেলব, হ্যারি পটার অভিনেতাকে হুমকি
হগওয়ার্টসের করিডোরে কি এবার অন্ধকারের নতুন কোনো অধ্যায় শুরু হতে চলেছে? জাদুর কাঠির লড়াই কি তবে পর্দার বাইরে বাস্তবের রুক্ষ রাজপথে নেমে এল? হ্যারি পটার ভক্তদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন সিরিজের ঘোষণা যতটা আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছিল, তার চেয়েও বড় এক ঝড়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহগুলোতে। আর সেই ঝড়ের কেন্দ্রে রয়েছেন ঘানায়ান-ব্রিটিশ অভিনেতা পাপা এসিডু। কিংবদন্তি অভিনেতা অ্যালান রিকম্যানের অমর করে যাওয়া 'সেভেরাস স্ন্যাপ' চরিত্রে যখন পাপা এসিডুর নাম ঘোষণা করা হলো, তখন থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। কিন্তু সেই বিতর্ক এখন আর কেবল অভিনয়ের গুণমান বা বইয়ের বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; তা রূপ নিয়েছে চরম বর্ণবাদী বিদ্বেষ এবং সরাসরি প্রাণনাশের হুমকিতে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস সূত্রে জানা যায়,  সম্প্রতি 'টাইমস অফ লন্ডন'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসিডু তার যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে প্রতিনিয়ত টার্গেট করা হচ্ছে।  এসিডু বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে,হয় তুমি এই কাজ ছেড়ে দাও, নয়তো আমি তোমাকে মেরে ফেলব। ইনস্টাগ্রাম খুললেই দেখি কেউ না কেউ বলছে তারা আমার বাড়িতে এসে আমাকে শেষ করে দেবে।‘ একজন শিল্পীর জন্য তার সৃজনশীল কাজের বিনিময়ে এমন ভয়াবহ হুমকি পাওয়া কতটা বিড়ম্বনার, তা এসিডুর কথায় স্পষ্ট।  তবে এইচবিও এর  প্রধান কেসি ব্লয়েস জানিয়েছেন, তারা এই পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন। বড় কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি বা আইপি  শো এর ক্ষেত্রে এমন উগ্র ভক্তদের আনাগোনা অস্বাভাবিক নয়। তাই অভিনেতাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং শক্তিশালী সিকিউরিটি টিমের ব্যবস্থা করেছেন তারা। তবে এই অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষেও আশার আলো দেখছেন পাপা এসিডু। তিনি দমে না গিয়ে এই ঘৃণাকেই তার শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এসিডুর মতে, এই বিদ্বেষ তাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করে যাতে তিনি স্ন্যাপ চরিত্রটিকে নিজের মতো করে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন নিজেকে হগওয়ার্টসের ঝাড়ুর ওপর কল্পনা করতাম। আজ আমার মতো কোনো কৃষ্ণাঙ্গ শিশু যখন পর্দায় নিজেকে এই জাদুকরী দুনিয়ার অংশ হিসেবে দেখবে, সেই প্রাপ্তিটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড়। যারা আমার কাজের বদলে আমার মৃত্যু কামনা করে, তাদের ভয়ে আমি পিছিয়ে আসব না।' হ্যারি পটার বা স্টার ওয়ার্সের মতো বিশাল ফ্যানবেস থাকা শো-গুলোতে বর্ণবাদী আক্রমণ নতুন কিছু নয়। এর আগে নোমা দুমেজওয়েনি কিংবা 'হাউস অফ দ্য ড্রাগন'-এর অভিনয়শিল্পীরাও একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে—শিল্প কি তবে গায়ের রঙের বেড়াজালে আটকে থাকবে, নাকি প্রতিভার জাদুতে জয় করবে সব ঘৃণা? জাদুর দুনিয়ায় এই অসম লড়াইয়ে পাপা এসিডু শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow