কারাগারে ঈদের আনন্দ
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া হয়। শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে গিয়ে দেখা যায়, বন্দিদের মধ্যে পোলাও, মাংস, সেমাইসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে সাক্ষাৎ করতে আসা স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে রজনীগন্ধা ফুল, মিষ্টি, চিপস ও চকলেট। ঈদ উপলক্ষে দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কাছে পেয়ে অনেক বন্দি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্বজনরাও কারা কর্তৃপক্ষের এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানান। নিকলী থেকে নানাকে দেখতে আসা ডলি আক্তার বলেন, আমরা আসার পর ফুল দিয়ে বরণ করা হয়েছে। তাদের এই উদ্যোগ আমার খুব ভালো লেগেছে। জেল নিয়ে মানুষের যে নেতিবাচক ধারণা আছে, তা অনেকটাই বদলাবে। করগাঁও থেকে ভাইরার সঙ্গে দেখা করতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, ভেতরে ভালো খাবার দিয়েছে জেনে ভালো লাগছে। আমরাও বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে এসেছি। শান্তিমতো কথা বলতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ। কটিয়াদী থেকে বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসা রায়হান পারভেজ বলেন, বন্দিদের এমন সম্মান দেওয়া ও ভ
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে গিয়ে দেখা যায়, বন্দিদের মধ্যে পোলাও, মাংস, সেমাইসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে সাক্ষাৎ করতে আসা স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে রজনীগন্ধা ফুল, মিষ্টি, চিপস ও চকলেট।
ঈদ উপলক্ষে দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কাছে পেয়ে অনেক বন্দি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্বজনরাও কারা কর্তৃপক্ষের এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
নিকলী থেকে নানাকে দেখতে আসা ডলি আক্তার বলেন, আমরা আসার পর ফুল দিয়ে বরণ করা হয়েছে। তাদের এই উদ্যোগ আমার খুব ভালো লেগেছে। জেল নিয়ে মানুষের যে নেতিবাচক ধারণা আছে, তা অনেকটাই বদলাবে।
করগাঁও থেকে ভাইরার সঙ্গে দেখা করতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, ভেতরে ভালো খাবার দিয়েছে জেনে ভালো লাগছে। আমরাও বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে এসেছি। শান্তিমতো কথা বলতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ।
কটিয়াদী থেকে বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসা রায়হান পারভেজ বলেন, বন্দিদের এমন সম্মান দেওয়া ও ভালো খাবারের ব্যবস্থা করায় আমরা খুশি।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও বন্দিদের মধ্যে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে বিশেষ এই আয়োজন করা হয়েছে। এতে বন্দিদের মানসিক প্রশান্তি বাড়ার পাশাপাশি ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার ফারহানা আক্তার বলেন, কারাগারকে প্রকৃত অর্থে সংশোধনাগারে রূপান্তর করাই আমাদের লক্ষ্য। একজন বন্দি যখন পরিবারের সংস্পর্শে থাকে, পরিবারের ভালোবাসা ও আন্তরিকতা অনুভব করে, তখন তার মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। আমরা চাই তারা মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে সমাজে ফিরে যাক।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকেই মানুষ অপরাধ বা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। পরিবার পাশে থাকলে সেই প্রবণতা কমে আসে। এজন্যই আমরা বন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ করে দিয়েছি।
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. দিদারুল আলম জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বন্দিদের জন্য পায়েশ, পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস পরিবেশন করা হয়েছে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসির মাংসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া মিষ্টি, পান-সুপারি ও কোমল পানীয় দেওয়া হয়েছে। রাতের খাবারে ছিল রুই মাছ ভাজা, আলুর দম ও সাদা ভাত।
তিনি বলেন, কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের দিন ও পরবর্তী দুই দিন বন্দিদের স্বজনদের পাঠানো খাবার গ্রহণ করে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমরা চাই কারাগার প্রকৃত অর্থেই একটি সংশোধনাগারে পরিণত হোক।
What's Your Reaction?