কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর মন্দিরের সেই অর্থ ফেরত

দৈনিক কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর মন্দিরের উন্নয়নের নামে সরকারি বরাদ্দ টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের হাতিয়ে নেওয়া অর্থ মন্দির কমিটির নিকট হস্তান্তর করেছেন নরসিংদী জেলা পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক দীপক কুমার বর্মণ (প্রিন্স)।  রোববার (৫ জুলাই) সকালে নরসিংদী পৌর শহরের বৌয়াকুড় এলাকায় অবস্থিত শীতলাবাড়ি মন্দিরে গিয়ে টাকা মন্দির কমিটির কাছে হস্তান্তর করেন। দীপক কুমার বর্মণ (প্রিন্স) জেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব। মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সজয় দাস বলেন, অনুদানের ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে প্রিন্সকে জিজ্ঞেস করে আসলেও তিনি অনুদান পাননি বলে জানান। তবে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে দীপক কুমার বর্মণ (প্রিন্স) নিজে মন্দিরে এসে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে টাকা প্রদান করেন। টাকা জমা দেওয়ার সময় প্রিন্স জানান, এ নেন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা পেয়েছি, এর মধ্যে দুই হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আপনারা যে টাকাটা বুঝে পেয়েছেন এ-সংক্রান্ত একটি কাগজে স্বাক্ষর করেন। পরে ওই কাগজটিতে আমি, মন্দিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা প্রাপ্ত

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর মন্দিরের সেই অর্থ ফেরত

দৈনিক কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর মন্দিরের উন্নয়নের নামে সরকারি বরাদ্দ টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের হাতিয়ে নেওয়া অর্থ মন্দির কমিটির নিকট হস্তান্তর করেছেন নরসিংদী জেলা পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক দীপক কুমার বর্মণ (প্রিন্স)। 

রোববার (৫ জুলাই) সকালে নরসিংদী পৌর শহরের বৌয়াকুড় এলাকায় অবস্থিত শীতলাবাড়ি মন্দিরে গিয়ে টাকা মন্দির কমিটির কাছে হস্তান্তর করেন।

দীপক কুমার বর্মণ (প্রিন্স) জেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব।

মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সজয় দাস বলেন, অনুদানের ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে প্রিন্সকে জিজ্ঞেস করে আসলেও তিনি অনুদান পাননি বলে জানান। তবে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে দীপক কুমার বর্মণ (প্রিন্স) নিজে মন্দিরে এসে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে টাকা প্রদান করেন। টাকা জমা দেওয়ার সময় প্রিন্স জানান, এ নেন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা পেয়েছি, এর মধ্যে দুই হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আপনারা যে টাকাটা বুঝে পেয়েছেন এ-সংক্রান্ত একটি কাগজে স্বাক্ষর করেন। পরে ওই কাগজটিতে আমি, মন্দিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা প্রাপ্তির স্বাক্ষর প্রদান করি। কাগজটিতে লেখা ছিল ‘নরসিংদী পৌর সভা ত্রাণ তহবিল সাহায্য’।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক অখিল দাস বলেন, মন্দিরের উন্নয়নের জন্য নরসিংদী পৌর সভায় একটি দরখাস্ত করি। পরে মন্দিরের জন্য টাকা বরাদ্দ হয় এবং সে টাকা তুলে নেন প্রিন্স। কিন্তু মন্দিরের নামে যে বরাদ্দ হয়েছে সে বিষয়টি আমরা কিছু জানি না এবং প্রিন্সও আমাদের জানায়নি। পরে সংবাদ প্রকাশ হলে আমরা জানতে পারি, আমাদের মন্দিরের নামে টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং আজ সকাল ১১টায় প্রিন্স নিজে এসে টাকা দিয়ে গেছে। সে মন্দিরের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এতদিন দেননি, সংবাদ প্রকাশের পর এসে দিয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল এ মন্দিরের নামে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শীতলা বাড়ি মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পে বিধি মোতাবেক প্রকল্প বাস্তবায়নে নরসিংদী জেলা পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক, জেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব দীপক কুমার বর্মন (প্রিন্স) কে সভাপতি, সঞ্জয় ধরকে সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ছাত্র দলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কিশান দাস পার্থ, সজয় দাস ও তুষার দাসকে সদস্য করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি দাখিল করা হয়। 

পরবর্তীতে গত ৫ এপ্রিল নরসিংদী পৌর প্রশাসক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে এই কমিটির অনুমোদনও দেওয়া হয়। পরে বিধি মোতাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে দীপক কুমার বর্মন (প্রিন্স) এর নামে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার চেক ইস্যু হয়। গত ১১ মে উক্ত চেক গ্রহণ করে নিজ ব্যাংক হিসেবে জমা দিয়ে টাকা আর মন্দির কমিটির কাছে হস্তান্তর করেননি।

বিএনপি নেতার পকেটে মন্দির উন্নয়নের বরাদ্দ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে রোববার (৫ জুলাই) দৈনিক কালবেলার শেষের পাতায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সে সংবাদ প্রকাশের পরই নড়েচড়ে বসে সেই নেতা দীপক কুমার বর্মন (প্রিন্স)। পরে মন্দিরে গিয়ে আত্মসাৎকৃত টাকা দিয়ে আসেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow