কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর সেই ফুলমনি পেলেন সহায়তা

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বেলওয়া আন্দিয়াপুকুর এলাকার অসহায় নব্বই ঊর্ধ্ব বৃদ্ধা ফুলমনি মুর্মুর পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোফাজ্জল হোসেন প্রধান। শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে তিন মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার চাল, ডাল, তেল, কাঁচাবাজারসহ শীতবস্ত্র এবং শাড়ি নিয়ে বৃদ্ধার বাড়ি গিয়ে হাজির হন। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর ‘পাশেই বসবাস সন্তানদের, তবু জীর্ণ ঘরে ধুঁকছেন ৯০ বছরের ফুলমনি’ এই শিরোনামে কালবেলা ভিডিও সংবাদ প্রকাশ করে। বিষয়টি ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিবের নজরে এলে তিনি তার সহায়তার ব্যবস্থা করেন। জানা গেছে, বৃদ্ধা ফুলমনি মুর্মু বিধবা হয়েছেন অনেক আগে। তার চার ছেলে ও দুই মেয়ে। সবাই বিয়ে করেছেন। বড় তিন ছেলে বিয়ে করে পাশাপাশি থাকলেও ভরণপোষণ তো দূরের কথা দেখতেও আসেন না তারা। তার ছোট ছেলে তার সঙ্গে থাকত এবং তার দেখাশোনাও করত। বেশ কিছু দিন আগে ছেলেটা মারা যায়। মৃত ছেলের একমাত্র সন্তান স্যামুয়েলকে আঁকড়ে ধরে এখন বেঁচে আছেন ফুলমনি মুর্মু।  কথাগুলো বলতে গিয়ে তার চোখমুখে ফুটে ওঠে দীর্ঘদিনের বেদনা। চোখ দুটি হয়তো কারও জন্য অপেক্ষা করছে। পাশেই তার

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর সেই ফুলমনি পেলেন সহায়তা
কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বেলওয়া আন্দিয়াপুকুর এলাকার অসহায় নব্বই ঊর্ধ্ব বৃদ্ধা ফুলমনি মুর্মুর পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোফাজ্জল হোসেন প্রধান। শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে তিন মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার চাল, ডাল, তেল, কাঁচাবাজারসহ শীতবস্ত্র এবং শাড়ি নিয়ে বৃদ্ধার বাড়ি গিয়ে হাজির হন। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর ‘পাশেই বসবাস সন্তানদের, তবু জীর্ণ ঘরে ধুঁকছেন ৯০ বছরের ফুলমনি’ এই শিরোনামে কালবেলা ভিডিও সংবাদ প্রকাশ করে। বিষয়টি ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিবের নজরে এলে তিনি তার সহায়তার ব্যবস্থা করেন। জানা গেছে, বৃদ্ধা ফুলমনি মুর্মু বিধবা হয়েছেন অনেক আগে। তার চার ছেলে ও দুই মেয়ে। সবাই বিয়ে করেছেন। বড় তিন ছেলে বিয়ে করে পাশাপাশি থাকলেও ভরণপোষণ তো দূরের কথা দেখতেও আসেন না তারা। তার ছোট ছেলে তার সঙ্গে থাকত এবং তার দেখাশোনাও করত। বেশ কিছু দিন আগে ছেলেটা মারা যায়। মৃত ছেলের একমাত্র সন্তান স্যামুয়েলকে আঁকড়ে ধরে এখন বেঁচে আছেন ফুলমনি মুর্মু।  কথাগুলো বলতে গিয়ে তার চোখমুখে ফুটে ওঠে দীর্ঘদিনের বেদনা। চোখ দুটি হয়তো কারও জন্য অপেক্ষা করছে। পাশেই তার দেহের মতোই ভাঙা শরীর নিয়ে কোনোমতে দাঁড়িয়ে আছে একমাত্র মাথা গোঁজার বাড়িটি। বাড়িটি দেখে বোঝাই যাচ্ছে, বহুদিন মেরামত না করার কারণে ঘরের টিন একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে ভেঙে গেছে ঘরের একপাশের দেয়াল। ঘরের বারান্দায় একটি পুরোনো চৌকি পেতে নাতিকে নিয়ে কোনো রকমে রাতযাপন করেন। মাথার ওপর ভাঙা টিনের ছাদ থাকলেও সেখানে নেই নিরাপত্তা, নেই স্বস্তি। ১৩ বছরের নাতি স্যামুয়েল হেমব্রম মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টুকটাক কাজ করে অথবা অন্যের গরু-ছাগল মাঠে চরিয়ে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়ে চলছে দাদি-নাতির দিন। ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোফাজ্জল হোসেন প্রধান জানান, সন্তান থাকা সত্ত্বেও তিনি চরম অবহেলায় দিন কাটাচ্ছেন। এটি শুধু একজন মানুষের নয়, পুরো সমাজের ব্যর্থতা। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।  তিনি বলেন, মানবিক দায়িত্ব থেকে পাশে দাঁড়িয়েছি। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই বৃদ্ধা ফুলমনি মুরমুর বসতঘরসহ টিনের চালা মেরামত করে দেওয়া হবে।   এ সময় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দিনাজপুর-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের জন্য দোয়া কামনা করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow