কালীগঞ্জে চাকুরির প্রলোভনে যুবককে অপহরণ করে নির্যাতন: গ্রেপ্তার ৪
গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিমানবন্দরে ভালো বেতনে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে অপহরণ করে পৈশাচিক নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃতের শরীরে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা ও দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার বিভীষিকার অবসান ঘটিয়েছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশি অভিযানে অপহৃত যুবককে উদ্ধারসহ এই চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার ইমাম হোসেন (৩৮), কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর পুনশহী এলাকার মো. ইমরান হোসেন (১৯) একই এলাকার মো. তারেক খন্দকার এবং ছৈলাদী এলাকার মো. আসাদুজ্জামান দুলাল (৪০)। শনিবার (২০ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. ফরহাদুল ইসলাম (৩৩) রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি ট্রাভেল শপে চাকুরি করতেন। সেই সুবাদে চাটখিলের ইমাম হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ইমাম তাকে আরও ভালো বেতনের চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে গত ১৮ জুন বিকেলে কালীগঞ্জের ঘোড়াশাল ব্রিজের নিচে ডেকে আনেন। সেখানে পৌঁছামাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি সিএনজিতে করে
গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিমানবন্দরে ভালো বেতনে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে অপহরণ করে পৈশাচিক নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃতের শরীরে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা ও দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার বিভীষিকার অবসান ঘটিয়েছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশি অভিযানে অপহৃত যুবককে উদ্ধারসহ এই চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার ইমাম হোসেন (৩৮), কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর পুনশহী এলাকার মো. ইমরান হোসেন (১৯) একই এলাকার মো. তারেক খন্দকার এবং ছৈলাদী এলাকার মো. আসাদুজ্জামান দুলাল (৪০)।
শনিবার (২০ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. ফরহাদুল ইসলাম (৩৩) রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি ট্রাভেল শপে চাকুরি করতেন। সেই সুবাদে চাটখিলের ইমাম হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ইমাম তাকে আরও ভালো বেতনের চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে গত ১৮ জুন বিকেলে কালীগঞ্জের ঘোড়াশাল ব্রিজের নিচে ডেকে আনেন। সেখানে পৌঁছামাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি সিএনজিতে করে তাকে অজ্ঞাত স্থানে অপহরণ করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
অপহরণের পর ফরহাদুলকে একটি নির্জন কক্ষে আটকে রেখে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় পৈশাচিক নির্যাতন। অপহরণকারীরা স্টিলের পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেয়। একপর্যায়ে ঘাতকরা ধারালো চাপাতি দিয়ে ফরহাদুলের ডান পায়ের হাঁটুতে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। প্রাণের ভয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার বিকাশের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা পাঠালেও মুক্তিপণের বাকি টাকার জন্য নির্যাতন অব্যাহত থাকে।
কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ রানা শামীম জানান, গত ১৯ জুন ভোওে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামালপুর এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি কওে ভুক্তভোগী ফরহাদুলকে উদ্ধার করা হয়। এসময় হাতেনাতে দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ জুন রাতে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের আরও এক সদস্যকে গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগীর দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৩৪৭/৩২৬/৩০৭ সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। তাদের জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের ধরতেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে আহত ফরহাদুল ইসলাম ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চাকুরির লোভে পড়ে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হওয়া ওই যুবকের আর্তনাদে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে।
What's Your Reaction?