কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের খেলা মার্বেল
একসময় গ্রামের মাঠ-ঘাট, উঠান কিংবা রাস্তার ধুলোবালিতে শিশু কিশোরদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকত মার্বেল খেলা। স্কুল শেষে কিংবা বিকেলের অবসরে বন্ধুদের সঙ্গে দলে দলে জড়ো হয়ে মার্বেল খেলতো তারা। কিন্তু কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সময়ের বিবর্তনে প্রযুক্তির প্রভাবে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই চেনা দৃশ্য এখন আর চোখেই পড়ে না। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই জনপ্রিয় খেলাটি আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি পাড়ায় ৮ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছেলেরা নিয়মিত মার্বেল খেলত। সেসময় খেলাটি শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, বরং শিশুদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, কৌশল ও বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে তুলত। কিন্তু বর্তমান সময়ের শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন চলে আসায় তারা মাঠের বদলে ঘরের ভেতরে সময় কাটাচ্ছে। মোবাইল সহজলভ্য হওয়ায় অনলাইনে তারা গেমস খেলছে অথবা রিলস ভিডিও দেখছে। যার ফলে মার্বেল খেলাসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যের খেলাধুলা বাঙালি সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের শিশুরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বাঙালি সংস্কৃতি থেকে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্তমান প্রজন্মের শিশুদ
একসময় গ্রামের মাঠ-ঘাট, উঠান কিংবা রাস্তার ধুলোবালিতে শিশু কিশোরদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকত মার্বেল খেলা। স্কুল শেষে কিংবা বিকেলের অবসরে বন্ধুদের সঙ্গে দলে দলে জড়ো হয়ে মার্বেল খেলতো তারা।
কিন্তু কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সময়ের বিবর্তনে প্রযুক্তির প্রভাবে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই চেনা দৃশ্য এখন আর চোখেই পড়ে না। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই জনপ্রিয় খেলাটি আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি পাড়ায় ৮ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছেলেরা নিয়মিত মার্বেল খেলত। সেসময় খেলাটি শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, বরং শিশুদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, কৌশল ও বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে তুলত। কিন্তু বর্তমান সময়ের শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন চলে আসায় তারা মাঠের বদলে ঘরের ভেতরে সময় কাটাচ্ছে।
মোবাইল সহজলভ্য হওয়ায় অনলাইনে তারা গেমস খেলছে অথবা রিলস ভিডিও দেখছে। যার ফলে মার্বেল খেলাসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যের খেলাধুলা বাঙালি সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের শিশুরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বাঙালি সংস্কৃতি থেকে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের মাঠমুখী করতে হলে পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। স্কুলে ক্রীড়া কার্যক্রম বাড়ানো এবং গ্রামীণ খেলা অন্তর্ভুক্ত করা, গ্রামে খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিশু-কিশোরদের মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা গেলে হারিয়ে যেতে বসা মার্বেল খেলাসহ অন্যান্য গ্রামীণ খেলাধুলা নতুন প্রজন্মের কাছে আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের নাগাইশ এলাকায় প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল মতিন (৭২) বলেন, আমাদের ছোটোবেলায় বিকেল হলেই সবাই মার্বেল নিয়ে মাঠে নামতাম। কে কত নিখুঁতভাবে মারতে পারে, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা হতো। এছাড়াও আরও গ্রামীণ নানা খেলাধুলার আমরা মত্ত ছিলাম। এখনকার ছেলে-মেয়েরা মোবাইল ছাড়া কিছুই বোঝে না। মার্বেল খেলা তো এখনকার অনেক শিশুকিশোর চিনেই না।
উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের আসাদনগর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা বজলু মিয়া (৬৮) বলেন, আমাদের ছেলেবেলা কেটেছে গ্রামীণ নানা খেলাধুলায়। এসব খেলার মধ্যে মার্বেল খেলা ছিল অন্যতম। বিকেল হলে আমরা বন্ধুরা মিলে মার্বেল খেলতাম বা অন্য গ্রামীণ খেলা খেলতাম। সে সময়টা ছিল খুব আনন্দের। তবে এখনকার বাচ্চারা সারাদিন মোবাইলে গেমস খেলে বা মোবাইলে ভিডিও দেখে সময় নষ্ট করছে। এ কারণেই এখনকার শিশুদের মধ্যে এ ধরনের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ দেখা যায় না।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, একসময় গ্রামীণ খেলাধুলা শিশুদের সামাজিক ও দলগত মানসিকতা গড়ে তুলত। একজন আরেকজনের প্রতি বন্ধুসুলভ ছিল। তবে এখনকার শিশুরা একা একা মোবাইল নিয়ে ঘরের মধ্যে বসে থাকে। এতে তারা পরিবার ও সমাজ থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে পড়াশোনা থেকেও। যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক অরূপ সিংহ বলেন, শিশুদের গ্রামীণ খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলে তাদের শারীরিক সক্ষমতা কমে যাচ্ছে, চোখের সমস্যা, স্থূলতা ও মানসিক একাকিত্বের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের সম্পর্কও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় মার্বেল খেলছে একদল শিশুকিশোর। ছবি : কালবেলা
What's Your Reaction?