কাশ্মীরে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২৪, অচল জনজীবন

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে টানা দুই সপ্তাহের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এ ঘটনায় শত শত বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।  শুক্রবার (১৯ জুন) স্কাই নিউজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধান সড়ক বন্ধ, ইন্টারনেট সেবা স্থগিত এবং গণমাধ্যমের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। আসন্ন আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনে শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ আন্দোলনের সূচনা হয়। ৪৫ সদস্যের আইনসভায় এসব আসন ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুতদের জন্য নির্ধারিত। সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) ধর্মঘটের ডাক দেয়। সংগঠনটির হাজারো সমর্থক বর্তমানে আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে রাওয়ালাকোটের উপকণ্ঠে অবস্থান করছেন।   জেএএসির অভিযোগ, পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী ব্যক্তিরা সংরক্ষিত আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে কাশ্মীরের বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক প্রভাব অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় বলে দাবি সংগঠনটির।  সরকারের আরোপ

কাশ্মীরে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২৪, অচল জনজীবন

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে টানা দুই সপ্তাহের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এ ঘটনায় শত শত বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

শুক্রবার (১৯ জুন) স্কাই নিউজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধান সড়ক বন্ধ, ইন্টারনেট সেবা স্থগিত এবং গণমাধ্যমের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।

আসন্ন আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনে শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ আন্দোলনের সূচনা হয়। ৪৫ সদস্যের আইনসভায় এসব আসন ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুতদের জন্য নির্ধারিত।

সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) ধর্মঘটের ডাক দেয়। সংগঠনটির হাজারো সমর্থক বর্তমানে আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে রাওয়ালাকোটের উপকণ্ঠে অবস্থান করছেন।  

জেএএসির অভিযোগ, পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী ব্যক্তিরা সংরক্ষিত আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে কাশ্মীরের বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক প্রভাব অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় বলে দাবি সংগঠনটির। 

সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধে পুরো অঞ্চলের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সাধারণত ব্যস্ত থাকা মুজাফফরাবাদের বাজার, মুদি দোকান ও খাবারের স্টলগুলো বন্ধ রয়েছে। দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ কাজের অভাবে অলস সময় কাটাচ্ছেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে বিক্ষোভ ও সহিংসতায় অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হন। পরে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে পৌঁছেছে।

ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সেবা বন্ধ থাকায় এটিএম ও ব্যাংকিং কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে। সরকারি নির্দেশে বন্ধ রয়েছে পেট্রল পাম্পগুলো। যদিও কিছু ওষুধের দোকান, মুদি দোকান এবং ফল-সবজি বিক্রেতারা সীমিত সময়ের জন্য ব্যবসা শুরু করেছেন, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এখনও বন্ধ।

উল্লেখ্য, হিমালয় অঞ্চলের কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত। উভয় দেশই পুরো কাশ্মীরের ওপর দাবি করে এবং ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর এ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দুইবার যুদ্ধে জড়িয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow