কীভাবে বিলিয়নিয়ার হলেন মেসি, তিনি কি এখন রোনালদোর চেয়েও ধনী?

আর্জেন্টাইন ফুটবল সুপারস্টার লিওনেল মেসি বিলিয়নিয়ারদের ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ডের মোট সম্পদের পরিমাণ ১.১ বিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে তিনি ইতিহাসের মাত্র চারজন সক্রিয় ক্রীড়াবিদের একজন, যাদের সম্পদ এক বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। তবে রোনালদো বিলিয়নিয়ার হওয়ার মাইলফলক আগে স্পর্শ করলেও, দুজনের সম্পদের ব্যবধান এখন আগের তুলনায় অনেক কম। আর মেসির সম্পদ গড়ে ওঠার পথও ছিল একেবারেই ভিন্ন। কীভাবে বিলিয়নিয়ার হলেন মেসি? সহজ উত্তর হলো—দীর্ঘদিনের এলিট পর্যায়ের আয়, যা বছরের পর বছর ধরে জমা হয়েছে। তবে পুরো গল্পটি আরও অনেক বেশি বিস্তৃত। মেসি প্রথম ফোর্বসের সর্বোচ্চ আয়কারী ফুটবলারদের তালিকায় আসেন ২০০৮ সালে। তখন তার আয় ছিল আনুমানিক ১১.৯ মিলিয়ন ডলার। এরপর বার্সেলোনায় কাটানো এক দশকে তার আয় দ্রুত বাড়তে থাকে। পরে স্প্যানিশ সংবাদপত্র এল মুন্ডো-তে প্রকাশিত একটি ফাঁস হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, শুধু ২০১৭-১৮ মৌসুমেই তিনি প্রায় ১৭৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিলেন। আরও পড়ুন>কে এই আলোচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান বিলিয়নিয়ার রবিন খুদাযুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী নারী কারা, লাফিয়ে

কীভাবে বিলিয়নিয়ার হলেন মেসি, তিনি কি এখন রোনালদোর চেয়েও ধনী?

আর্জেন্টাইন ফুটবল সুপারস্টার লিওনেল মেসি বিলিয়নিয়ারদের ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ডের মোট সম্পদের পরিমাণ ১.১ বিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে তিনি ইতিহাসের মাত্র চারজন সক্রিয় ক্রীড়াবিদের একজন, যাদের সম্পদ এক বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।

তবে রোনালদো বিলিয়নিয়ার হওয়ার মাইলফলক আগে স্পর্শ করলেও, দুজনের সম্পদের ব্যবধান এখন আগের তুলনায় অনেক কম। আর মেসির সম্পদ গড়ে ওঠার পথও ছিল একেবারেই ভিন্ন।

কীভাবে বিলিয়নিয়ার হলেন মেসি?

সহজ উত্তর হলো—দীর্ঘদিনের এলিট পর্যায়ের আয়, যা বছরের পর বছর ধরে জমা হয়েছে। তবে পুরো গল্পটি আরও অনেক বেশি বিস্তৃত।

মেসি প্রথম ফোর্বসের সর্বোচ্চ আয়কারী ফুটবলারদের তালিকায় আসেন ২০০৮ সালে। তখন তার আয় ছিল আনুমানিক ১১.৯ মিলিয়ন ডলার। এরপর বার্সেলোনায় কাটানো এক দশকে তার আয় দ্রুত বাড়তে থাকে।

পরে স্প্যানিশ সংবাদপত্র এল মুন্ডো-তে প্রকাশিত একটি ফাঁস হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, শুধু ২০১৭-১৮ মৌসুমেই তিনি প্রায় ১৭৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিলেন।

আরও পড়ুন>
কে এই আলোচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী নারী কারা, লাফিয়ে বাড়ছে তাদের সম্পত্তি

ইন্টার মায়ামিতে যোগদান

ইন্টার মায়ামিতে তার যোগদান যতটা বড় আর্থিক চুক্তি বলে মনে হয়েছিল, বাস্তবে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন।

মেসি সৌদি আরবের একটি ক্লাবের কাছ থেকে বছরে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। অনেকের মতে, সেই প্রস্তাব গ্রহণ করলে তিনি আরও আগেই বিলিয়নিয়ার হয়ে যেতেন।

ক্লাব মালিকানা ও সম্পদ বৃদ্ধি

খেলার আয়ের বাইরে মেসির ইন্টার মায়ামিতে মালিকানার অংশও রয়েছে, যা অবসরের পর কার্যকর হবে।

তার আগমনের আগে ক্লাবটির বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে সেই মূল্য বেড়ে ১.৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

মেসির বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মূল উৎস হলো দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অর্জিত নগদ আয় এবং সম্পদের মূল্যবৃদ্ধি—কোনো একটি বড় চুক্তি নয়।

স্পনসরশিপ ও ব্যবসা

মেসির বাণিজ্যিক আয়ও তার সম্পদ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বর্তমানে তার এক ডজনেরও বেশি সক্রিয় স্পনসরশিপ চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: অ্যাডিডাস, মাস্টারকার্ড, লেইস, মাইকেলব আল্ট্রা।

২০১৭ সালে অ্যাডিডাসের সঙ্গে করা আজীবন অংশীদারিত্ব চুক্তি তার বাণিজ্যিক আয়ের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।

রিয়েল এস্টেট, হোটেল ও ফুটবল ক্লাব

মেসি স্পেনে ইডিফিসো রোসটোওয়ার সোসিমি নামে একটি রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট গড়ে তুলেছেন। তিনি মিয়ামি হোটেলস নামের বুটিক হোটেল চেইনেও অংশীদার।

এছাড়া তিনি দুটি ফুটবল ক্লাবের মালিক। এর মধ্যে একটি হলো উরুগুয়ের ডিপোর্টিভো এলএসএম, যা তিনি গত বছর লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেন।

২০২৫ সালে ইন্টার মায়ামির হয়ে এমএলএস কাপ জয়ের মাধ্যমে ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথম শিরোপা এনে দেন মেসি। এতে তার যুক্তরাষ্ট্রে আসার সিদ্ধান্তের বাণিজ্যিক মূল্য আরও বেড়ে যায়।

আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা মেসি ২০২৩ সালে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো ব্যালন ডিঅর জিতে বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি অর্জন করেন। এর মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদোর চেয়ে তিনটি বেশি ব্যালন ডিঅরের মালিক হন।

আরও পড়ুন>
কে এই আলোচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী নারী কারা, লাফিয়ে বাড়ছে তাদের সম্পত্তি

ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময় কাটানোর পর ২০২১ সালের আগস্টে মেসি নিজের একমাত্র পেশাদার ক্লাব এফসি বার্সোলনা ছেড়ে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন-এ যোগ দেন। বার্সেলোনা ছাড়ার ঘটনাটি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত স্থানান্তর হিসেবে বিবেচিত হয়।

এরপর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেন, যা উত্তর আমেরিকার ফুটবলে নতুন আগ্রহ ও বাণিজ্যিক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।

ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির আরেকটি বিশেষ দিক হলো, ক্লাবে তার সময় শেষ হওয়ার পর তিনি চাইলে মালিকানার অংশ নিতে পারবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই অধিকার প্রয়োগ করতে তাকে কোনো অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে না।

মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় মেসি। ২০১৯ সালে তিনি নিজের পোশাক ব্র্যান্ড চালু করেন এবং স্পেনের বার্সেলোনায় মেসি স্টোর নামে প্রথম খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।

ফুটবলের মাঠে রেকর্ড গড়া থেকে শুরু করে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ও ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলা—মেসি এখন শুধু একজন কিংবদন্তি ফুটবলারই নন, বরং বিশ্বের অন্যতম সফল ক্রীড়া উদ্যোক্তাও।

মেসি কি এখন রোনালদোর চেয়েও ধনী?

সংক্ষিপ্ত উত্তর—না। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে তার সম্পদ এক বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে সৌদি ক্লাব আল নাসরে তার করমুক্ত ২৩৫ মিলিয়ন ডলারের বার্ষিক চুক্তির।

ফোর্বসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে তার মোট আয় ৩০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা তাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে ধরে রেখেছে।

বর্তমানে রোনালদোর মোট সম্পদের পরিমাণ বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী ১.২ থেকে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স তার সম্পদের পরিমাণ ১.৪ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে মেসির মোট সম্পদ বর্তমানে ১.১ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালে তার মোট আয় হতে পারে ১৪০ মিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে অন ফিল্ড থেকে আসবে ৭০ মিলিয়ন আর অফ ফিল্ড থেকে আসবে বাকি ৭০ মিলিয়ন ডলার।

দুই তারকার সম্পদ গঠনের পার্থক্য

বিশ্লেষকদের মতে, মেসির অর্জন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কারণ তিনি সম্পদ গড়ে তুলেছেন ভিন্ন পথে।

তিনি তুলনামূলক কম আয়ের একটি লিগে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সৌদি আরবের বিশাল প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি আয়, ইকুইটি কাঠামো ও দুই দশকের ব্র্যান্ডমূল্যের মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

অন্যদিকে রোনালদোর সম্পদের বড় অংশ তার বর্তমান বিশাল চুক্তিকে কেন্দ্র করে। মেসির সম্পদ তুলনামূলকভাবে বেশি বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে এসেছে।

বর্তমানে মেসি ও রোনালদোই একমাত্র সক্রিয় দলগত খেলার ক্রীড়াবিদ, যারা খেলোয়াড়ি জীবন চলাকালীন এক বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হয়েছেন।

বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী ক্রীড়াবিদদের ২০২৬ সালের তালিকায় শীর্ষ দশ তারকা মিলিয়ে আয় করেছেন প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার। তাদের মোট আয় ২০২৫ সালের তুলনায় সামান্য বেশি এবং ২০১৬ সালের ৬৩৫ মিলিয়ন ডলারের দ্বিগুণেরও বেশি। এবারও টানা তৃতীয় বছরের মতো শীর্ষ দশের প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের আয় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

মাঠের আয় কমলেও বেড়েছে বাণিজ্যিক আয়

২০২৬ সালে শীর্ষ দশ ক্রীড়াবিদ মাঠে খেলে—বেতন, বোনাস ও পুরস্কার অর্থ মিলিয়ে—মোট ৯০২ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন।

এটি ২০২৫ সালের ৯২০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২ শতাংশ কম এবং ২০২৪ সালের রেকর্ড ৯৭৮ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৮ শতাংশ কম।

তবে মাঠের বাইরের আয় এই ঘাটতি পূরণ করেছে। স্পনসরশিপ, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে তারা মোট ৫১৩ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন, যা ২০২১ সালের ৫১২ মিলিয়ন ডলারের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

আরও পড়ুন>
কে এই আলোচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনী নারী কারা, লাফিয়ে বাড়ছে তাদের সম্পত্তি

সৌদি আরবের অর্থের প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবের বিপুল বিনিয়োগ ক্রীড়াজগতের আয় কাঠামোয় বড় প্রভাব ফেলেছে।

রোনালদো ২০২৩ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ছেড়ে সৌদি প্রো লিগে যোগ দেওয়ার পর তার মাঠের আয় তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।

তার লিগ প্রতিদ্বন্দ্বী করিম বেঞ্জামিন ১০৪ মিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে এবারের তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন এবং তিনিও নয় অঙ্কের বেতন পাচ্ছেন।

এদিকে ক্যানেলো আলভারেজ বর্তমানে রিয়াদ সিজনের চেয়ারম্যান তুর্কি অ্যালাশিখের সঙ্গে চার ম্যাচের একটি চুক্তির মাঝপথে রয়েছেন, যার সম্ভাব্য মূল্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow