কুঁড়িগ্রাম নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা-ফসলি জমি

কুড়িগ্রামের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে আবারও হুমকিতে পড়েছে জেলার শত শত পরিবার। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ফলে তীরবর্তী হাজারো মানুষ অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। বিশেষ করে চার নদীর তীরবর্তী কৃষকরা প্রতিদিনই আবাদি জমি হারাচ্ছেন। ভুট্টা, ধানসহ বিভিন্ন ফসল নদীতে চলে যাওয়ায় পড়েছেন চরম সংকটে। অনেক বসতবাড়িও এখন ঝুঁকির মুখে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, জেলার তিস্তা নদীর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনপ্রবণতা রয়েছে। এর মধ্যে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের রামহরি এলাকায় চারশ মিটার, নাজিমখান ইউনিয়নে পাঁচশ মিটার, উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চাপড়ারপাড়ে হাজার মিটার, সাদুয়ারদামারহাটে পাঁচশ মিটার এবং বজরায় সাতশ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উলিপুরের চর জলংকার কুঠির বাসিন্দা আবু বক্কর জানান, নদী ভাঙতে ভাঙতে বাড়ির কাছে এসেছে।এবার বাড়ি ভাঙলে যাওয়ার জায়গা নেই। এদিকে, দলদলিয়া ইউনিয়নের চাপড়ারপাড় থেকে গোড়াইপিয়ার পর্যন্ত প্রায় ২-৩ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র ভাঙ

কুঁড়িগ্রাম নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা-ফসলি জমি

কুড়িগ্রামের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে আবারও হুমকিতে পড়েছে জেলার শত শত পরিবার। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ফলে তীরবর্তী হাজারো মানুষ অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। বিশেষ করে চার নদীর তীরবর্তী কৃষকরা প্রতিদিনই আবাদি জমি হারাচ্ছেন। ভুট্টা, ধানসহ বিভিন্ন ফসল নদীতে চলে যাওয়ায় পড়েছেন চরম সংকটে। অনেক বসতবাড়িও এখন ঝুঁকির মুখে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, জেলার তিস্তা নদীর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনপ্রবণতা রয়েছে। এর মধ্যে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের রামহরি এলাকায় চারশ মিটার, নাজিমখান ইউনিয়নে পাঁচশ মিটার, উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চাপড়ারপাড়ে হাজার মিটার, সাদুয়ারদামারহাটে পাঁচশ মিটার এবং বজরায় সাতশ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উলিপুরের চর জলংকার কুঠির বাসিন্দা আবু বক্কর জানান, নদী ভাঙতে ভাঙতে বাড়ির কাছে এসেছে।এবার বাড়ি ভাঙলে যাওয়ার জায়গা নেই।

এদিকে, দলদলিয়া ইউনিয়নের চাপড়ারপাড় থেকে গোড়াইপিয়ার পর্যন্ত প্রায় ২-৩ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু স্থানে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও গোড়াইপিয়ার গ্রামে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই জমি বিলীন হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কাওছার আহমেদ জানান, গোড়াইপিয়ার গ্রামের মূল ভূখন্ডের দুই-তৃতীয়াংশ বিগত বছরগুলোতে বিলীন হয়েছে। এ বছর বর্ষা শুরুর আগেই তিস্তা আগ্রাসী রূপ নিয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে গ্রামের বাকি অংশও নদীতে বিলীন হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন জরুরি। এতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এক লাখ জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হবে।

রোকনুজ্জামান মানু/এএইচ/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow