কুকুর ঢুকলে কি মসজিদ অপবিত্র হয়ে যায়?

প্রশ্ন: কোনো কুকুর যদি মসজিদের বারান্দায় ঢুকে শুয়ে থাকে বা ঘুমায়, তাহলে কি মসজিদের ওই জায়গা অপবিত্র হয়ে যায়? না ধুয়ে ওই জায়গায় নামাজ পড়লে নামাজ হবে? উত্তর: কুকুরের শরীর নাপাক নয়। তবে কুকুরের মলমুত্র ও লালা নাপাক। কুকুর যদি মসজিদে ঢুকে শুয়ে থাকে বা ঘুমায়, লালা বা অন্য কোনো নাপাকির চিহ্ন দেখা না যায়, তাহলে শুধু শরীর লাগার কারণে ওই জায়গা নাপাক হবে না। পবিত্র পানি পড়ে কুকুরের শরীর ভিজলে ওই ভেজা শরীরও নাপাক নয়। তাই বৃষ্টি বা এ রকম পবিত্র পানিতে ভেজা কোনো কুকুর যদি মসজিদে ঢুকে বসে বা শোয়, তাহলেও মসজিদ নাপাক হবে না। তবে কুকুরের শরীর নাপাক কোনো তরলে ভেজার সম্ভাবনা থাকলে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আর কুকুরের মলমুত্র ও লালা যেহেতু নাপাক, তাই যে কোনোভাবে মসজিদের মেঝেতে কুকুরের মলমুত্র বা লালা লাগলে ওই জায়গা অপবিত্র হয়ে যাবে এবং ভালোভাবে ধুয়ে পবিত্র করতে হবে। উল্লেখ্য যে, কোনো প্রয়োজন ছাড়া শখ করে কুকুর পোষা ইসলামে নিষিদ্ধ। তবে প্রয়োজন থাকলে যেমন বাড়িঘর, ক্ষেত-খামার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, অপরাধের উৎস অনুসন্ধান বা অপরাধী চিহ্নিত করা, শিকার করা ইত্যাদির জন্য কুকুর পোষা বৈধ। রাসুল (সা.) বলেছ

কুকুর ঢুকলে কি মসজিদ অপবিত্র হয়ে যায়?

প্রশ্ন: কোনো কুকুর যদি মসজিদের বারান্দায় ঢুকে শুয়ে থাকে বা ঘুমায়, তাহলে কি মসজিদের ওই জায়গা অপবিত্র হয়ে যায়? না ধুয়ে ওই জায়গায় নামাজ পড়লে নামাজ হবে?

উত্তর: কুকুরের শরীর নাপাক নয়। তবে কুকুরের মলমুত্র ও লালা নাপাক। কুকুর যদি মসজিদে ঢুকে শুয়ে থাকে বা ঘুমায়, লালা বা অন্য কোনো নাপাকির চিহ্ন দেখা না যায়, তাহলে শুধু শরীর লাগার কারণে ওই জায়গা নাপাক হবে না।

পবিত্র পানি পড়ে কুকুরের শরীর ভিজলে ওই ভেজা শরীরও নাপাক নয়। তাই বৃষ্টি বা এ রকম পবিত্র পানিতে ভেজা কোনো কুকুর যদি মসজিদে ঢুকে বসে বা শোয়, তাহলেও মসজিদ নাপাক হবে না। তবে কুকুরের শরীর নাপাক কোনো তরলে ভেজার সম্ভাবনা থাকলে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

আর কুকুরের মলমুত্র ও লালা যেহেতু নাপাক, তাই যে কোনোভাবে মসজিদের মেঝেতে কুকুরের মলমুত্র বা লালা লাগলে ওই জায়গা অপবিত্র হয়ে যাবে এবং ভালোভাবে ধুয়ে পবিত্র করতে হবে

উল্লেখ্য যে, কোনো প্রয়োজন ছাড়া শখ করে কুকুর পোষা ইসলামে নিষিদ্ধ। তবে প্রয়োজন থাকলে যেমন বাড়িঘর, ক্ষেত-খামার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, অপরাধের উৎস অনুসন্ধান বা অপরাধী চিহ্নিত করা, শিকার করা ইত্যাদির জন্য কুকুর পোষা বৈধ। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর পোষে ওই ব্যক্তির প্রতিদিন দুই কিরাত পরিমাণ নেকি হ্রাস পায়। (সহিহ মুসলিম:  ১৫৭৫)

এ হাদিস এবং আরও কিছু হাদিসে সওয়াবের পরিমাণ বোঝাতে ‘কিরাত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ‘কিরাত’ শব্দের অর্থ সম্পর্কে ইমাম নববি (রহ.) লিখেছেন, ‘‘কিরাত” একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ যা আল্লাহ তাআলা জানেন।’ অর্থাৎ বিনা প্রয়োজনে কুকুর পুষলে আমলনামা থেকে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী কিছু পরিমাণ সওয়াব কমে যেতে পারে।

তবে আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে সব জীবজন্তুর মতোই কুকুর প্রতি দয়া করা, কুকুরকে খাবার-পানি দেওয়া, কোনো বিপদে পড়লে উদ্ধার করা সওয়াবের কাজ। বিপদজনক বা ক্ষতিকর না হয়ে উঠলে কুকুরকে কোনোভাবে কষ্ট দেওয়া, হত্যা করা গুনাহের কাজ।

হাদিসে এসেছে বনি ইসরাইলের এক ব্যাভিচারী নারী কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেছিলো। রাসুল (সা.) বলেন, একবার এক তৃষ্ণার্ত কুকুর কূপের পাশে ঘোরাঘুরি করছিল। তৃষ্ণায় তার প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হয়। বনি ইসরাইলের এক ব্যভিচারী নারী তা দেখতে পেয়ে নিজের পায়ের মোজা খুলে মোজায় পানি ভরে কুকুরটিকে পানি পান করায়। এ কারণে তার আগের সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি: ৩৪৬৭)

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow