পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য প্রথমবারের মতো আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) থেকে শুরু হয়ে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) গিয়ে শেষ হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে আরডিএ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাছানাত আলী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী, ইউজিসির হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান এবং আরডিএ মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছেন তারা। তিনি বলেন, আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক ও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে 'স্টুডেন্ট ফার্স্ট' দর্শনকে সামনে রেখে যুগের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষকদের দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এ সময় তিনি নতুন ক্যাম্পাসকে পরিবেশবান্ধব গ্রিন ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাছানাত আলী বলেন, বাংলাদেশে কোনো পূর্ব প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, বিশ্বের অন্য কোথাও এমন নজির থাকার কথা তার জানা নেই। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে সরকারের বিনিয়োগ এখনও অপ্রতুল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে হলে শিক্ষকদের জন্য উন্নত মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। পাশাপাশি শিক্ষকদের সামনে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রতিনিয়ত ঘটছে এবং এই অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে বিশ্ব থেকে পিছিয়ে পড়তে হবে। প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে শিক্ষকদের গুণগত মান আরও বাড়বে এবং বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান বলেন, হিট প্রজেক্টের আওতায় দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে সরকার। শিক্ষকদের জন্য আরো ব্যাপক পরিসরে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা গেলে তা দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে ভুমিকা রাখবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ থেকে অন্তত ৩০ জন শিক্ষক এবারের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। সাত দিনের এই কর্মসূচিতে শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস, আইকিউএসি (গুণগত মান নিশ্চিতকরণ সেল) সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, আউটকাম বেজড এডুকেশন (ওবিই), আধুনিক শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষা পরিচালনার নিয়মনীতি, আয়কর সচেতনতা, কর্মক্ষেত্রে নৈতিকতা, গবেষণা ও প্রকাশনা, সরকারি চাকরির বিধিমালা এবং জেন্ডার সচেতনতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।