কুমিল্লা-১০ আসনে ত্রিমুখী সমীকরণ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) সংসদীয় আসনে ভোটের রাজনীতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। একসময় যে আসনটিকে বিএনপির জন্য তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছিল, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেটি এখন স্পষ্টভাবে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চে পরিণত হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সরাসরি প্রতিযোগিতার মাঝখানে নতুন শক্তি হিসেবে দৃশ্যপটে উঠে এসেছে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা তৈরি হয়েছিল- আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় না থাকায় কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির জয় প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই হিসাব বদলাতে শুরু করে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। মাঠপর্যায়ের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মওলানা ইয়াসিন আরাফাত শুরু থেকেই সুসংগঠিত ও ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচার-প্রচারণা, জনসংযোগ এবং সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে তিনি বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। ধর্মভি

কুমিল্লা-১০ আসনে ত্রিমুখী সমীকরণ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) সংসদীয় আসনে ভোটের রাজনীতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। একসময় যে আসনটিকে বিএনপির জন্য তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছিল, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেটি এখন স্পষ্টভাবে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চে পরিণত হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সরাসরি প্রতিযোগিতার মাঝখানে নতুন শক্তি হিসেবে দৃশ্যপটে উঠে এসেছে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা তৈরি হয়েছিল- আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় না থাকায় কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির জয় প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই হিসাব বদলাতে শুরু করে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে।

মাঠপর্যায়ের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মওলানা ইয়াসিন আরাফাত শুরু থেকেই সুসংগঠিত ও ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচার-প্রচারণা, জনসংযোগ এবং সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে তিনি বর্তমানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংক ও সংগঠিত কর্মীসমর্থন তার প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ শুরুতে কিছুটা অনিশ্চিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা দলটির পক্ষে ইতিবাচক রূপ নিয়েছে। দুজন বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে শুরুতে জটিলতা তৈরি হলেও নাটকীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবেক নেতা গফুর ভূঁইয়া ও মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মধ্যে কোনো প্রকাশ্য বিরোধ নেই। বরং দুজনই একসঙ্গে মাঠে সক্রিয় থাকায় বিএনপির ভোটব্যাংক ঐক্যবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বাড়ছে।

এই দুই রাজনৈতিক শক্তির মাঝেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। প্রথমদিকে দলটি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকলেও আসন বণ্টন ও আদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে সেখান থেকে সরে আসে। বর্তমানে কুমিল্লা-১০ আসনে দলটির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী।

লালমাই উপজেলার সন্তান হওয়ায় মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফীর প্রতি স্থানীয়ভাবে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লালমাই উপজেলার একটি উল্লেখযোগ্য অংশের ভোট ইসলামী আন্দোলনের দিকে ঝুঁকতে পারে। অপরদিকে বিএনপি ও জামায়াত-উভয় দলের প্রার্থীই নাঙ্গলকোট উপজেলার হওয়ায় সেখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই দুই দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি।

এবারের নির্বাচনে তরুণ ও অনির্ধারিত ভোটারদের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। স্থানীয় তরুণ ভোটার মাইন উদ্দিন বলেন, এবার শুধু দলীয় কর্মীদের ভোটে জয় সম্ভব নয়। অরাজনৈতিক তরুণ ভোটার এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকদের ভোটই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে। পেশিশক্তি বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে ভোট আদায় করা সহজ হবে না।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-১০ আসনে মোট ১৫২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ২৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৬ হাজার ২২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৪৭ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৭৯ জন।

সব মিলিয়ে কুমিল্লা-১০ আসনের এবারের নির্বাচন কোনো একক রাজনৈতিক সমীকরণে আবদ্ধ নয়। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের ত্রিমুখী প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত কারা এগিয়ে থাকবে– তা নির্ভর করবে ভোটের দিন তরুণ, অনিশ্চিত ও সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর। এই আসনের ফলাফল শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow