কুলাউড়ায় ৩০ বছর পর বিএনপি প্রার্থীর বিজয়
মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনে দীর্ঘ ত্রিশ বছর পর বিএনপি আসন পুনরুদ্ধার করেছে। দলের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ শওকতুল ইসলাম শকু ১৪ হাজার ৯২৩ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট হলো ৬৮ হাজার ৩৮১। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী এম সায়েদ আলী। তিনি দাঁড়িপাল্লার প্রতীকে পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৫৮ ভোট। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল চূড়ান্ত এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত ফলাফল ঘোষণার পর কুলাউড়া উপজেলাজুড়ে ধানের শীষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা যায়। রাতে উপজেলা পরিষদের সামনে হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিজয় উল্লাস করতে দেখা গেছে। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ শওকতুল ইসলাম শকু ৬৮ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান সাহেদ কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে প
মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনে দীর্ঘ ত্রিশ বছর পর বিএনপি আসন পুনরুদ্ধার করেছে। দলের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ শওকতুল ইসলাম শকু ১৪ হাজার ৯২৩ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
তার প্রাপ্ত ভোট হলো ৬৮ হাজার ৩৮১। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী এম সায়েদ আলী। তিনি দাঁড়িপাল্লার প্রতীকে পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৫৮ ভোট।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল চূড়ান্ত এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
এর আগে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত ফলাফল ঘোষণার পর কুলাউড়া উপজেলাজুড়ে ধানের শীষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা যায়। রাতে উপজেলা পরিষদের সামনে হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিজয় উল্লাস করতে দেখা গেছে।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ শওকতুল ইসলাম শকু ৬৮ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান সাহেদ কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৫ হাজার ৮৮৯ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান ফুটবল প্রতীক নিয়ে ১৩ হাজার ৭৫৪ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী জিমিউর রহমান চৌধুরী ম্যান্ডেলা ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ১৪১ ভোট, বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী কাঁচি প্রতীকে ৫৯১ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত আব্দুল কুদ্দুস হাতপাখা প্রতীকে ৫২০ ভোট এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত মো. আব্দুল মালিক লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৮৪ ভোট।
এ আসনে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভা মিলে ভোটার সংখ্যা হলো ৩ লাখ ৩ হাজার ২০। পোস্টাল ভোট গণনা কেন্দ্রসহ মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা হলো ১০৪। মোট প্রদত্ত ভোট হলো ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮১৯। বৈধ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১৮। বাতিল ভোট ৪ হাজার ৬০১। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এদিকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৮৩ হাজার ৯৩০।
এক প্রতিক্রিয়ায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিএনপি নবনির্বাচিত এমপি শওকতুল ইসলাম শকু বলেন, এ বিজয় সমগ্র কুলাউড়া উপজেলাবাসীর। নির্বাচনে কার ভোট পেলাম না পেলাম সেটা বড় বিষয় নয়। কুলাউড়ার সকল শ্রেণিপেশার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনি আরও বলেন, কুলাউড়ার সবকটি চা-বাগানের শ্রমিকসহ সব ভোটারদের ঋণ শোধ করবার নয়। এবারের নির্বাচনে চা শ্রমিক ভাইবোনেরা রেকর্ড সংখ্যক ভোট দিয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে ভূমিকা রেখেছেন। দল, মত, নির্বিশেষে কুলাউড়ার এমপি হয়ে জনগণের জন্য কাজ করে যেতে চাই।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী এম এম শাহীন জয়ী হন। পরে ওই সংসদ বেশিদিন কার্যকর হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ পরবর্তী ছয়টি সংসদ নির্বাচনে টানা ৩০ বছরের মধ্যে দুইবার আওয়ামী লীগ, একবার জাতীয় পার্টি, দুই বার স্বতন্ত্র ও একবার গণফোরামের এমপি নির্বাচিত হন।
What's Your Reaction?