কুসংস্কার থেকে মেসিদের বাঁচাতে হাজির ‘সুরক্ষা কবচ’

মাঠে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা যখন কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখন মাঠের বাইরেও শুরু হয়েছে আরেক ধরনের লড়াই। তবে সেটি ফুটবলীয় নয়, বরং কুসংস্কার, বিশ্বাস আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঘিরে। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বহুল ব্যবহৃত শব্দবন্ধ ‘আনুলো মুফা’। ঘটনার সূত্রপাত ঘানার আলোচিত তান্ত্রিক নানা কোয়াকু বোনসামের এক ভবিষ্যদ্বাণীকে ঘিরে। সম্প্রতি তিনি দাবি করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে আফ্রিকার চমক কেপ ভার্দে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে বিদায় করে দেবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কেপ ভার্দের জয়ের জন্য তার ‘সমস্ত আধ্যাত্মিক শক্তি’ কাজ করবে। ফুটবলকে ঘিরে বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য পরিচিত বোনসামের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের নজরে আসতেই শুরু হয় ভিন্ন এক প্রতিক্রিয়া। বোনসামের এই বক্তব্যকে ‘অপয়া’ বা অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে ধরে নিয়ে হাজার হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক একযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখতে শুরু করেন ‘আনুলো মুফা’। আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের ফুটবল সংস্কৃতিতে‘মুফা’ শব্দটি দুর্ভাগ্য, কুফা বা

কুসংস্কার থেকে মেসিদের বাঁচাতে হাজির ‘সুরক্ষা কবচ’

মাঠে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা যখন কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখন মাঠের বাইরেও শুরু হয়েছে আরেক ধরনের লড়াই। তবে সেটি ফুটবলীয় নয়, বরং কুসংস্কার, বিশ্বাস আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঘিরে। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বহুল ব্যবহৃত শব্দবন্ধ ‘আনুলো মুফা’।

ঘটনার সূত্রপাত ঘানার আলোচিত তান্ত্রিক নানা কোয়াকু বোনসামের এক ভবিষ্যদ্বাণীকে ঘিরে। সম্প্রতি তিনি দাবি করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে আফ্রিকার চমক কেপ ভার্দে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে বিদায় করে দেবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কেপ ভার্দের জয়ের জন্য তার ‘সমস্ত আধ্যাত্মিক শক্তি’ কাজ করবে।

ফুটবলকে ঘিরে বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য পরিচিত বোনসামের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের নজরে আসতেই শুরু হয় ভিন্ন এক প্রতিক্রিয়া।

বোনসামের এই বক্তব্যকে ‘অপয়া’ বা অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে ধরে নিয়ে হাজার হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক একযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখতে শুরু করেন ‘আনুলো মুফা’।

আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের ফুটবল সংস্কৃতিতে‘মুফা’ শব্দটি দুর্ভাগ্য, কুফা বা অপয়ার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর ‘আনুলো মুফা’ বলতে বোঝায়, ‘এই অশুভ বা অপয়া ভবিষ্যদ্বাণীকে আমি বাতিল করছি।’ সমর্থকদের বিশ্বাস, এমন নেতিবাচক মন্তব্যের প্রভাব কাটাতেই এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের অভিযানে ‘আনুলো মুফা’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছিল। প্রতিপক্ষকে নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য কিংবা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোনো নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণী প্রকাশ পেলেই সমর্থকেরা এই বাক্যটি লিখে প্রতীকীভাবে সেটিকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা করতেন।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচের আগে সেই পুরোনো রীতিতেই ফিরেছেন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। তাদের বিশ্বাস, মাঠের লড়াই জিততে যেমন প্রয়োজন ভালো ফুটবল, তেমনি কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতীকী এই ‘সুরক্ষা কবচ’ও দলকে সৌভাগ্য এনে দিতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow