কোনো মুসলিমই পর্দার বিরোধিতা করে না, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না 

বোরকা ইস্যুতে সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্দাশীল নারীদের অবমাননা ও ভোটকেন্দ্রে প্রভাব সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আরিফ জানান, বোরকা খুলে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার কথা তিনি বলেননি। বিষয়টি ‘রং ম্যাসেজ’ ছড়ানো হচ্ছে দাবি করে আরিফ বলেন, ‘আমার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আমিও একজন মুসলিম। কোনো মুসলিমই পর্দার বিরোধিতা করে না। আপনারা উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্যে বিভ্রান্ত হবেন না।’ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ দলীয় প্রতিনিধিরা। জেলা প্রশাসক আশ্বস্ত করেছেন, বোরকা পরে ভোট দিতে কোনো বাধা নেই, তবে সন্দেহজনক ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তাদের সামনে কেবল নেকাব খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। জামায়াতের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সিলেট-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নির্বা

কোনো মুসলিমই পর্দার বিরোধিতা করে না, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না 

বোরকা ইস্যুতে সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্দাশীল নারীদের অবমাননা ও ভোটকেন্দ্রে প্রভাব সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আরিফ জানান, বোরকা খুলে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার কথা তিনি বলেননি।

বিষয়টি ‘রং ম্যাসেজ’ ছড়ানো হচ্ছে দাবি করে আরিফ বলেন, ‘আমার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। আমিও একজন মুসলিম। কোনো মুসলিমই পর্দার বিরোধিতা করে না। আপনারা উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্যে বিভ্রান্ত হবেন না।’

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ দলীয় প্রতিনিধিরা।

জেলা প্রশাসক আশ্বস্ত করেছেন, বোরকা পরে ভোট দিতে কোনো বাধা নেই, তবে সন্দেহজনক ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তাদের সামনে কেবল নেকাব খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।

জামায়াতের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সিলেট-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচনী প্রচারণায় বোরকা পরা নারীদের নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বোরকা পরে কোনো নারী ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন না, গেলেও বোরকা খুলতে হবে।

জামায়াত নেতাদের দাবি, এ বক্তব্য ইসলাম ধর্ম ও পর্দাশীল নারীদের প্রতি অবমাননাকর এবং ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির শামিল।

অন্যদিকে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরিফুল হক চৌধুরী জামায়াতের তোলা অভিযোগগুলো নাকচ করেন।

তিনি দাবি করেন, ‘আমি কখনো বলিনি যে আমার আসনের মহিলা ভোটারদের বোরকা খুলে ভোটকেন্দ্রে আসতে হবে। বরং বলেছি, যখন তারা ভোট দিতে ভেতরে প্রবেশ করবেন, তখন পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য নারী প্রিসাইডিং অফিসারের সামনে মুখমণ্ডলটা খোলা উচিত। যেন তাদের মুখটা চেনা যায়, কারণ আইডির সঙ্গে ভোটারের মিল থাকতে হবে।’

আরিফুল হক বলেন, ‘একটি বিশেষ মহল আমার বক্তব্যকে বিকৃত ও ভুলভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এমনকি স্থানীয় একজন পরিচিত আলেমের কণ্ঠ ব্যবহার করে আমার নামে একটি বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে ওই আলেম ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, সেটি তার বক্তব্য নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আমাকে নিয়ে ছড়ানো এসব অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি।’

উল্লেখ্য, এর আগে  মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বোরকা পরে কেন্দ্রে আসুন। কিন্তু ভেতরে যেন বোরকা খুলে ভোট প্রদান করেন।’ তার ভাষ্য ছিল, জাল ভোট ঠেকাতে পরিচয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে, সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের ভুয়া পোশাক তৈরির তথ্য পাওয়া গেছে এবং কিছু কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকায় অধিক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow