কোরবানি ঘিরে জমে উঠেছে খাটিয়া- ঘাসের মৌসুমি ব্যবসা
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরু-ছাগল কেনাবেচার পাশাপাশি হাটের চারপাশে জমে উঠেছে নানা ধরনের মৌসুমি ব্যবসা। বিশেষ করে মাংস কাটার খাটিয়া, খড়ের আঁটি, উন্নত জাতের ঘাস, পর্দা, ভূষি ও লবণের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বেচাকেনা কিছুটা কম হলেও বিক্রেতারা বলছেন, বিকেল ও রাতে ক্রেতা বাড়বে। প্রতি বছরের মতো এবারও পশুর হাটকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী এসব ব্যবসা অনেক মানুষের আয়ের বড় সুযোগ তৈরি করেছে। সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে খাটিয়ার দোকান। শম্ভুগঞ্জ বাজার থেকে আসা আব্দুর রশিদ তেঁতুল ও বেল কাঠের খাটিয়া এনেছেন। প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি কোরবানিতে এ ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, শহরে খাটিয়ার চাহিদা অনেক বেশি। বড় গরুর জন্য অনেকে দুটা পর্যন্ত খাটিয়া কিনেন। তেঁতুল আর বেল কাঠের খাটিয়া অনেক মজবুত হয়। এবার প্রায় ৩০০ পিস খাটিয়া এনেছি। আরেক বিক্রেতা রেজাউল জানান, ৫০টি খাটিয়া এনেছি। গত চার বছর ধরে এ ব্যবসা করছি। ছোট খাটিয়া ৩০০ এবং বড় খাটিয়া আকারভেদে ৫০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর পাশেই চোখে পড়ে খড়ের আঁটি ও ঘাসের দোকান। সদর উপজেলার আজমপুর গ্রাম থেকে আসা আজিজুল হক বিক্রি করছেন কাঁচা খড়ের
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরু-ছাগল কেনাবেচার পাশাপাশি হাটের চারপাশে জমে উঠেছে নানা ধরনের মৌসুমি ব্যবসা। বিশেষ করে মাংস কাটার খাটিয়া, খড়ের আঁটি, উন্নত জাতের ঘাস, পর্দা, ভূষি ও লবণের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বেচাকেনা কিছুটা কম হলেও বিক্রেতারা বলছেন, বিকেল ও রাতে ক্রেতা বাড়বে। প্রতি বছরের মতো এবারও পশুর হাটকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী এসব ব্যবসা অনেক মানুষের আয়ের বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে খাটিয়ার দোকান। শম্ভুগঞ্জ বাজার থেকে আসা আব্দুর রশিদ তেঁতুল ও বেল কাঠের খাটিয়া এনেছেন। প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি কোরবানিতে এ ব্যবসা করছেন।
তিনি বলেন, শহরে খাটিয়ার চাহিদা অনেক বেশি। বড় গরুর জন্য অনেকে দুটা পর্যন্ত খাটিয়া কিনেন। তেঁতুল আর বেল কাঠের খাটিয়া অনেক মজবুত হয়। এবার প্রায় ৩০০ পিস খাটিয়া এনেছি।
আরেক বিক্রেতা রেজাউল জানান, ৫০টি খাটিয়া এনেছি। গত চার বছর ধরে এ ব্যবসা করছি। ছোট খাটিয়া ৩০০ এবং বড় খাটিয়া আকারভেদে ৫০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এর পাশেই চোখে পড়ে খড়ের আঁটি ও ঘাসের দোকান। সদর উপজেলার আজমপুর গ্রাম থেকে আসা আজিজুল হক বিক্রি করছেন কাঁচা খড়ের আঁটি। বড় আঁটি ১০০ এবং ছোট আঁটি ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, গরু কেনার পর অনেকেই সঙ্গে করে খড়ের আঁটি কিনেন। বৃষ্টি থাকায় সকালটা একটু খারাপ গেছে, তবে পরে ভালো বিক্রি হবে।
তারাকান্দার গোপালপুর থেকে আসা আশরাফ আলীও কাঁচা ঘাস ও খড়ের আঁটি এনেছেন। তিনি বলেন, ঈদে শহরে ঘাসের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। গ্রামের মানুষ নিজেরাই জোগাড় করতে পারে, কিন্তু শহরের মানুষ কিনেই নেয়।
ত্রিশালের শোনাখালী এলাকার আমিনুল ইসলাম জানান, দেড় মাস আগে সাড়ে চার কাঠা জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন শুধু ঈদে বিক্রির জন্য। গত আট বছর ধরে এই মৌসুমি ব্যবসায় জড়িত।
তিনি বলেন, কোরবানি এলেই খড়ের আঁটির চাহিদা বাড়ে। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিই।
হাটে বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের পর্দার দোকানও নজর কাড়ছে। শ্যামগঞ্জ থেকে আসা মো. পুল মিয়া প্রতিটি পর্দা ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
তিনি বলেন, ঈদে ঘর সাজাতে মানুষ নতুন পর্দা কেনে। পশুর হাটে মানুষ বেশি আসে, তাই এখানেই দোকান বসিয়েছি।
ফুলবাড়িয়ার গোপালনগর থেকে আসা দুলাল মিয়া বিক্রি করছেন শুকনা ভূষি ও লবণ। প্রতি কেজি ভূষি ৬০ এবং লবণ ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, গরু কেনার পর অনেকেই খাবারও কিনেন। তাই ভালো বিক্রির আশা থাকে।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির হাট শুধু পশু কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি কয়েক দিনের জন্য অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকারও বড় ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।
হোসাইন সুলভ/এএইচ/জেআইএম
What's Your Reaction?