ক্যানসার হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ পারভেজের মরদেহ মিললো ঢাকা মেডিকেলে

রাজধানীর মহাখালী জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে নিখোঁজ হওয়া রোগী মো. পারভেজ (৪৭) মারা গেছেন। বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এ ঘটনায় সমবেদনা জানান। পারভেজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার মামা শহীদুল্লাহ আহমদ। পারভেজ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে ও পেশায় কৃষক ছিলেন। তিনি চরকাদিরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। শহিদুল্লাহ আহম্মদ বলেন, ‘পারভেজকে ১১ জুন ক্যানসার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২০ জুন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। তাকে নিচে রেখে ফাইল নিয়ে আমি ওপর তলায় যাই। এরপর এসে তাকে আর পাইনি। গলায় ক্যানসারের কারণে সে কথা বলতে পারতো না। ৫ দিন সেখানে অপেক্ষা করেও তাকে খুঁজে পাইনি। পরে তার সন্ধানে ২১ জুন বনানী থানায় জিডি করেছি। বুধবার তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে পাওয়া যায়।’ হুইপের পেইজে দেওয়া স্ট্যাটাস সূত্র জানায়, পারভেজের সংসারে স্ত্রী, ৩ মেয়ে ও ৩ মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পারভেজের রোগ ও অর্থাভাবের কথা জানতে পেরে লক্ষ্মীপ

ক্যানসার হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ পারভেজের মরদেহ মিললো ঢাকা মেডিকেলে

রাজধানীর মহাখালী জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে নিখোঁজ হওয়া রোগী মো. পারভেজ (৪৭) মারা গেছেন। বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এ ঘটনায় সমবেদনা জানান। পারভেজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার মামা শহীদুল্লাহ আহমদ।

পারভেজ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে ও পেশায় কৃষক ছিলেন। তিনি চরকাদিরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন।

শহিদুল্লাহ আহম্মদ বলেন, ‘পারভেজকে ১১ জুন ক্যানসার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২০ জুন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। তাকে নিচে রেখে ফাইল নিয়ে আমি ওপর তলায় যাই। এরপর এসে তাকে আর পাইনি। গলায় ক্যানসারের কারণে সে কথা বলতে পারতো না। ৫ দিন সেখানে অপেক্ষা করেও তাকে খুঁজে পাইনি। পরে তার সন্ধানে ২১ জুন বনানী থানায় জিডি করেছি। বুধবার তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে পাওয়া যায়।’

হুইপের পেইজে দেওয়া স্ট্যাটাস সূত্র জানায়, পারভেজের সংসারে স্ত্রী, ৩ মেয়ে ও ৩ মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পারভেজের রোগ ও অর্থাভাবের কথা জানতে পেরে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান তার চিকিৎসার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন। চিকিৎসা কার্যক্রম মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে হুইপের অধীনস্থ একজন সহকর্মীকেও ট্যাগ করে রাখা হয়। চিকিৎসাও চলছিল।

স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করা হয়, যেদিন পারভেজকে কেমোথেরাপি দেওয়া হবে, সেদিন কোনো এক অজানা কারণে (কেমোথেরাপির কষ্টের ভয়ে বা অন্য কোনো কারণে) কাউকে কিছু না জানিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আর হাসপাতাল বা আশেপাশে পাওয়া যায়নি। অবশেষে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সিতে পাওয়া গেছে। মরণব্যাধি ক্যানসার তার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

পারভেজের প্রতিবেশী লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের আইনজীবী রিদোয়ান হোসেন ফয়সাল বলেন, রাজধানীর আফতাবনগর গেটের সামনে পারভেজকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে লোকজন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। গলায় ক্যানসার হওয়ার কারণে তিনি খেতে পারতেন না এবং কথা বলতেও পারতেন না। তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে। রাতেই তার মরদেহ দাফন করা হবে।

কাজল কায়েস/এফএ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow