ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিকে খাত হিসেবে বাজেটে স্বীকৃতি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার প্রথমবারের মতো ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি’কে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় চলচ্চিত্র, ডিজিটাল কনটেন্ট, গেমিং, ডিজাইন, ফ্রিল্যান্সিংসহ সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতির কেন্দ্রে আনার কথা বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত অর্থবছরের বাজেটে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘আমাদের সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছি। আমাদের লক্ষ্য দেশের ক্রিয়েটিভ শিল্পের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসা এবং বাংলাদেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা। এ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিও খাতের সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণে কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে হাতে নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিভিত্তিক পণ্য চিহ্নিতকরণ ও ডিজাইন উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে।

ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিকে খাত হিসেবে বাজেটে স্বীকৃতি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার প্রথমবারের মতো ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি’কে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় চলচ্চিত্র, ডিজিটাল কনটেন্ট, গেমিং, ডিজাইন, ফ্রিল্যান্সিংসহ সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতির কেন্দ্রে আনার কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত অর্থবছরের বাজেটে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘আমাদের সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছি। আমাদের লক্ষ্য দেশের ক্রিয়েটিভ শিল্পের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসা এবং বাংলাদেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা। এ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিও খাতের সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণে কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে হাতে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিভিত্তিক পণ্য চিহ্নিতকরণ ও ডিজাইন উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। দেশজুড়ে আঞ্চলিক সৃজনশীল হাব গড়ে তুলতে ১০ বছরের বিনিয়োগ ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। ঢাকার পূর্বাচলে ১৬০ একর জায়গার ওপর পিপিপি মডেলে বিশ্বমানের একটি সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ হাব স্থাপনের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতক পর্যায়ের কলেজে ইনোভেশন হাব চালুর বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের ‘১টি গ্রাম-১টি পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিভিত্তিক পণ্য, যেমন—তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প, বুননশিল্প, শীতলপাটি, শতরঞ্জি, কাঠের খেলনা, হাতে তৈরি গয়না, টেরাকোটাসহ আরও অনেক পণ্য চিহ্নিত করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই সব অগ্রাধিকারের পাশাপাশি মূলধারার অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি, ক্রীড়া অর্থনীতি, সবুজ অর্থনীতি ও সুনীল অর্থনীতি এর মত খাতগুলোকে আমরা জাতীয় অর্থনীতির একেবারে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে এবং বাজেটের অগ্রাধিকার নির্ধারণে ও বাস্তবায়নে আমরা নীতিগতভাবে প্রধান বিবেচনায় রাখছি- ভ্যালু ফর মানি অর্থাৎ সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট অর্থাৎ জনগণের সম্পদ যেসকল প্রকল্পে বিনিয়োজিত হচ্ছে তার কার্যকর অর্থনৈতিক সুফল মূল্যায়ন, কর্মসংস্থান সৃস্টি অর্থাৎ সরকারের বিনিয়োগের সুনির্দিষ্টভাবে কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা ও পরিবেশগত বিবেচনা অর্থাৎ প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ সুরক্ষার দিকে সজাগ দৃষ্টি।’

ক্রিয়েটিভ পণ্যের উন্নয়ন ও নকশার মানোন্নয়নের জন্য দেশীয় ডিজাইনারদের সমন্বয়ে একটি ‘ন্যাশনাল পুল অব ডিজাইন’ গঠন করা হচ্ছে। বিসিকের আওতাধীন নকশাকেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশিষ্ট ফ্যাশন ডিজাইনারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া অঞ্চলভিত্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ স্থাপনা পুনরুদ্ধার করে আন্তর্জাতিক উৎসব আয়োজনের লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ২ থেকে ৩টি থিমের ওপর ভিত্তি করে দুটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

ইএইচটি/এসএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow