ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী চান ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল, সমীকরণ কী বলে?

  যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাঠে গড়াল ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ। আর বৈশ্বিক এই আসর শুরুর পরপরই ফুটবল উন্মাদনায় গা ভাসিয়েছে পুরো বাংলাদেশ। মাঠের লড়াইয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা না থাকলেও, বরাবরের মতোই এ দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমী বিভক্ত হয়ে পড়েছেন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায়। খোদ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের ঘরেও চলছে এই চিরন্তন দ্বৈরথ! নিজে ব্রাজিলের অন্ধভক্ত হলেও প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী ও কন্যা কট্টর আর্জেন্টিনা সমর্থক। তবে পারিবারিক এই খুনসুটি ছাপিয়ে সাবেক এই তারকা গোলরক্ষক ও বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী খুব করে চাইছেন, এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হোক ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। শুক্রবার কক্সবাজারে অনূর্ধ্ব-১৫ বিচ ফুটবলের ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে খেলতে না পারলেও ফুটবল নিয়ে আমাদের যে উন্মাদনা, সেটি পৃথিবীর অনেক দেশেই নেই। আমি একজন ব্রাজিল-সমর্থক হিসেবে আশা করব, ব্রাজিল ফাইনাল খেলবে এবং চ্যাম্পিয়ন হবে। তবে লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি ফাইনালে মুখোমুখি হলে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে শেষ দিন পর্যন্ত বিশ্বকাপে

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী চান ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল, সমীকরণ কী বলে?

 

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাঠে গড়াল ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ। আর বৈশ্বিক এই আসর শুরুর পরপরই ফুটবল উন্মাদনায় গা ভাসিয়েছে পুরো বাংলাদেশ। মাঠের লড়াইয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা না থাকলেও, বরাবরের মতোই এ দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমী বিভক্ত হয়ে পড়েছেন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায়।

খোদ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের ঘরেও চলছে এই চিরন্তন দ্বৈরথ! নিজে ব্রাজিলের অন্ধভক্ত হলেও প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী ও কন্যা কট্টর আর্জেন্টিনা সমর্থক। তবে পারিবারিক এই খুনসুটি ছাপিয়ে সাবেক এই তারকা গোলরক্ষক ও বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী খুব করে চাইছেন, এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হোক ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। শুক্রবার কক্সবাজারে অনূর্ধ্ব-১৫ বিচ ফুটবলের ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে খেলতে না পারলেও ফুটবল নিয়ে আমাদের যে উন্মাদনা, সেটি পৃথিবীর অনেক দেশেই নেই। আমি একজন ব্রাজিল-সমর্থক হিসেবে আশা করব, ব্রাজিল ফাইনাল খেলবে এবং চ্যাম্পিয়ন হবে। তবে লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি ফাইনালে মুখোমুখি হলে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে শেষ দিন পর্যন্ত বিশ্বকাপের আসল আমেজ ও উত্তেজনা টিকে থাকবে।’

দেশের ক্রীড়ার অভিভাবক হিসেবে তিনি সিংহভাগ ফুটবলপ্রেমীর প্রত্যাশার কথাই বলেছেন। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর এই ‘মহা-ইচ্ছা’ বা সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের এই চিরকালীন স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? ফুটবলীয় সমীকরণ ও বাস্তবতা আসলে কী আভাস দিচ্ছে?

বিশ্বকাপের ড্র ও মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া তাত্ত্বিকভাবে অবশ্যই সম্ভব। তবে তা পুরোপুরি নির্ভর করছে গ্রুপ পর্বে তাদের অবস্থান এবং পরবর্তী নকআউট পর্বের যাত্রার ওপর। দুই দলই যদি নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন অথবা রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে পা রাখে এবং নিজেদের সব ম্যাচ জিতে এগিয়ে যায়, তবে টুর্নামেন্টের ছক অনুযায়ী ফাইনালের আগে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

সমীকরণের একটু উনিশ-বিশ হলে, অর্থাৎ এক দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং অন্য দল রানার্সআপ হলে মহাকাব্যিক এই লড়াই ফাইনালের আগেই, বিশেষ করে সেমিফাইনালে বা কোয়ার্টার ফাইনালে ঘটে যেতে পারে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর আকাঙ্ক্ষা মিলেমিশে একাকার হলেও, ফুটবল বিধাতা শেষ পর্যন্ত কী লিখে রেখেছেন তা সময়ই বলবে। ইউরোপের গতিশীল ফুটবলের আধিপত্য ভেঙে লাতিন আমেরিকার দুই চিরশত্রু আসলেই মেক্সিকো বা যুক্তরাষ্ট্রের ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারবে কি না, তা দেখতে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ রাখতে হবে মাঠের লড়াইয়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।

আরআই/এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow