ক্রেতা নেই ফুটপাতে, মুখ ভার বিক্রেতাদের

আর মাত্র দুই দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন অনেক মানুষ। অফিস-আদালত ও কারখানায় ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় বাড়ির পথে ছুটছেন নগরবাসী। প্রতি ঈদের আগে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কেনাকাটার বড় ভরসা রাজধানীর ফুটপাতগুলো এবার অনেকটাই ক্রেতাশূন্য। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০, ১৩ ও ২ নম্বর এলাকার সড়কঘেঁষা ফুটপাত ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, খারাপ আবহাওয়া, মাসের শেষে ঈদ, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য এবং দীর্ঘ ছুটিতে মানুষের ঢাকা ছাড়াকে বিক্রি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। মিরপুর-১০ নম্বর ফায়ার সার্ভিস গেটের সামনে গেঞ্জি বিক্রি করছিলেন সুজাত উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে একদামেই পণ্য বিক্রি করি। সাধারণত হাঁকডাকে পুরো এলাকা সরব থাকে। কিন্তু এবার ক্রেতা কম। আজ সারাদিন বৃষ্টি হচ্ছে, আবার গতকাল প্রচণ্ড গরম ছিল। ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় টি-শার্ট ও গোলগলা গেঞ্জি বিক্রি করি। সকাল থেকে মাত্র চার-পাঁচ পিস বিক্রি হয়েছে।’ গেঞ্জির দোকানেও ক্রেতা নেই-ছবি জাগো নিউজ সোমবার সকাল থেকেই কখনো মুষলধারে, কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে রাজধানীতে। এর প্রভাব পড়েছে ফুটপাত

ক্রেতা নেই ফুটপাতে, মুখ ভার বিক্রেতাদের

আর মাত্র দুই দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন অনেক মানুষ। অফিস-আদালত ও কারখানায় ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় বাড়ির পথে ছুটছেন নগরবাসী। প্রতি ঈদের আগে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কেনাকাটার বড় ভরসা রাজধানীর ফুটপাতগুলো এবার অনেকটাই ক্রেতাশূন্য।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০, ১৩ ও ২ নম্বর এলাকার সড়কঘেঁষা ফুটপাত ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, খারাপ আবহাওয়া, মাসের শেষে ঈদ, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য এবং দীর্ঘ ছুটিতে মানুষের ঢাকা ছাড়াকে বিক্রি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।

মিরপুর-১০ নম্বর ফায়ার সার্ভিস গেটের সামনে গেঞ্জি বিক্রি করছিলেন সুজাত উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে একদামেই পণ্য বিক্রি করি। সাধারণত হাঁকডাকে পুরো এলাকা সরব থাকে। কিন্তু এবার ক্রেতা কম। আজ সারাদিন বৃষ্টি হচ্ছে, আবার গতকাল প্রচণ্ড গরম ছিল। ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় টি-শার্ট ও গোলগলা গেঞ্জি বিক্রি করি। সকাল থেকে মাত্র চার-পাঁচ পিস বিক্রি হয়েছে।’

jagonews24গেঞ্জির দোকানেও ক্রেতা নেই-ছবি জাগো নিউজ

সোমবার সকাল থেকেই কখনো মুষলধারে, কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে রাজধানীতে। এর প্রভাব পড়েছে ফুটপাতের ব্যবসায়ও।

একই এলাকায় ফ্লিপ-ফ্লপ (রবার বা প্লাস্টিকের চটি) জুতা বিক্রি করছিলেন আমিনুল ইসলাম। তার দোকানেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল কম। তিনি বলেন, ‘মানুষের হাতে টাকা নেই। বাজারে সব জিনিসের দাম বেশি। তাই জামা-জুতা কম কিনছে। সারাদিনই বিক্রি কম। জুতার দাম কমিয়ে বিক্রি করছি। ২৫০ টাকার জুতা ২০০ টাকায় দিচ্ছি। তাও বিক্রি নাই।’

ফায়ার সার্ভিসের বিপরীত পাশের সড়ক ধরে মিরপুর-২ নম্বরের দিকে যেতে দেখা যায়, সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে শার্ট-প্যান্ট নিয়ে বসেছেন শতাধিক হকার। তবে বেশির ভাগ দোকানেই ভিড় নেই।

বিক্রেতা ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘ছেলেদের ফুলহাতা শার্ট ৫০০ টাকা। রোজার ঈদেও এই দামে বিক্রি করেছি। কিন্তু এবার ৪০০ টাকাতেও শার্ট বিক্রি করতে পারছি না।’

ক্রেতা না থাকায় কয়েকটি দোকানে বিক্রেতাদেরও বসে থাকতে দেখা যায়নি। কেউ কেউ পাশের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন।

আরেক বিক্রেতা বলেন, ‘ঈদটা মাসের শেষে পড়েছে। অনেকের হাতে টাকা নেই, অনেকের বেতনও হয়নি। আবার লম্বা ছুটিতে অনেকেই গ্রামে চলে গেছে। তাই এবার আর তেমন বেচাকেনা হবে না বলেই মনে হচ্ছে।’

তবে অল্প কিছু ক্রেতাকে টুকটাক কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। তাদের অনেকে বলছেন, এবারের কেনাকাটা প্রয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

মাদরাসা ছাত্র সিরাজুল ইসলাম এসেছিলেন একটি কাঁধের ব্যাগ কিনতে। তার বাড়ি শরীয়তপুরে। তিনি বলেন, ‘দুইটা গেঞ্জি আর একটা ব্যাগ কিনেছি। পুরোনো ব্যাগ ছিঁড়ে গেছে, তাই নতুন একটা নিতে এলাম।’

এসএম/এসএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow