খানাখন্দে ভরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

‎দেশের ইকোনমিক লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ এখন যেন দুর্ভোগের প্রতীক। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। এতে চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ পড়েছে দূরপাল্লার যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। ‎মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে উভয় লেনে অজস্র ছোট-বড় গর্ত। কিন্তু বাড়বকুণ্ড এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে বড় বড় গর্ত দেখা গেছে। ওই স্থানের শুধু ২০০ গজের মধ্যে ঢাকামুখী লেনে প্রায় অর্ধশত গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনায় এড়াতে সড়কের মধ্যে সৃষ্ট একটি গর্তের মধ্যে স্থানীয়রা লাল নিশান উড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলার বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের ওজন স্কেল এলাকায় মহাসড়কের পিচ ঢালাই অনেকটা উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। গর্তগুলোকে ইট-বালু দিয়ে মেরামত করে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় ইটগুলো ভেঙে খোয়ায় পরিণত হয়েছে। ওই ইটের খোয়াগুলো গাড়ি চলার সময় টায়ারের নিচে পড়লে সেগুলো তীব্র গতিতে মানুষের শরীরে, গাড়িতে ও বিভিন্ন জায়গায় উড়ে গিয়ে

খানাখন্দে ভরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

‎দেশের ইকোনমিক লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ এখন যেন দুর্ভোগের প্রতীক। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। এতে চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ পড়েছে দূরপাল্লার যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।

‎মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে উভয় লেনে অজস্র ছোট-বড় গর্ত। কিন্তু বাড়বকুণ্ড এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে বড় বড় গর্ত দেখা গেছে। ওই স্থানের শুধু ২০০ গজের মধ্যে ঢাকামুখী লেনে প্রায় অর্ধশত গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনায় এড়াতে সড়কের মধ্যে সৃষ্ট একটি গর্তের মধ্যে স্থানীয়রা লাল নিশান উড়িয়ে দিয়েছে।

এ ছাড়াও উপজেলার বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের ওজন স্কেল এলাকায় মহাসড়কের পিচ ঢালাই অনেকটা উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। গর্তগুলোকে ইট-বালু দিয়ে মেরামত করে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় ইটগুলো ভেঙে খোয়ায় পরিণত হয়েছে। ওই ইটের খোয়াগুলো গাড়ি চলার সময় টায়ারের নিচে পড়লে সেগুলো তীব্র গতিতে মানুষের শরীরে, গাড়িতে ও বিভিন্ন জায়গায় উড়ে গিয়ে পড়ছে। এতে অনেকজন আহত ও গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

‎গাড়ি চালকরা জানান, গর্তে পড়ে গাড়ির স্প্রিং ভেঙে যায়, স্টেয়ারিংয়ের সঙ্গে যে জয়েন্ট থাকে সেটি ভেঙে যায়। রাস্তা খারাপ হওয়ায় গাড়ি অনেক সময় খাদে পড়ে যায়। ফলে দ্রুতগতির যানবাহনের চালকদের জন্য সড়কটি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুতগতির যানবাহনের চালকরা কিছুটা ধীরগতিতে যান চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই অনেক জায়গায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

‎স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, রাস্তার সংস্কার ও নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্মাণের সরঞ্জাম ব্যবহার করার কারণে অল্প বৃষ্টিতেই সড়কের পিচ ঢালাই উঠে যাচ্ছে। এই স্থানে গত কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি গাড়ি দুর্ঘটনায় কবলিত হয়েছে। দ্রুত যদি সড়ক সংস্কার না করে তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে এই গর্তগুলোতে পড়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে।

‎স্থানীয় আরেক যুবক বলেন, প্রতি বর্ষা এলেই এই স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার গাড়ি ও যাত্রীরা যেন বিপদ থেকে রক্ষা পায় তাই বিপদসংকেত হিসেবে এখানে একটি লাল পতাকা খুঁটির মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়।

‎কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আফসার বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে সড়কে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে বিভিন্ন জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে গাড়ি চলছে অনেকটা ধীরগতিতে। সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানালেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। তারা চাইলে দ্রুত সড়কের মেরামত কাজ করতে পারত।

‎সীতাকুণ্ড সড়ক ও জনপথ উপবিভাগীয় কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে সড়কে বহু জায়গায় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মেরামতের কাজ করছি। কিন্তু এক পর্যায়ে মহাসড়কের সর্বশেষ সংস্কার ও নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কার্যালয়ে যেতে বলেন প্রতিবেদককে এবং কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন। কিন্তু কার্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে প্রধান প্রকৌশলী ও উপসহকারীর প্রকৌশলীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow